Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ৫)

পুরুষহীন জগতে মহিলাদের অস্তিত্ব সম্ভব? বা ধর্ষণহীন জীবনে মহিলারা সুখী?

সারা পৃথিবীতে মহিলা অস্তিত্ব মানে আপনি যখন শুনবেন, ‘আমাকেও ধর্ষণ করেছে/ আমিও ধর্ষিতা’( #MeToo ) প্ল্যাকার্ড মাথার উপর তুলে রাজপথে মহিলাদেরহাসি ঠাট্টার কলরব সহ শ্লোগান তুলে মিছিল করে। কিংবা কোন মহিলার ধর্ষণ ঘটনা করে প্রতিবাদ মিছিল করে, প্ল্যাকার্ডে বড় বড় করে লিখে, ‘তুমি পুরুষ, ধর্ষক’ কিংবা ‘ ধর্ষকের ফাঁসী চাই’। ইত্যাদি। এছাড়া মহিলাদের আর কোন খবর আছে?
বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে (The 19th Amendment to the U.S. Constitution granted American women the right to vote, a right known as women’s suffrage, and was ratified on August 18, 1920, ending almost a century of protest- women’s rights in the United States was held July 19–20, 1848, in Seneca Falls, New York) মহিলারা ভোটের অধিকার পেয়ে, হাতীর পাঁচ পা দেখে ফেলেছিল। সেই তখন থেকে মহিলারা সকল সংস্কৃতিতে, ‘তার শরীর’, ‘তার যোনি’, ‘তার স্তন’, ‘তার স্বাধীনতা’, তার যৌন সংগম, ইত্যাদি বিপ্লব আনার চেষ্টা করল। তার দেহকে যৌনবস্তু করে সমাজের খোলা মঞ্চে প্রদর্শন করা শুরু করল। তার শরীরকে বিখ্যাত করে তুলল। তিল কে তাল করে দেখাল পুরুষকে।  ফলে, সামাজিক জীবনে অতিরিক্তভাবে, মহিলারা মানুষ না হয়ে ভোগ্যবস্তু হয়ে উঠল।( যারা আমেরিকান সংস্কৃতি শিল্প সাহিত্য ভাস্কর্য, ও পারফর্ম্যান্স আর্ট নিয়ে পড়াশুনা করেছেন তারা জানেন। এই বিপ্লবের নাম ২য় নারীবাদী তরংগ। তারপর ৩য় ও ৪র্থ তরংগ আরো কত নগ্ন হয়েছে সচেতন পাঠক মাত্রই জানেন।
শরীরকে নগ্ন করাচ্ছেন পোশাক কাটিয়ে।Yoko Ono, Cut Piece,1964, fluxus event

John Lennon; Yoko Ono 1968

Carolee Schneeman, Interior Scroll, 1975 performance
1989-1996, body art performance  “demystify the female body”, অ্যানি স্প্রিংকল দর্শকদের যোনি দেখাচ্ছেন
2015


মনোরামা দে্বী  ধর্ষণ প্রতিবাদ২০০৪ (July 2004 banned People’s Liberation Army identified as PLA No 1262, Corporal Manorama Devi, alias Henthoi, a militant since 1995, was in the Bamon Kampu Mayai area. She was identified as an expert in improvised explosive devices (IEDs))

