প্রবাসী ছন্দে বিপুল বিহারী হালদার (রোম, ইতালি)

ভক্তি না অভিনয়

সত্যি বলতে কি আমার ছোট বেলা থেকেই
কৃষ্ণনাম ,লীলা কীর্তন,হরিসভা,ধর্ম কথা ধর্ম
আলোচনায় ভাবে প্রেমে মোহিত হতাম এখন ও
হয়ত হই , কিন্তু মন থেকে যেন সেদিনের
আমার সাথে ঘটে যাওয়ার সেই ঘটনাই ভুলতে
পারছিনা।
আমার বিশ্বাস যেন অবিশ্বাসে পরিণত হলো
নাটকীয় ভক্তি দেখে সেদিনের বত্রিশ প্রহর
নাম কীর্তনের সেই প্রভাতীর শেষ প্রহরে।
বলছি-বলছি সে বাস্তব অভিজ্ঞতার
কথা—!আমি বহুদিন পূর্বে ডাক্তারী পেশা
নিয়ে ডাক্তারী করার জন্য (আর,এম,পি)
মহারাষ্ট্রের গড়চিরুলি জেলার চামোর্সি থানার
অন্তর্গত একটি ইস্কন. ISKCON Mandir
এ ঠাঁই নিয়েছিলাম প্রথমে।সে বিশাল জমির
উপর প্রায় ৩০০ বিঘে তো হবেই,তবে জবরাণ
জবরাণ মানে পাথরের উঁচু নিচু টিলা টিলা
জমি শুস্ক কোনো জলের ব্যবস্থা নাই বললেই
চলে।ড্যাম্প থেকে জল ছাড়লেই কিছু জমি
হয়ত চাষাবাদ করতে পারে বাকিটা নয়
চাষের উপযোগী জমিই নয়।খোলা মেলা
রাধাশ্যামসুন্দর মন্দিরের সামনে আছে বিশাল
জমি।আমি ওখানে সময় অতিবাহিত করতে
করতে কখন যে ISKCON নের ভক্ত হয়ে
গেলাম বুঝতেও পারিনি হয়তো ওখানকার
পরিবেশ ই আমাকে পাল্টে দিয়েছিলো।এমনি
তেই আমি একটু ভক্তিভাব মানুষ ই ছিলাম।
রাধা শ্যামসুন্দর বিগ্রহ এক অলৌকিক
ওখানকার মহারাজ শ্রদ্ধেয় আমার শ্রী শ্রী
পরমেশ্বর মহারাজ পূর্ব বঙ্গের ভান্ডারিয়ার
আতোরখালীর চিত্ত গোঁসাই,আতোর খালীতে
বসে স্বপ্নাদেষে ওই রাধাকৃষ্ণ যুগল বিগ্রহ
এক বিশাল বনাঞ্চলের গভীরে পেয়েছিলেন।
জাগ্রত সে বিগ্রহ নাম করা হলো রাধাশ্যাম
সুন্দর।সে বহু ইতিহাস ওই আতোরখালীতেই
বিগ্রহের পূজার্চনা হতো,রাস উৎসব হতো
হাজার হাজার মানুষ ওই বিগ্রহ দেখতে
আসতো।যে যা মানত করতো সব আশা
পূর্ণ হতো সকলের।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের সময়
ওই চিত্ত গোঁসাই বিগ্রহ নিয়ে ভারতবর্ষের
মহারাষ্ট্রের গড়চিরুলি জেলার চামোর্সি
তহসিলের অনাবাদী জবরাণ জমির জঙ্গলে
ছোট্ট একটা কুঁড়ের ঘর করে স্থাপন করে
রীতিমতো পূজার্চনা করতে থাকেন।পরে
তহশিলদার তাহা তুলে দিতে ব্যাক্ত করলে
ওই রাতেই জাগ্রত বিগ্রহ তহশিলদার কে
স্বপ্নে রূপদর্শন করালো এবং বললো শোন?
