T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় বীথিকা ভট্টাচার্য

আমার উমা
শারদ শুভ্র মেঘের ভেলায়, উমার হাসি মুখ।
কাশের দোলে শিউলি তলে, অপার শান্তিসুখ।
এসো মা শারদ প্রাতে, তুমি এসোগো স্বর্ণরথে,
বিদীপ্ত আঁখি মেলে, এসো প্রদীপ্ত চেতনাতে।
এসো আশাদীপ জ্বেলে,এসো চরণচিণ্হ ফেলে।
আগমনী সুরে মনের লহরে, প্রাণের খুশি ঢেলে।
তুমিই উমা তুমি মহামায়া দশ হাতে ধরা অস্ত্রে ,
ঘরের মেয়ে,সাঁঝের প্রদীপ জ্বালায় তুলসী মঞ্চে।
ঘরের উমারা মাঠে চাষ করে, দিন মজুরী খাটে।
ঘরের উমারা স্কুল, কলেজে, ব্যস্ত অফিস হাটে।
পরেনা শাড়ি, বাঁধেনা বেণী, অতি সাধারণ সাজ,
আমার উমার ব্যস্ত জীবন, ঘরে ও বাইরে কাজ।
আমার উমা স্বনির্ভরা, পাতেনা কখনো হাত।
দুই হাত তার দশ হাত সমান, সংসারে প্রাণপাত।
আমার উমা নয় এলোকেশী, চুলেতে মডার্ণ ছাট।
মডার্ণ কিচেনে মডার্ণ উমা, কাজ সারে সর্টকাট।
শিরদাঁড়া খাড়া, নোয়ায় না মাথা, রয় সন্মানে,
বাধা ও বিঘ্নে একাই লড়ে, ত্রিশূলো ধরতে জানে।
কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কেউ পাড়ি দেয় চাঁদে,
কারোবা স্বপ্ন ধূলায় লুটায়, জীবন জটিল ফাঁদে।
কতনা উমা পেটের ক্ষুধায় শরীর বিকিয়ে খায়,
বেকার স্বামী, অসুস্থ ছেলে প্রতিপালনের দায়।
আমার উমা রক্ত ও ঘামে, ধর্ষিতা নামে কাঁদে,
কত না উমা হয়ে গৃহহারা, অসহায় ফুটপাতে।
কারো বা সুখে বিলাস যাপন অট্টালিকার পরে,
কত না বিভেদ নেই তবু খেদ,এক সাথে হাতধরে।
আমার উমার নেই কোনো জাত, একই রক্ত বয়।
শক্তি রূপিণী ,জগত্তারিণী, একটাই পরিচয়।