মার্গে অনন্য সম্মান বীরেন আচার্য্য (সেরার সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১২০
বিষয় – প্রজাতন্ত্র দিবস
অর্থহীন অর্থের খোঁজে
গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব
চার স্তম্ভের ওপর ভারত সৌধ বিশ্বের বিষ্ময় ;
আজ এই শক্ত কংক্রিটে ধরেছে অনেক ফাটল,
জাতীয় জীবনে রাহুগ্রাস, স্বপ্ন ছাড়া স্বপ্ন নিলয়।
খণ্ডিত স্বাধীনতায় ভাঙনের নেশা,বিচ্ছিন্নতার গান,
রক্তের নেশায় পাগল গণতন্ত্র শুধু রক্ত খায়;
দেশীয় বর্বরতায় কলঙ্কিত রাজসিংহাসন যুগে যুগে
প্রজা তবুও থাকে মুখ নামিয়ে প্রজাতন্ত্রের আশায়।
অগুনতি নেতা হামাগুড়ি দেয়, দেশপ্রেম শিকেয়-
সংবিধান ছুঁয়ে চলে কেবলই শপথের কোলাহল ;
দুর্নীতির সহবাসে জন্ম নেয় জারজ কঙ্কাবতী কোলে,
রাজনৈতিক ভিক্ষেয় চলে নব সভ্যতার বিলাবল।
তবুও এতদিন তো সবাই ছিলাম চুপচাপ ,
হঠাৎ কেন যে দরদ উথলে উঠলো কে জানে ;
সাজ সাজ রব, কুমীরের কান্না, উপচে পড়া দেশপ্রেম-
এমনি করেই খুঁজে চলা কাঙ্খিত প্রজাতন্ত্রের মানে ।
সবাই জানি শুধু – একদিন হয়েছিলাম স্বাধীন ,
নিবেদিত হয়েছিল রাষ্ট্রিক ক্ষমতা প্রজাতন্ত্রে ;
কেউই অনুভব করি নি কোনদিন কেমন সে জন ?
প্রজা কাঁদে দিনে রাতে, হাত বদলের গণতন্ত্রে।
প্রজাতন্ত্রে প্রজাই যদি শেষ ক্ষমতা হয়
তবু কেন লুট হয় জনমত, নির্বিকার রাজার শাসন ?
কেন পদে পদে বেড়ি গর্বের স্বাধীনতার পায়ে
যেথা মৈত্রী ফেলে দীর্ঘশ্বাস,সেথা সাম্য বিনোদন ।্য
ওরা থাকে মহাসুখে স্মৃতি সৌধে চরম স্বাধীনতায়
অর্থ-বাড়ি-গাড়ি-নারী- আর বিদেশ ভ্রমণে ;
প্রজাতান্ত্রিক সংবিধান ছুঁয়ে দেশসেবার ভণ্ডামি;
সভ্যতার শীৎকার দেশের সতীত্বের রাজকীয় ধর্ষণে ।
ওদিকে দীনুর পোয়াতি বৌটা পায় না ওষুধ ,
বেকার ছেলেটা পায় না আর ধন-লক্ষ্মীর দেখা তো-
নিশুতি রাতে পেঁচাটা গান শোনায় কানে কানে,
” ভারত আমার ভারতবর্ষ স্বদেশ আমার স্বপ্ন গো ..”।
দিন শেষ হয় – সারা রাত সতী ফেরে নাকো বাড়ি
বাবার হাঁপানি, মায়ের হার্টের ব্যামো, ভাইটা বেকার ;
বাধ্য হয়ে সতীত্বটা রেখে আসে সভ্যতার বাগানে ;
হতভাগ্য কবি খোঁজে প্রজাতন্ত্রের মানে বার বার।
কান্ত কবিরা সবাই ঘুমিয়ে, বিদ্রোহের গান স্তব্ধ,
তবু একাকী প্রিয়তমাসু চিঠি লেখে নিশুতি রাতে ;
তিউনিসিয়া, ইতালি ছেড়ে মন বস্তির ঝুপড়িতে –
“কবি! সময়ের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে থেকো শুধু সাথে “।
“কলমের গান থেমে গেলে পৃথিবীটা হবে চির বন্ধ্যা,
প্রতিবাদী মনটা বাঁচাও কবি- বাতাস লাগুক প্রাণে;
ভিক্ষের ঝুলি ফেলে প্রজা বুঝে নিক নিজ অধিকার-
তোমার কলমেই প্রজা জানুক প্রজাতন্ত্রের মানে “।
“আশা করে লিখলাম চিঠি দিও প্রতিবাদী উত্তর…”
নিশুতি রাতে ঘুম ভাঙে, কলম ধরি হাতে ;
প্রিয়তমাসু! আমার প্রিয়তমাসু বলে- করি চিৎকার-
কাঁদে সতীর মা- ও সতী ! ফিরে আয় প্রজাতন্ত্র প্রাতে।