 আমি বহু আমেরিকান বিখ্যাত মহিলারা নগ্ন শরীর ( পর্নগ্রাফির মত) মিডিয়াতে প্রকাশ হয়েছে দেখাতে পারি। বা আমার অন্য ম্যাগাজিনে এসব ছবি প্রকাশ আছে। আমি প্রমাণ করে দেখাতে পারি, মহিলারা বিবস্ত্র হতে পছন্দ করেন। যেকোন ছুতোয় তারা নগ্ন হয়ে যান। লজ্জা শরম তাদের খুব কম। ভারতের অনেক সামাজিক ঘটনায় মহিলারা নগ্ন হয়ে প্রতিবাদ করেছেন। নিজেকে নগ্ন করা মানে , ‘আমি দেউলিয়া’।
ভারতীয় নারীরা হল আমেরিকার নিকৃষ্টতম নকল। এরা আমাএরিকার কালচার নিয়ে পড়াশুনা না করেই খবরের তথ্য থেকে নকল করে। ভারত এমনিতেই সামন্তযুগের বাস করে, উন্নতশীল দেশ নয়। বিচার ব্যবস্থা থেকে প্রশাসন সবকিছুই নিকৃষ্ট মানের। এই নিকৃষ্টতায় যোগ হয়েছে আমাএরিকার বিষ কালচার বা সংস্কৃতি।
পুরুষরা নিজেদের অস্তিত্ব বোঝাতে, মানে তারা সমাজে কিছু করছেন এটা বোঝাতে, পার্টি দেন। অনেক লোক সমাগম হয়। কোন রাস্তা বানান, সেতু বানান, পত্রিকা উদবোধন করেন, নতুন গাড়ি কেনেন, রাজনৈতিক মিছিল করেন। সামাজিক অভাব সমস্যা নিয়ে মিছিল করেন। সভা মঞ্চ করেন। এসব মহিলারা করতে কোনদিন শুনেছেন? শুনেছেন একটা ব্লাড ডোনেশান ক্যাম্প সংগঠিত করতে? গ্রাম শহরের রাস্তার দাবিতে, আলো জলের দাবিতে, রোগশোকের দাবিতে কোন সভা মঞ্চ সংগঠিত করতে?
মহিলারা শুধু পুরুষের তৈরি জগতে গিয়ে নিজের নাম প্রকাশ করতে যায়। আর ধর্ষণের গন্ধ পেলে পুরুষের বিরুদ্ধে গলা চড়াতে যায়।
ধর্ষণ একটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সন্দেহ নেই। কিন্তু সমাজে এত এত আরো অপরাধের ঘটনা ঘটে, সেখানে মহিলারা নেই কেনো? বা মহিলাদের ছায়া হয়ে যে পুরুষেরা চলে তারা চুপ থাকে কেন?
আসলে নারীরা দেউলিয়া। তাদের আর কোন কিছু করার ক্ষমতা নেই।
আচ্ছা বলুন, ‘ধর্ষণ’ ও ‘খুন’ এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি জঘন্যতম অপরাধ? ধর্ষণ মানে কোন নারীকে জোরপূর্বক তার যোনিভেদ করা। তাতে মহিলা মারা যাননা। আর খুন মানে একজন লোককে মেরে ফেলা।
গত বছরের, ২০১৯ সালের ইউনাইটেড নেশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে আপনি জানতে পারেন। ১০০ জন মানুষের মধ্যে ৮১জন পুরুষ মরে। ১৯জন মহিলা মরে। এই ১৯ জনের জন্য যখন আপনি প্রতিবাদ করছেন। বাকী ৮১জন পুরুষের জন্য আপনি কোনদিন মোমবাতি হাতে মিছিল করেছিলেন?
করেননি। এমনকি কেউ – সরকারি, বেসরকারি কেউ করেনি। এই ৮১জন পুরুষ, আপনাকে দেখছে। এবং সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তাদের কি করণীয়।
আসলে এখন এটা একটা ফ্যাশান। প্রতিবাদ করা।নিজেকে প্রগতিশীল জাহির করা। ছদ্মবেশি মুখোশে কাজ সারানো। মোমবাতি জ্বালিয়ে, প্ল্যাকার্ড হাতে চেঁচানো। নিজেকে একটু আধুনিকা সাজিয়ে সমাজে সমীহ আদায় করা। যেমন জংলী রাজনৈতিক ষন্ডাগুলি করে, নিজেদের ক্ষমতার লোভে। টিভিতে মিথ্যার পর মিথ্যা ভাষণ দেয়, লোকজনের মনযোগ কাড়ে, ঠিক তেমন নারীবাদ হল একটা ভূয়ো ফ্যাশান। আর বহু মিডিয়া, এন জি ও ও নানাবিদ্‌ বেসরকারি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সরকারি কোষাগার লুঠ করার, বা বড় বড় শিল্প পতিদের ট্রাস্ট চ্যারিটি লুট করার উপায়। তাদের কাজই হল, নানা গল্প মহিলাদের নিয়ে বানানো আর তার প্রচার করে টাকা কামানো। আপনিও নারী সংহতি বা শিশু কণ্যা নামে একটা এন জি ও খুলুন, তারপর থেকে আপনার রোজগার ও বিলাস, এসি ঘরে বসে গল্প লেখা সহজ হয়ে যাবে। কেননা মহিলা বললে সমাজ সহানুভূতির ঠেলায় গলে যায়। পুরুষ বললে মুখ ঘুরিয়ে চলে যাবে। মেয়েরা হাজারটা মিথ্যা বললেও সমাজ মেয়েদের পক্ষে। আইন মেয়েদের পক্ষে। সংরক্ষণ মেয়েদের পক্ষে। মেয়ে হলে আপনি ছোট থেকে বড় বেলা অবধি সরকারে টাকা নানা খাতে পান। মহিলা যোজনা, কন্যাশ্রী যজনা। আরো কতকি। ফ্রিতে পেতে পেতে আপনার স্বভাবে ছাপ পড়ে গেছে। স্কুলের মাইনে, বইখাতা সাইকেল, ল্যাপ্টপ মহিলারা কত কি পান।
