মার্গে অনন্য সম্মান বীরেন আচার্য্য (সেরার সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১১৭
বিষয় – ভাষা দিবস
একুশের ঋণ
যে ভাষায় মনের পাখি গান গায়, বুক ভরে নিই শ্বাস
আধো স্বরে ফোটে প্রথম বুলি শিশুর মুখে ;
শোণিত ধারার সাথে মিলেমিশে হয় একাকার
সেই তো মোদের মাতৃভাষা শিহরণ জাগে বুকে ।
মাতৃভাষায় ভাবের প্রকাশ আজন্ম অধিকার-
চিত্তের ঘটে মুক্তি মাতৃদুগ্ধে যদি করে স্নান ;
হেমচন্দ্র , নবীনচন্দ্র, অতুল প্রসাদ , কান্তকবি
বরদবঙ্গে গেয়েছেন সবে বাংলার জয়গান ।
” মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ “- দিগন্ত জুড়ে শস্য ভরা ক্ষেত
” সোনারতরী ” করেছেন বোঝাই রবি আপন ক’রে ;
বঙ্কিম , শরৎ , বিভূতি , মাণিক আর মধুকবি
ঈশ্বর ঈশ্বর হয়ে সাজিয়েছেন নৈবেদ্য নানা উপাচারে ।
ভাব তো নিরাকার আর ভাষা মনবীণায় ঝংকার,
সম্পর্কের মেলবন্ধনের স্বচ্ছ বিনিময় মাধ্যম ;
ভাষার বোধ সহজাত, স্বরতন্ত্রীর সাধন অনুরণন
তাই তো ভাষা দিবস, তাই আয়োজন অনুপম ?
ভাষার বিপন্নতা থেকেই জন্ম রক্তস্নাত ইতিহাস
আঁধার ঘনায়, মানব ভাষার অসহায় বিপন্নতা ;
ইতিহাসের পাতা হতে দেয় বেদনার্ত উঁকি
হারিয়ে যাওয়ার ভাষার কত না জানা কথকথা ।
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জে ওঠে ভাষা বিপন্নতার কথা
ছোট্ট দেশ হাঙ্গেরি করে প্রথম প্রস্তাব পাশ ;
ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স আর বাংলাদেশ
একযোগে করেছিল শুরু সম্মিলিত প্রয়াস ।
আসে কাঙ্খিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
দু হাজার সালে জাতিপুঞ্জের ঘোষণায় ;
কিন্তু কেন তা এই একুশে ফেব্রুয়ারি
আসি সেই ইতিহাসের অশ্রুঝরা আলোচনায় ।
এসেছিল আঘাত বাংলাভাষায় পূর্ব পাকিস্তানে
করতে খর্ব বাংলাভাষীর জন্মগত অধিকার ;
শাসকের রক্তচক্ষু – উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা পাকিস্তানে
ফেটে পড়ে জনগণ বিক্ষোভে-বিপ্লবে রক্ত একাকার।
জোর করে চাপিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রভাষা উর্দু –
পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বুকে জ্বালায় আগুন ;
১৯৫২’র মিলিটারি শাসন উপেক্ষা করে
একুশে ফেব্রুয়ারির ভোর হয় গায়ে মেখে খুন ।
” আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি ”
বাংলাভাষার মর্যাদা রক্ষার ঐতিহাসিক দিন ;
বাংলাভাষার জয়গান গেয়ে সালাম , বরকত
জব্বার ,রফিক ,শফিউর বাজায় জীবনের শেষ বীণ ।
বাংলা আমার মায়ের ভাষা মোদের বুকের বল
এই ভাষাতেই গাইবো মোরা জীবনের জয়গান ;
এই ভাষাতেই রাষ্ট্র হাসবে , কর্ম -কর্তব্যের তরী বাইবো
তবু বুলেটে বুলেটে ঝাঁঝরা হল স্বপ্ন দেখা প্রাণ ।
রক্তঝরা একুশে ফেব্রুয়ারি চাপা কান্না ইতিহাসের
বাহান্নর বুড়ি আজও ডাকে ” সালাম আইলি বাপ “?
কান্না আর রক্তে ভেজা ঢাকার সবুজ ঘাস
স্বৈরাচারী শাসকের এ এক নির্মম অভিশাপ ।
বাংলা মায়ের সেই সব সোনার ছেলে
বর্ণমালা বুকে নিয়ে ঘুমায় ঐ কবরের তলে ;
আন্তর্জাতিকতায় আজ মোদের সোনার বাংলা
হায় ! তবুও ভুলি ইতিহাস সেই ইংরাজী ছলে ।
বাঙালি হয়ে গর্ব করি শহীদ বেদীতে রাখি ফুল
আর ইংরাজীর অপত্য স্নেহে ভাসি নিশিদিন ;
এমনি করেই বহে যায় কালের স্রোত
গভীর যন্ত্রণায় শুধু জেগে থাকে একুশের ঋণ ।