সাপ্তাহিক শিল্পকলায় “লাস্ট সাপারঃ কিছু পেইন্টিং”- লিখেছেন আলবার্ট অশোক (পর্ব – ২৫)

Giampietrino, probably Giovanni Pietro Rizzoli (active 1495–1549),The Last Supper, ca. 1520, by Giampietrino, after Leonardo da Vinci, oil on canvas, currently in the collection of The Royal Academy of Arts, London; an accurate, full-scale copy of the original that was the main source for the twenty-year restoration of the original masterpiece (1978-1998)
আগেকার দিনে রোম শহরে খাবার ঘরকে বলা হত সেনাকোলি cenacoli বা সেনা কিউলাম coenaculum, আসলে একটা বড় ঘরে ব্যালকনির মত জায়গা, attic নানা জিনিস পত্র রাখার। Cenare মানে হল খাবার খাওয়া যেটাকে নানদের nuns খাবার ঘর বা refectory বলা হত। এই রেফেক্টরিগুলিতে যীশুর শেষ নৈশভোজ যা বাইবেলে বর্ণিত তা আঁকার জন্য কমিশন দেওয়া হত। এই ঐতিহ্য দ্বাদশ খ্রীস্টাব্দ থেকে চালু ছিল। খ্রীষ্ট ধর্মের যারা তৎকালীন যোগী ছিল, যারা ভিক্ষা করে ধর্মীয় জীবন চালাত, সেই নারী পুরুষ friars or nuns সেই রিফেক্টরিতে বসে খাবার সময় যীশুর কথা ভাবার বা মনে রাখার জন্য এই কমিশন কাজ গুলি দেওয়া হত।
পুরাতন রোম শহরের অলিগলির অনেক বাড়িকেই insule (insulae, plural) বলা হত আর তাতে দোতালার মত বা ব্যালকনির মত জায়গা খাবারের ব্যবস্থা থাকত। সেখানে নিশ্চিত দেওয়ালে বাইবেলের ছবি আঁকার জন্য শিল্পীদের ডাক পড়ত।
লাস্ট সাপার(The Last Supper)। নৈশ ভোজ। খ্রীষ্টিয় ধর্মীয় এক কাহিনীর দৃশ্য। ১৩০০ থেকে ১৫০০ সাল অব্ধি এটা ছিল ফ্লোরেন্সের নানা গীর্জার সংলগ্ন রিফেক্টরির বা সিনে কিউলামের একটি সাধারণ বা আবশ্যিক ছবি। যুগে যুগে নানা শিল্পী এই একই বিষয় নিয়ে কাজ করেছে। গীর্জা বা দেবালয়গুলি শিল্পীদের কমিশন দিয়ে করিয়েছে। ইতালীর নানা পুরাণো গীর্জাগুলিতে (seven Last Supper frescoes exist within the confines of the ancient city center. From Santa Maria Novella on the northwest part of the city, to Ognissanti in the city center, to Santa Croce and San Salvi in the east) এগুলি দেখা যাবে। এই বিষয়ে ছবি আরো অনেকে এঁকেছেন, ফ্লোরেন্সের ঐতিহ্য এই বিষয়ের উপর ফ্রেস্কো নির্মাণ। মূলতঃ যীশুর জীবন ও তার কাজ।
ডিউক লোডোভিচো (The Duke Ludovico Sforza, the duke of Milan and Leonardo’s patron ) সান্তা মারিয়া ডেল গ্র্যাজি র গীর্জা (church of Santa Maria delle Grazie, Milan, Italy )তাঁর পারিবারিক চ্যাপেল এবং কবরস্থানের স্থান হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন। তারপরে তিনি লিওনার্দোকে রান্না ঘরের উত্তর দেয়ালে শেষরাতের খাবার বা Last Supper আঁকার জন্য নিযুক্ত করেছিলেন, লিওনার্দো সেই সময় আর্থিক টানাটানিতে ভোগ ছিলেন, কাজটা এমন এক সময়ে এল।  শেষের খাবারের বিষয়টিকে বিশাল অনুপাতের মুরাল mural হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছিল, এই ম্যুরালটি ৩০ ফুট বাই ১৪ ফুট মাপের, তাই কাজটি শুরু থেকেই একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তিন বছর ধরে তার  স্কেচ, অধ্যয়ন এবং প্রস্তুতি চলার পর  আঁকা হয়েছিল, কাজটি শেষ পর্যন্ত ১৪৯৮ সালে শেষ হয়েছিল।