আমাকে এখানে থাকার সমস্ত ব্যবস্থা করেদে
আমি এখানেই থাকবো আমার নামে এই
বিশাল জমির লিখে দিবি এখানে নতুন
বৃন্দাবন ধামের মত রাধাশ্যামসুন্দর ধাম হবে।
পর পর দুই তিন দিন ওই একই স্বপ্ন দেখাতে
থাকলো। তহশিলদার পাগলের মতো হয়ে
গেল অস্থির অস্থির ভাব হলো। তহশিলদার
ছিল মারাঠি বিগ্রহ মারাঠি ভাষাতেই বললো।
কুলকিনারা না পেয়ে চিত্ত গোঁসাই কে
প্রধান করে বিগ্রহের নামে ৩০০ বিঘার ও
অধিক জমি লিখে দিলেন।
এবার থেকে ধীরে ধীরে জঙ্গল ধামে
পরিণত হতে থাকলো।ওখানে ৭০/৭২ সনে
ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ থেকে আসা সেই
শরণার্থীদের ১১৬ টি গ্রাম জঙ্গলের মধ্য পূর্ণ
বসতির ব্যবস্থা করেদেন।তাও ধীরে ধীরে
আবাদী জমিতে পরিনত করে সবাই বসবাস
করতে থাকেন।এই জঙ্গলের মন্দির হয়ে
উঠল তীর্থধামের মতো।
এরপর চিত্ত গোঁসাই গ্রামের বাঙালিদের
নিয়ে একটি ট্রাস্টি বোর্ডের গঠন করলেন।
প্রতি বৎসর নিত্যানন্দ ত্রয়োদশী ও জন্মাষ্টমী
দোল যাত্রা বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলতে থাকে।
এর ই মধ্যে চিত্ত গোঁসাই বেড়িয়ে পরল——-
চামোর্সির ধাম ছেড়ে তাঁর কাঙ্খিত লক্ষ্যে
গুরুর খোঁজে। নিরুদ্দেশ হয়ে গেল বহু বছর,
সে মহা ধামে-ধামে এ ধাম ও ধাম বন জঙ্গল
দিশাহারা হয়ে নয়নাশ্রু ঝরিয়ে শুধু সদ্ গুরুর
খোঁজ করেই চলছেন,মনের মতো গুরু আর
পাচ্ছেননা।শেষে সে প্রতিজ্ঞা করলেন যে
সদ্ গুরুর সন্ধান না পেলে আত্মহুতি দেবেন।
এইভাবে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ বৃন্দাবনে
ইসকনের ISKCON মন্দিরে এসে পৌঁছালেন
সেই মন্দিরে তখন বহু ভক্তদের সামনে ব্যস
আসনে বসে প্রবচন দিচ্ছিলেন ইসকনের
প্রতিষ্ঠিত (ফাউন্ডার)গুরু মহারাজন শ্রী শ্রী
ভক্তি বেদান্ত স্বামী অভয়চরণাবিন্দ শ্রীল
প্রভূপাদ,গৌরিয় মঠের শ্রী শ্রী সরস্বতী
ঠাকুরের পরম শিষ্য এবং দীক্ষিত নাম হলো
প্রভুপাদ। ISKCON মানে International
Society for Krishna consciousness
অন্তরাষ্ট্রীয় কৃষ্ণ ভাবামৃত সংঘ।গৌরিয়
মঠের এই মহান ধর্মপ্রাণ মানুষ নতুনকরে
প্রতিষ্ঠা করলেন ISKCON .প্রভুপাদের
সমুদ্র সমান ইতিহাসের সামান্য বর্ণনায়
পরে আসছি।
যাই হোক চিত্ত গোঁসাই প্রভুপাদের
প্রবচন শুনেই বুঝতে পারলেন যে সে
সদ্ গুরুর সন্ধান পেয়েছেন।ভক্তিতেই