 এই বৈষম্য স্বয়ং সরকার ও ভারতীয় সংবিধান বানিয়েছে। আপনি দেখতেই পাচ্ছেন সারা বিশ্ব, মহিলা নিয়ে ব্যস্ত। এমনকি ইউনাইটেড নেশনও পুরুষের কোন ভাল মন্দ নিয়ে ভাবিত নয়। শুধু বলেই খালাস, ৮১ শতাংশ পুরুষ খুন হয়।
 তো আপনি যদি সবদিকে বঞ্চিত হন, আপনার মনে ক্ষোভ জন্মানোটা কি অস্বাভাবিক? মহিলার কাছ থেকে তার যোনি ছাড়া পুরুষের আর কিছু পাওয়ার নেই। ফলে, একজন বঞ্চিত মানুষের ক্রোধকে আপনি কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেননা।
সমাজে যখন খাবার সংকট হয়। তখন মানুষ ন্যায় অন্যায় ভাবেনা। তখন খাবারটা ভাবে। এটা জৈবিক যন্ত্রণা। কোথাও খাবার গুদাম ঘর দেখলে সেই গুদাম লুটপাট হয়। ইতিহাসে এর অনেক নজির আছে।
সমাজ জানে, পুরুষের সেক্সের চাহিদা প্রবল সংযত করে রাখার নয়। প্রথমত সরকার লোকসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পুরুষের বিয়ের বয়স বাড়িয়ে রেখেছে।  ১২ বছরে একটা ছেলের স্বাভাবিক মৈথুন হাতের মুঠোতে আসে, তাকে ২১ বছর অব্দি অপেক্ষা করতে হয়। দেখা যায়, তার বেকারত্বের জন্য ৩০ বছরের আগে বিয়ে করতে পারছেনা। ৩০ বছরে বিয়ে করে, তার স্ত্রীর সাথে বনিবনা হচ্ছেনা। জীবনের শুরুতে নারী পুরুষের বন্ধন যত ঘনিষ্ঠ হয়, তত ঘনিষ্ঠ যত দেরিতে হবে তত হবেনা। কারণ মূল্যবোধ মানুষ তার পরিবেশ থেকে নেয় অতিছোটবেলা থেকে । দুজন মানুষের দুরকম মূল্যবোধ সংসারে অশান্তি ডেকে আনে। আমাদের সমাজের ৯০ ভাগ নরনারী মুখ খোলেনা কিন্তু তারা অসুখী, তাদের মনোমত সংগী পায়নি বলে।
আমাদের সবার ঠাকুরাম ঠাকুরদাদারা অতি অল্প বয়সেই বিয়ে করেছিল। তাদের জীবনে দাম্পত্য কলহ এত ছিলনা। বা তারা বহু সন্তানের মা বাবা হয়ে ভালই ছিলেন। আমাদের দরকার জৈবিক চাহিদা, পেটের খাবারের মত তলপেটের খাবারের ব্যবস্থা সরকারকে করা। টিভির ক্যালানো মনোবিদ্‌, সমাজ বিদ্‌ ইত্যাদি ছদ্মবেশি বিজ্ঞানী মুখোশগুলিকে তাড়িয়ে দিয়ে সনাতন পথে চলা।
 গ্রামে গঞ্জে অল্প বয়েসে যারা বিয়ে করে, তারা অনেক ঐক্যবদ্ধ দম্পতি। ধর্ষণের পিছনে বেকারত্ব একটা কারণ। আরেকটি অন্যতম কারণ হল, মহিলাদের চলাফেরা পোশাক ইত্যাদি।
ভারতীয় সিনেমায়, চটুল গানে, মহিলারা যেভাবে নিজেদের দেহকে পণ্যবস্তু বানিয়েছে, তা থেকে সমাজ মুক্তি পাবেনা।
 পর্নোগ্রাফিতে দেখানো হয় সরাসরি যৌনতার আনন্দ। দর্শককে সরাসরি সেক্স করতে নিয়ে যায়। বা দর্শক পর্নোগ্রাফির গল্পে উত্তেজিত হয়। কিন্তু আমাদের টিভি ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া মহিলার শরীরকে ভোগ্য বস্তু হিসাবে দেখায়। মহিলা শরীরকে অলীক স্বপ্ন করে দেখায়। ফলে এসকর্ট ও কলগার্লরা লাখ লাখ টাকায় (বেশ্যাবৃত্তি) শরীর বিক্রী করে। হলিউড, বলিউড, টলিউড, কলিউড এসব সিনেমা শিল্পের ৮০ শতাংশ নায়িকা, বিজ্ঞাপনের মডেল, উঠতি অভিনেত্রীরা ১০ মিনিটের জন্য বেশ্যা বৃত্তি করে বিশাল টাকা উপায় করে। এতো আমার কথা নয় সবাই জানে খবরের কাগজের মাধ্যমে প্রকাশ হয়।
শরীরকে মহিলারা ভোগ্যবস্তু বা পন্য বানাচ্ছে, আবার রাস্তায় নেমে শ্লোগান দিচ্ছে মেয়েদের শরীরকে ভোগ্য বস্তু হিসাবে পুরুষ দেখে।
একটা ছেলে বা মেয়েকে অতি শৈশবে থেকে টিভি ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম ও ইন্টারনেটে দেখানো হচ্ছে (নারী) শরীর ভোগ্য বস্তু, আর দেখানো হচ্ছে অধঃপতনের কৌশলগুলি। এগুলি থেকে আমাদের প্রজন্মকে না মুক্ত করতে পারলে নরনারীর সম্পর্ককে উন্নত স্তরে নেওয়া অসম্ভব।

ক্রমশ…

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!