গদ্যের পোডিয়ামে অমিতাভ সরকার

প্রভঞ্জন
ঝড়ের বেশে হে পরম শান্তি
সবাইকে নিয়ে বাড়ি আসছি। পাণ্ডিত্যের জ্ঞান জমা একটা ব্যাগ রয়েছে আমার চওড়া কাঁধে,আরেকটা ডান হাতে, দুটোই নিজেদের ওজনে বেশ ভারী, এপাশের টিকিট কাউন্টার দেখছি এখন বন্ধ, অগত্যা অন্য প্লাটফর্মে যেতে হচ্ছে সময়ের ওভারব্রিজে, অগুণতি মানুষের জোর ঠাসাঠাসির মধ্যে, ঘোষণার সাথেই যে ট্রেন ঢুকে পড়েছে। অফিস টাইম। যেতে হবে সবাইকেই।
এরমধ্যেই উপর থেকে নামার সরু একপাশে কষ্টের ঝোলা কাঁধে একজন প্রৌঢ় মানুষ নাতনীর বিয়ের জন্য হাত পেতেছেন আমাদের মনের দরজায়।দেখে তো ভদ্রলোকই লাগলো। বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের প্রশ্নে মানবিকতার দীর্ঘ নিঃশ্বাসে ভ্যাপসা গরমটা যেন আরও বিরক্ত করে তুলছে।সময় ডাকছে। ওরাও দাঁড়িয়ে আছে,বেশিক্ষণ দেরি হলে হয়তো তাড়াহুড়োটা আরও সমস্যায় ফেলতে পারে।এদিকে আবার এখনই ট্রেন এসে যাবে। টিকিট কেটে একই ফেরার পথে তখন সিঁড়িটা একটু ফাঁকা,ভাবলাম দশটা টাকা দিই।নাকি পঞ্চাশ! না…আমি একা কতটা কিই করতে পারি।তবুও যদি একটু ঝুঁকি নিয়ে সামান্য কটা টাকা দিয়ে…না থামা হল না। ভদ্রলোককে পাশ কাটিয়ে আর সবার মতো আমিও নিচে নেমে এলাম।প্রয়োজনের যাতায়াতের পথে কত মানুষের টিকে থাকাটাই কত কঠিন।
একটুও ঝড় উঠল না এবার! ব্যস্ততার পিছলা রাস্তায় আনন্দের কালবৈশাখী আসুক ব্যারাকপুর স্টেশনের এক নম্বরে দুঃখ মেঘের পাড়ায়, বাতাসের ধুলোর ঝাপটা নিয়ে ধুয়ে মুছে দিক পথিক পথের দাবি, স্বস্তির বৃষ্টি নামুক খুশির সৃষ্টি বর্ষায়, বাস্তব পরিস্থিতিকে অতৃপ্ত অসম্মানের কাছে আর মাথা নত করতেই। গরমটা তাতে কমবে,অন্তত কিছুটা হলেও।