।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় অনিন্দ্য পাল

ও কে ?
একজন মানুষের সংজ্ঞা কী?
কোন বিদ্যায় চিনে নেওয়া যায়
পোষাকের ঢাকনা খুলে, একজন মানুষ কে?
কোন তরমুজের ভিতরটা লাল হবে, বোঝা যায়?
ওই যে, যাকে দেখি রোজ উড়ালপুলের বাহুতে
শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় প্রকৃতি অকৃপণ উপুড় হয়ে দেয়
ভালোবাসা, বাতাস বাসা বাঁধে খোলা চামড়ায়
ভাঙা খেলনার মত পড়ে থাকে, যেখানে থাকে ও
অপেক্ষায় আছে কি, রিসাইকেল হবার?
উত্তর কে দেবে? প্রকৃতি!
ঈশ্বর!
নাকি ওর স্বজাতি, যাদের দেহ বন্দী সবসময়
সুতোর খামে!
ও হয়তো ঈশ্বরের সেই প্রিয় “মানুষ”
যাকে চেয়েছিলেন বিধাতাপুরুষ
কখনও, আত্মার প্রিয়জন
কখনও শরীরের খিদে
অথবা কখনও নিজেকেই দেখে নেন, অবসরে!
ও কে?
ও কি সেই?
আসলে যার মতো হওয়ার কথা ছিল আমাদের
যার মধ্যে দেখতে চেয়েছেন ঈশ্বর, নিজের সৃষ্টিকে
মুখোশহীন,
খোলসহীন,
রং বদলানো পোষাকহীন সৌন্দর্য্যে
মহান সৃষ্টিশীল নগ্নতায়,
ও কি ঈশ্বরের সেই হারিয়ে যাওয়া স্থাপত্য ?
ঠিক যেভাবে গড়তে চেয়েছিলেন তাঁর ” ইচ্ছা” কে
যেমনটা হলে আমরা হতাম ঐশ্বরিক “মানুষ”
ও কি সেই!
লোভহীন
অর্থহীন
কৌশলহীন
ক্ষমতাহীন
দরিদ্রতম একা একজন
ওই কি সেই প্রিয়তম ঈশ্বরের!
কে ও?
কে বলবে, উত্তর দেবে কে?
ও কি মানুষ,
না কি মহাকালের প্রথম ঐশ্বরিক ভুল!
ক্ষয়
অনবরত কমছে অস্তিত্বের
আয়তন।
শরীরের সীমারেখা বরাবর ভেঙে চলেছে
পাড়।
নিজস্ব অণু পরমাণু মিশে যাচ্ছে কোন অলৌকিক জলে।
আমি ভাঙছি।
পাড় ভাঙছে।
ব্যক্তিগত আয়তন দ্রব হচ্ছে ক্রমশঃ
ছদ্মবেশী কমণ্ডলুতে।
অংশ থেকে ভগ্নাংশ
ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসছে
স্থাবর ঠিকানা…
একান্ত অবসরে খুঁজে চলি কণাপরিমাণ
বাস্তব।
ডুব দিয়ে ডুবে যেতে থাকি
শূন্য থেকে শূন্যান্তরে।
হাতে মুঠোবন্দী থাকে
সেই খরস্রোতা