ভগবান,ভগবানের ভক্তের সাথে গুরু
শিষ্যের অদ্ভুত মিলন ঘটলো। প্রভুপাদ
যেন এতোদিন পর সঠিক শিষ্য পেয়ে গেল
কিছু দিনের মধ্যেই গুরুর মন জয় করে
ফেলল এবং প্রভুপাদ চিত্ত গোঁসাই কে
দীক্ষা দিল, দীক্ষিত নাম করলেন চিত্ত
থেকে “পরমেশ্বর “তাঁর পর থেকে হলেন
পরমেশ্বর মহারাজ।পরে চামোর্সি মন্দিরের
সমস্ত কিছু ইসকনের নামে দিয়ে দিলেন
তাই হলো চামোর্সি ইসকন মন্দির কৃষ্ণ
নগর ধাম।বর্তমানে ইসকনের তত্ত্বাবধায়নে
চলেছে তবে আজীবন পরমেশ্বর ই
ওখানকার প্রেসিডেন্ট ও মহারাজ থাকবেন।
এবার আসি পরমেশ্বর মহারাজের কিছু
কর্ম কান্ডের ঘটনা নিয়ে -তাকে যদি বলি
মহাপুরুষ তাতে ভুল হবেনা ভগবানকে ভক্তি
আত্মবিশ্বাস ও মানব প্রেমী এক বিশাল
অন্তঃকরণ তাঁর।সে সত্যিই ঈশ্বরের অস্তিত্ব
খুঁজে পেয়েছেন ঈশ্বর ও তাকে সাক্ষাৎ
দর্শন দিয়েছে নিশ্চয়ই,নইলে ওই অপার
ভক্তি কোনমতেই সম্ভব নয়।সে বুঝেছেন
এই পার্থিব জগতের মানববন্ধন অবিনশ্বর
নয় বিনাশ আছে ঈশ্বরের খেলা ভাঙ্গা গড়ার
তিনিই মালিক জন্ম মৃত্যুর পরিক্রমা তাঁর ই
খেলা।আমরা মানবজাতি তা বুঝেও বুঝিনা।
ভুলে যাই সব,তাইতো হানাহানি লাভ লোকসান
কাম,ক্রোধ,লোভ,মোহ,মায়ার সংসারে মেতে
থাকি। এই নিগুঢ় রহস্য তত্ব সে বুঝে গেছেন
তাই তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপন করেন।
অতি সহজ সরল সৎ নির্ভীক মানুষ।
শিশুকাল থেকেই সে ভক্তিমার্গে ছিলো
সবাই না বুঝে পাগল ও বলতো।পরে সবাই
বুঝলেন যে সে আধ্যাত্মিক জগতের লোক
তাঁর বিষয় নিয়ে আমি পড়ে গ্রন্থ লিখবো।
এবার ভক্তি না অভিনয় সেই ঘটনায়
আসি,ওই চামোর্সি মন্দিরের আমি ছিলাম
লাইফ মেম্বারশিপ করার লাইফ মেম্বারশিপ
ডাইরেক্টর।ওই মন্দিরে আমার একটা ভালো
প্রভাব ছিল। তাঁর কারণ হলো আমি যে মেম্বার
করতাম মহারাষ্ট্রের বড় বড় শহরে গিয়ে
ব্যবসায়ী মানুষদের সেই অর্থেই মন্দির
পরিচালনা হতো যার জন্য মহারাজ থেকে
সবাই আমাকে সমীহ করতো।
মন্দিরে সেবারে নিত্যানন্দ ত্রয়োদশীর
বিশাল দশদিন ধরে নাম কীর্তনের পালা
কীর্তন চলতেই থাকতো যে দিন থেকে নাম
কীর্তন শুরু হতো আট বা দশ দিন যাবৎ
অখন্ড নাম কীর্তন চলতেই থাকতো এক
মূহুর্তে র জন্যও বন্ধ হতো না,দশ বারোটা
দল থাকতো এক দল শেষ হবার আগেই
আর এক দল আসরে কীর্তন করতে করতে
ঢুকে পড়তো এই ভাবে দিন রাত দশদিন
পর্যন্ত চলতে থাকতো হাজার হাজার মানুষ
