গল্পবাজে আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস (দ্বিতীয় পর্ব)

সব ঠক
ঘণ্টা খানেক বাদে দোকানের ফোনটা বেজে উঠল।আশুতোষ ফোনটা কানে ধরল এবং সে হ্যালো বলার আগে ওপার থেকে হ্যালো বলল।আশুতোষ বলল,”কে?”
“আমি গো,পরিতোষ।গলা শুনে চিনতে পারোনা?”
“কী হল,বল।”
“বলছি,এক্ষুনি আমাকে কালীতলা জগদ্বন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডার থেকে বনমালী সাহা ফোন করেছিল।”
“করে কী বলল?”
“বলল যে,সে তার বয়স্ক বাবাকে দোকানে বসিয়ে রেখে সকালে শহরে গিয়েছিল।এসে দেখে,কোথাকার তিন ভদ্রলোক এসে তার বাবাকে জাল নোট দিয়ে মিষ্টি নিয়ে পালিয়েছে।তোমারও তো এখন বয়স হয়েছে।নোট হয়তো ঠিক মতো চিনতে পারবে না।তাই বলছি,সেরকম কোন অপরিচিত লোক যদি পাঁচশো টাকার নোট দেয় তুমি নেবেনা।বলবে, ভাঙানি টাকা নেই। ভাঙানি চাইবে।না হলে তাকে যেখান থেকে পারে মাল রেখে ভাঙানি করে আনতে বলবে।আমি কী বললাম, আমার কথা বুঝতে পেরেছ?”
“আচ্ছা?”
“বলো।’
“বলছি,ভদ্রলোক গুলো দেখতে কী রকম রে!তাদের চেহারা সম্পর্কে কিছু বলল?”
“হ্যাঁ, বলল।তিনজনই নাকি দেখতে দারুণ!…বেছে বেছে তারা নাকি যে সব দোকানে বয়স্ক লোক থাকছে সেইসব দোকানে যাচ্ছে।”পরিতোষ বলল,”ব্যবসার হাল এখন এমনিতেই খুব খারাপ।অর্ডার নেই।মালের দাম বেশি।লাভ খুব সামান্য।মায়ের অসুখ আর তোমার অসুখ দেখাতে প্রতি মাসে মোটা টাকা পকেট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।তার উপর যদি কেউ জাল নোট ঢুকিয়ে দেয় তো আমি একেবারে মার্ডার হয়ে যাবো।তাই তোমাকে আবারও বলছি,পাঁচশো টাকা, হাজার টাকার নোট হাতে একদম ধরবে না।
ঠিক আছে?”
“তুই কি এখন আসবি না?”
“এখনও তো চান করাই হল না।চান করব,খাবো তারপর তো আসব।”
“এখনও চান করিস নি!কী করছিলি?”
“মাথায় বড় বড় চুল হয়েছিল।চুল কাটিয়ে এক্ষুনি বাড়ি ঢুকলাম।”
“ঠিক আছে, রাখ।”
পরিতোষ ফোন রাখল।