কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে আনোয়ার রশীদ সাগর

সমাপ্তি
আঁধারের বিরান ভূমি ছুঁয়ে চন্দ্রালো পূর্বদিগন্তে উঁকি দিতে শুরু করেছে
দীর্ঘ বৃক্ষছায়া অবনত শিরে ছোটো হয়ে আসে মাটি ছুঁয়ে ছুঁয়ে
মৃত্যুর সারিতে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ কঙ্কাল সার খেজুর গাছটি নিঃশব্দে বুকের পাঁজর ভেঙে ভেঙে স্মৃতির পতাকা উড়াই-
ভরা যৌবনে কতো কতো মাটি খোঁড়া কৃষক শরীর চষে চষে রসে রসে ভরে নিতো কলস
কখনোবা সে রসের রসালো কলসে পরকীয়ায় মেতে উঠতো কিশোর নাগর,
টসটসে সুস্বাদু স্তনে ঠোঁট লাগিয়ে চুষে চুষে হেসে হেসে পালিয়ে যেতো
কৃষকের চোখ ফাঁকি দিয়ে।
যৌবনরসে এখন আর কেউ ধারালো ছুরি ধরে না
স্তনবোঁটার ওমওম কুয়াশাভরা জ্যোৎস্নায় মেতে ওঠে না গাঁয়ের পালানো কিশোর;
জীর্ণ শীর্ণ শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কাঁটাওয়ালা মাথাভরা রংচটা চিকন পাতায় বিরহিণী,
কখন অথবা কবে ইট ভাটার গনগনে আগুনে পোড়াবে কেউ হয়তো-বা
করবে টুকরো টুকরো, কুড়াল চালায়ে বাকলগুলো ছুলে ছুলে ফেলবে চুলার ধারে
অপেক্ষা এখন জীবনের পরিসমাপ্তির।