কবিতায় বীথিকা ভট্টাচার্য

তুমি আসবে বলে
তোমাকে দেব বলে অনেক যত্ন করে
একটা কবিতা লিখেছিলাম।
কয়েকটা গোলাপ দিয়ে সাজিয়েছিলাম
হৃদয়ের ফুলদানীটা।
তুমি বসবে বলে দামী মখমলের কাপড় দিয়ে সাজিয়েছিলাম কুরসীটা।
সবচেয়ে সুন্দর আকাশী শিফন শাড়ীটা
দেরাজ থেকে বের করে পরেছিলাম।
বেল ফুলের মালায়
সাজিয়েছিলাম কবরী।
ঘন ঘন তোমার পায়ের শব্দ শুনছিলাম,
আনন্দে বারবার ব্যালকনির দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল।
পথের দিকে চেয়ে চেয়ে
হেঁটে গেল সময়,
শুধু তুমিই এলে না।
হৃদয়ের প্রকোষ্ঠ থেকে
ঝুড়ি ঝুড়ি কথার বৃষ্টিরা ছিল বাঙ্ময়।
ছলছল করে বয়ে চলা শব্দের ঢেউগুলো মাতাল হাওয়ায় পাক খাচ্ছিল।
দুপুর থেকে সন্ধ্যা।
সন্ধ্যা থেকে রাত্রি গড়িয়ে গেল।
পথের দিকে চেয়ে চেয়ে হেঁটে গেল সময়।
আমার কবিতাকে উড়িয়ে দিলাম হাওয়ায়!
কারণ তুমি এলে না।
আসলে তুমি কোনোদিনই আর আসবেনা।
আমি আমার স্বপ্নগুলো নিয়ে একটা রূপকথার রাজ্য গড়েছি,
যেখানে তুমি হলে কল্পলোকের রাজপুত্র।
বাস্তবে কোথাও তুমি নেই।
কবে ঠিক কতদিন আগে,
তুমি হারিয়ে গেছো,মনে পড়ে না।
তাই তুমি আর কখনো আসবে না।
তবু আমি রোজ তোমার জন্য একটা করে কবিতা লিখি,
তারপর তোমার জন্য
অপেক্ষা করে করে,
সেটা বাতাসে উড়িয়ে দিই॥