গদ্যের পোডিয়ামে অমিতাভ সরকার

প্রযত্নেঃ অভ্যাস
আজ সকালে তোমার লেখাগুলো পড়ছিলাম। কিছু সত্যিই বেশ ভালো, কিন্তু এত দুঃখ গাথা কেন লেখো! জীবনের মেঘ সংলাপের এই নিত্যকার ঝক্কি-ঝামেলায় সময়ের বৃষ্টি ছাতা খুঁজতেই রাত কাবার হয়ে যায়, জিনিসটা আর পাওয়া যায় না।
কলেজ স্ট্রিটে আজকে বই কিনতে গিয়ে অনেকগুলো টাকা খরচা হয়ে গেল। ভাবছিলাম বইগুলো কিনব না, কিন্তু কিভাবে হারিয়ে গেলাম বুঝতে পারলাম না। অক্ষরগুলো দেখে কী যেন মনে হল, ব্যস নিয়ে ফেললাম।
তখন বাসে ছিলাম বলে তোমার ফোনটা ধরতে পারিনি। তুমি হয়তো ভাবলে…, সে যা হোক, আমি রবিবার কথা বলে নেব।
লেখাটা রেডি করে রেখো, এবার শারদীয়ায় যদি পত্রিকা অফিসে ছাপায়।
আমি গিয়েছিলাম। সব কাজই শেষের মুখে। অনেক লেখাই এবার আমন্ত্রিত। না, আমাদের আর নিমন্ত্রণ করে কেউ লেখা দিতে ডাকতে আসবে না।
চার্জ কমে আসছে। ফোন বন্ধ হয়ে যাবে একটু বাদেই। আপাতত এখন আর কিছু মনে পড়ছে না।
আর হ্যাঁ একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম,যে একদম ফোনে বেশি লিখবে না, যা করার সবই সাদা কাগজে, যদিও এ বয়সে কমবেশি আমাদের সবার জীবনটাই দশটা পাঁচটার ডিউটি করতে গিয়ে কখন যে সাদামাটা হয়ে গেছে, যে আর সাদাত মিন্টোর কাহিনীগুলোও মনটাকে বেশিক্ষণ এক জায়গায় আটকে রাখতে এ যুগে দু’বার ভাবে, পাছে মোবাইলের দেড় জিবি ফ্রি ডেটা খরচের অভ্যাসটা আবার বন্ধ না হয়ে যায়।