“এই শ্রাবণে আষাঢ়ে গপ্পো” বিশেষ সংখ্যায় বর্ণজিৎ বর্মন

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

সেদিন 22শে শ্রাবণ আকাশ
ছিল ঘন কালোমেঘে ঢাকা ,
ভাত হওয়ার শব্দের মতো  পরিবেশ , দু একটা পাখি উড়ছে এ গাছ ও গাছে
সেদিন ছিল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে 11টায়
ক্লাস নিচ্ছি , হল ঘর ভর্তি স্টুডেন্টস
যদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের।
আমি কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনেক পরের কথা বলছি
-সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশ গুলো র কি করা উচিৎ ,
কি করা উচিৎ নয়
সে নিয়েই তুমুল গবেষণা
প্রতিষ্ঠান থেকে পাখির বাসা
পূর্ব থেকে পশ্চিম
শুরু হয় বাইপোলারিজ্ম ,
ক্ষমতার অসম বন্টন,
অস্তিত ঠিকে  রাখার জ্ন্য তৈরি হয় আঞ্চলিক জোট
অন্তর্জাতিক সম্পর্কের
দোদুল্যমান গোলাপ চারা হাওয়ায় ভাসছে
এই বিষয়ে আলোচনা গড়িয়ে দুপুর রোদে পিঠ ছুঁয়ে যায়
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক !
বুক ফুলে ফেঁপে ওঠে
উত্তরবঙ্গের  তিস্তার মতো ।
বসন্তের দোকানের
দুটি সিগারেট ,ঠোঁট জোড়াকে উষ্ণ তাপমাত্রা ছুঁয়ে ঘাসের উপরে শুয়ে পরল ।
আহা ! একটু হাল্কা লাগছে ,
ক্লাস থেকে 6পিএম এ বেরিয়ে   গেটের সামনে দাঁড়িয়ে দেখি হাজার হাজার মানুষ
আমার লেকচার শুনে বাড়ি ফিরছে , নামতা লোকাল ট্রেনে
নিমতলা শ্মশান থেকে দলছুট মেঘ আমার সারা শরীর ভিজিয়ে দেয় জাতীয়তা প্রজ্ঞার জ্লে
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক!
উত্তরবঙ্গের তিস্তার মতো বুক ফুলে ওঠে ।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!