কবিতায় বলরুমে অমিতাভ সরকার

অকপটে
চাকুরির বয়স বারো পার হইয়া তেরোয় পা দিল। সেদিন যাহারা ছিল, অনেকেই আজ আর নাই। কেহ কর্ম, জীবন, কেহ বা উভয় হইতেই অবসর লইয়া সকল জাগতিক মোহমায়া ত্যাগ করিয়া সেই চির আনন্দ পথের যাত্রী হইয়াছে, কেহ উৎসশ্রী লইয়া আপন গৃহের নিকট চলিয়া গিয়াছে; যাহারা যুবা ছিল, তাহারা প্রৌঢ়ত্বের দ্বারপ্রান্তে আগতপ্রায়, চক্ষুর দৃষ্টি কমিয়াছে, মস্তকের ছাদ প্রশস্ত হইয়াছে, চিন্তার বয়োবৃদ্ধি ঘটিয়াছে, তথাপি উহাদের দুর্বুদ্ধি এতটুকুও হ্রাসপ্রাপ্ত হয় নাই। একটি বার সুযোগ পাইলেই উহারা যৌবনের প্রেম পাড়ায় নব উদ্যমে তরুণীর মেঘ রূপে হাবুডুবু খাইয়া যাপনার ওষ্ঠ চুম্বনের পৈশাচিক আনন্দলাভে উদ্যোগী ভূমিকাপালন করে, স্বজাতির লোকেরা তাহাই পরমান্ন ভাবিয়া দুরাচারীর নিত্যকার তৈলমর্দন করিয়া চলে। সময় হইয়াছে, ক্ষমতা গিয়াছে, তথাপি উহারা উহারাই। কল্য যাহাদের উত্তম বলিয়া মনে করিতাম, অদ্য তাহাদেরই চিনিতে বেশ ক্লেশ হয়। বাইরে দেখিতে নিতান্ত সাধারণ অনুমেয় হইলেও বাস্তবিক ইহারা পরম চতুর।
স্বার্থের রাজনীতির ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে দুষ্টের দমন হয় না। ছলও আসিয়া পড়ে অভ্যাসগতভাবেই।
খলের শেষ নাই।
আমরা উহাদেরই মায়াজালে বন্দী; চিরকালের জন্য।
মনুষ্যত্বের মৃত্যু ঘটে, কিন্তু আত্ম-স্বভাবের পরিবর্তন আর হয় কই!