কবিতায় বীরেন আচার্য্য

ভালোবাসার রাজপ্রাসাদটা

আমার স্বপ্নের নিভৃত রাজপ্রাসাদে
তুমিই ছিলে ভালোবাসার রাজকুমার,
আমার রূপকুমার!
জ্বেলে দিতাম মনের ঝাড়বাতিটা-
তুমি আসতে পঙ্খীরাজে চড়ে
আমার ভাবনার প্রতি রাতে।
কর্তব‍্যের রাইফেল হাতে থাকলেই বা দূর প্রবাসে – মনটা তো থাকতো সেই আমার কাছেই;
সেবার তো বলেছিলে ‘এখন হিমাঙ্কের নীচে,
তবুও লাগে না ঠান্ডা ভালোবাসার উত্তাপে।’
বড় সাধ হয়েছিল লাল বেনারসি পড়বো,
তোমারই দেওয়া সেই লাল বেনারসি;
জানো, আজও আমি শুনছিলাম তোমার আবৃত্তি-
সুকান্তের সেই “প্রিয়তমাসু”…
” আজ দেহে আমার সৈনিকের কড়া পোশাক
হাতে এখনো দুর্জয় রাইফেল,
রক্তে রক্তে তরঙ্গিত জয়ের আর শক্তির দুর্বহ দম্ভ,
আজ এখন সীমান্তের প্রহরী আমি।”
নিজের জন‍্য যুদ্ধটা তো রয়ে গেল অসমাপ্ত,
গোলাপ রাঙা উঠোনটায় একটা কফিন-
আচমকা ধূলিসাৎ ভালোবাসার রাজপ্রাসাদ,
নিশুতি রাত শুধু গুমরে কাঁদে।
আমার যে বড় ডাকতে ইচ্ছে করছে-
‘ওঠো, ওঠো রঞ্জন!
তোমার দেওয়া পাট ভাঙা লাল বেনারসী পরেছি;
এঁকেছি চন্দন আলাপ ভালে-
তুমিই তো আমার যৌবন…
কিন্তু শুয়ে কেন?
দেখো দেখো! আমার মুঠো ভরা রক্তকরবী!
তুমিই তো আমায় আদর করে ডাকতে-
রক্তকরবী! আমার রক্তকরবী…।
এ মুঠোভরা রক্তকরবী তোমারই জন‍্য;
রেখে দিলাম কফিনের ওপর।
এ দেশে যৌবন মৃতপ্রায়-
জাগো জাগো রঞ্জন! জাগতে তোমায় হবেই;
তুমি যে সীমান্তের প্রহরী!
নিজের জন‍্য যুদ্ধে তুমি হেরে যাবে?
‘তিউনিসিয়ায় পেয়েছো জয়,
ইতালিতে বন্ধুত্ব;
ফ্রান্সে মুক্তির মন্ত্র…’ আর-
ভারতে?
নিলামে বিক্রি শিক্ষা, যোগত‍্যার বঞ্চনা…
অযোগ‍্যতার শাসকীয় সমাদর অর্থলোলুপ প্রেম প্রেম খেলায়;
না তুমি এ্যাজমা রোগী নও;
তুমিই সেই অতন্দ্র প্রহরী! দুরন্ত যৌবন!
ওঠো রঞ্জন ওঠো!
আমার রক্তকরবীর কঙ্কন
আমি হারিয়ে যেতে দিতে পারি না…
ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে তুমিই এক বুক আশা,
আমার মুঠো ভরা রক্তকরবী।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।