নারী পুরুষ আসরে বসে শ্রবণ করতো।
কীর্তনিয়ারা দুটি মৃদঙ্গ দুটি জুড়ি হারমোনিয়াম
কাঁধে নিয়ে নৃত্য করতে করতে কীর্তন
করে ওই আসর মুখরিত করে তোলে।
আমি একদিন ভালো ধবধবে সাদা
ধুতি পাঞ্জাবী পরে প্রভাতী প্রহরে ওই আসরের
সামনে গিয়ে বসলাম, কীর্তনিয়ারা মহা ভাবে
কীর্তন করতে করতে হাঁউ হাঁউ করে ভাবে
অঝোরে কান্নাকাটি করছিলেন আমিও সে
ভাবে মত্ত হয়ে কান্না করছিলাম। হঠাৎ এক
কীর্তনিয়া ধূলায় গড়াগড়ি দিয়ে এপাশ ওপাশ
হয়ে কান্না করতে করতে ধুলোমাখা অবস্থায়
আমাকে জড়িয়ে ধরে ঝাঁপটে ওই ধূলায়
গড়াগড়ি খেলো আমি ভাবে অঝোরে কাঁদছি
সে ভক্তিতেই ভক্তিমনেই আমার হুঁশ ছিলোনা
সাদা ধুতি পাঞ্জাবীর।আমার ভাবনা ছিল
ভক্তের চরণধূলী আমার অঙ্গে মাখা এমন
ভাবের কীর্তনিয়ার চরণধূলী বা‌রেবারে আমি
আমার গায়ে মাথায় মেলাতে থাকি।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর নতুন দলের প্রবেশ
হলো এবং এই দল আস্তে আস্তে বিদায় নিয়ে
গ্রিনরুমে চলে এলো,আমিও গ্রিন রুমের পাশ
থেকে যাবার সময় শুনতে পেলাম আমার নাম
মানে মন্দিরের ডাক্তার বাবু -আমি একটু
থমকে দাঁড়ালাম ওনারা আমাকে নিয়ে বলছেন
ওনারা নিজেরা নিজেরাই হাসাহাসি করছেন
আর বিড়ি সিগারেটে দম দিয়ে ধুমায় মগ্ন
করে ফেলেছে গ্রিনরুম।সে সব দেখে আমি
অবাক, একটু আগে যাদের দেখলাম আসরে
ভাবে মত্ত হয়ে এতো কান্নাকাটি করলো
তাঁরাই গ্রিন রুমে বলছে দেখছিস কেমন
কাঁদালাম শ্রোতাদের আরো বলতে থাকলো-
বলছেন দেখলি!সকাল সকাল ডাক্তার
বাবু নতুন ধুতি পাঞ্জাবী পরে আসরে এসে
বসার সাথে সাথেই,আমি কীর্তনের ভাব করে
কোলাকুলির ভান করে মাটিতে লুটিয়ে
ফেললাম,ধুতি পাঞ্জাবী নষ্ট করে দিলাম!
এমন ভাবে ধরেছি আর আমাকে ছাড়াতে
পারেনি শালার ডাক্তার বুঝবে কীর্তনিয়া কি?
এই নিয়ে ওনারা এ ওকে বলছে আরে আমিতো
তোকে চোখমেরে ডাক্তার কে ধরে মাটিতে
ফেলতে বলছি ওনারা সবাই যেন ফন্দিকরেই
আমাকে ধূলায় মিশিয়ে মজা নিচ্ছিল।
আমি তা বুঝতে পারিনি সহজ সরল মনে।
তখন আমি বলছি নিজেকেই হা ঈশ্বর!
এই কথাগুলি কেন আমাকে শুনালে তুমি।
মনের ভক্তিতেই তো ভেসে ছিলাম
আমি তো একবার ও ধুতি পাঞ্জাবীর
কথা ভাবিইনি,ওনাদের মনে এই ছলনা
এ কেমন অভিনয় কৃষ্ণনাম মুখে নিয়ে মনে
কপটতা ভরা, বিন্দু ভয় করলনা ঈশ্বরকে!