লিওনার্দো ছবিটার জন্য প্রচুর স্কেচ করেছিলেন। এখানে এগুলি তেমন নমূনা
কাজটা শেষ হবার পরই খুব জনপ্রয় হয়ে যায়। ফরাসী রাজা দেখে বলেন তিনি পুরো দেওয়াল শুদ্ধ কিনে নিতে চান। কিন্তু পারিষদরা জানালেন এটা নেওয়া কিছুতেই সম্ভব হবেনা। ভেংগে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে, ও মেরামত অসম্ভব হয়ে যাবে। শেষ অব্দি রাজাকে ফিরতে হল।
লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি (April 15, 1452 to May 2, 1519) কিছুদিন মিলানে ছিলেন তিনি পুরানো সেই সব খ্রিষ্টীয় সাধুদের সেনাকিউলামে বা রিফেক্টরিগুলি দেখে মুগ্ধ হন ও তিনিও একটা লাস্ট সাপারের ছবি আঁকার অর্ডার পান Convent of Santa Maria delle Grazie in Milan। দুঃখের ব্যাপার তার উদ্ভাবনীয় কিছু টেকনিকের জন্য কাজটি নষ্ট হয়ে যায়। ১৪৯০ সালে তিনি টেম্পেরা ও জেশো তে tempera, gesso করেন।Giampietrino, Giovanni Pietro Rizzoli, একজন ইতালীর পেইন্টার (১৪৯৫ – ১৫২১) তিনি ১৫২০ সালে লিওনার্দোর সাথে কাজ করে লাস্ট সাপারের ছবিটির একট কপি করে রেখেছিলেন।

লিওনার্দোর লাস্ট সাপার ১৬৫২ সালে ধ্বংস হয়ে যায়। তারপর Giampietrino র কপি ছবিটি দেখে আরো কিছু কপি করা হয়। এখন যে ছবি আমরা দেখি তা ওই কপি থেকে কপি করা আসল ছবিটিও আছে সেটি নষ্ট পর্যায়। খ্রীষ্টিয় সাধুরা friars রিফেক্টরির সাথে রান্নাঘরের একটা দরজা বানাতে গিয়েই এই বিপত্তি করে।
দা ভিঞ্চির ছবিটির ভাগ্য ভাল নয়। যতই তার প্রশংসা হোক। ছবিটি শুরু থেকেই রঙ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল, যদিও টেম্পেরা ও  তেল রঙ্গে করা। আস্তরণের উপর আস্তরণ চাপিয়ে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন দেওয়ালটা ঠিক ছিলনা। এছাড়া আবহাওয়া, একদম বিরূপ ছিল। বাতাসে জলকণা থাকতা, উষ্ণতা ছিল যথেষ্ট পরিমাণে।
১৭৯৬ সালে নেপোলয়নের সেনাবাহিনী ঘরটা ঘোড়ার আস্তাবল বানিয়েছিল। যদিও নেপোলিয়ন বলেছিলেন কোন ক্ষয় ক্ষতি যেন না হয়। পরে ঘরে খড়ের গাদা রাখা হয়েছিল। মনে হচ্ছে ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক ছবিটাকে শেষ করেই দেবে।
১৮০০ সালে ভয়াবহ বণ্যা ছবিটার উপর সবুজ শ্যাওলা দিয়ে ভরে দিয়েছিল। ১৯৪৩ সালে মিত্র পক্ষে বোমাতে গীর্জার প্রভূত ক্ষতি হয়।

দাভিঞ্চি ওয়াল ফ্রেস্কোর সামনে একটি সুরক্ষার কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। এই ছবিটি আগস্ট ১৫,১৯৪৩ সালের পরে রেফেক্টারিটি বোমার  আঘাতের পরে ক্ষতি্র ছবি; যদিও ধ্বংসাবশেষ বা বোমা টুকরা দ্বারা খুব ক্ষতি হয়নি, তবু  ধ্বংসের বিশালতা এই ছবিটিকে প্রস্তাবিত করেছে।
এখানে লাস্ট সাপারের লিওনার্দোর জন্মের আগের ছবিও কিছু দেওয়া হল। সেগুলি লিওনার্দোর চেয়েও অনেক ভাল ও মূল্যবান পন্ডিতরা মনে করেন।
ALESSANDRO ALLORI (1535–1607.) 1582, FLORENCE ,SANTA MARIA DEL CARMINE, TUSCANY
Taddeo Gaddi ( 1290- 1366, Florence, Italy) was a medieval Italian painter and architect. He was the son of Gaddo di Zanobi, called Gaddo Gaddi. He was a member of Giotto’s workshop from 1313 to 1337, when his master died. Last Supper and Tree of Life Tree of Life and Four Miracle Scenes, 1360s, Fresco
Andrea del Castagno, Last Supper, 1447
Domenico Ghirlandaio (1449–1494) Domenice Ghirlandaio, Last Supper fresco in the Church of Ognissanti 1480  Ghirlandaio, Last Supper, c. 1486, fresco
Pietro Perugino, The Last Supper, 1493-96, fresco
Leonardo da Vinci The Last Supper 1490s (Julian)
Andrea del Sarto was recalled in 1527
Alessandro di Cristofano di Lorenzo del Bronzino Allori (31 May1535, Florence, Italy – 22 September 1607, Florence, Italy)was an Italian portrait painter of the late Mannerist Florentine school. His father, a sword maker, died when Allori was five, and the painter Agnolo Bronzino was made guardian of the family. Alessandro Allori, Last Supper, 1584,
Adi Nes, Israeli, born 1966, Height: 90 cm (35.4 in); Width: 144 cm (56.6 in), 1999

(চলবে)

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।