মুখে নাটকীয় কৃষ্ণনাম গলায় তুলসীরমালা
গায়ে জড়ানো নামাবলী কপালে বুকে
বাহুতে কন্ঠে পেটে পিঠে চন্দন তিলকের
রসকলি ভেক ধরা মহা শয়তান?এরকম
নামাবলী পড়ে কাছিম ধরার বহু ভক্ত তো
অহরহ ঘুরে বেড়াচ্ছে এই হিন্দু সমাজে ই
মাথায় টিক্কি তিলক চন্দনফোঁটা গলেতে
মোটা বহু প্যচে তুলসী র মালা কেউ বা
রুদ্রাক্ষের বাজুতে,গলায় পড়ে সাধুবেশে
ভেক ধরে যুবতী বৈষ্ণবীদের নিয়ে কাম
বাসনায় রসময়ের সাগরে ভেসে থাকে।
আবার দেখছি মুখে হরিবল–হরিবল–
হা কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ রাধে রাধে জয়গুরু জয়গুরু
রাধে বোল , রাধে বোল বলে উচ্চস্বরে অহর্নিশি
বলতেই থাকেন,গলায় ঝোলে জপের মালা
হাতে জপ মালায় গোনে,বলেন ভজ শ্রী কৃষ্ণ
চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রী অধৈত গদাধর
শ্রীবসআদি গৌড় ভক্তবৃন্দ।
অথচ দেখছি বেশির ভাগ ওই বেশধারী
সাধুরাই অর্থের প্রাচুর্যের মধ্যেই দিনাতিপাত
করেন এবং টাকা খাটিয়ে টাকা আয় করেন
সুদখোর বলতে আমার বিবেকে বাধে , অভাবি
গ্রাহকদের সাথে কষাইয়ের চেয়েও নিকৃষ্ট
আচরণ করেন । মাথায় লম্বা জটা গেরুয়া
বসন তিলক চন্দনের রসকলি গলায় বহু
প্যচের তুলসীর মালা,হাতে কারো কমুন্ডুলা
সিঁদুর মাখানো ত্রিশূর নামাবলী পড়ে
নারী শরীর লুটে করে সর্বহারা। হাঁ এসব ই
আমি বাস্তবেই দেখেছি কপট ভেক ধরা
সাধুরূপিদের,সে গয়া কাশী মথুরা বৃন্দাবন
বলেন আর যত তীর্থ ধাম বলেন নবদ্বীপ
ধাম বলেন সব এক,এই সব দেখে শুনে
আমার অগাধ ভক্তিতে যেন গরম লোহায়
ঠান্ডা জল ঢেলে দিলে যা হয় তাই হলো।
ভাবছি সাধুবেশে ভক্তি না করে নাস্তিক
হয়ে সৎ কাজ বা সেবা করা অনেক ভালো
আমার মনেহয়।
তবে হাঁ এ ক্ষেত্রে পরমেশ্বর মহারাজ
ও ইস্কনকে এক সুত্রে মেলালে ভুল হবে।
কারণ আমি ইস্কন ও পরমেশ্বর মহারাজ
দের নাটক বিহীন ভক্তি দেখেছি।কোনো
কপটতা এদের নাই।সত্যি কারের ভক্তির
সঙ্গা বলতে এদের বলাযায়।
ইস্কনে ভক্তির মূল্যায়ন করেই ভক্ত পূজারী
নির্ধারিত হয়।সে জন্মসূত্রে নাপিত,ধোপা,
মুচি,শূদ্র,কায়েস্ত,ব্রাহম্মন যেই হোক না
কেন ভক্তিতে পূর্ণতা লাভ করলেই পূজারী
থেকে ব্রহ্মচারী, গুরু মহারাজ হতে পারেন।
পরম পূজ্য প্রভুপাদ সে ব্যবস্থা করে গিয়াছেন।
তার সাথে এও করেছেন তিনি যত বিদেশি
আছেন ভক্ত বিশ্বময় সকলকেই হিন্দু
বাঙালি র পোষাক আচার আচরণ
যেমন ধুতি পাঞ্জাবী নারী দের শাড়ি শাঁখা
সিঁদুর বিবাহিত রা আর ব্রহ্মচারিরা গেরুয়া
ধুতি পাঞ্জাবী পড়তেই হবে বাধ্যতামূলক।
গীতার শ্লোক নাম কীর্ত্তন আরতি সকল
উচ্চারণ বাংলাভাতেই করতে হবে তা
প্রভুপাদ সৃষ্টি করে গিয়াছেন।
তাতে সে এমেরিকান হোক আর জার্মানি
থেকে যে দেশেরই হোক এই বাংলা ভাষাতেই
উচ্চারণ করেই বলেত গাইতে হবেই অন্য
ভাষায় ট্রানস্লেট করতে পারবেনা। হাঁ হিস্ট্রি
সে যে কোন ভাষাতেই হতে পারবে।
আমার মনেহয় এই মহান পরম পূজ্য
দেবতা প্রভুপাদ কে বাংলাভাষা দিবসে
21 শে ফেব্রুয়ারি জাতীয় ভাবে স্মরণ করে
মর্যাদা দেওয়া উচিৎ।এবং ওনার মহিমা
প্রচার করা উচিৎ সরকারি ভাবে।
আমার এই বাস্তব অভিজ্ঞতার
কোনটা ভক্তি কোনটা অভিনয়
বেছে নিতে হবে আপনাকেই।
পাঠক পাঠিকা দের কাছে
ভুল ত্রুটি মার্জনা চেয়ে-

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।