কবিতায় অমিত পান্ডে

চিলেকোঠার জানলা
আমি চিলেকোঠার জানলা দিয়ে চাঁদ দেখি। আর চাঁদ দেখে আমার সবকিছু। আমার সোহাগ, অভাব, ভাঙ্গা তক্তপোষ, টিনের চাল থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে জল পড়া, এক পা ভাঙ্গা কাঠের টেবিল আর তাতে স্তূপীকৃত বই। দুটো নেংটি ইঁদুরের তার ওপর দৌড়াদৌড়ি আর একটা টিকটিকির ক্রমাগত দেওয়াল বেয়ে ওঠানামা। চাঁদ সব দেখে।
আমি জানলা দিয়ে চাঁদের দেখার দৃষ্টি অনুসরণ করি।
দেখি বিবস্ত্র মহিলার নগ্ন শরীর নিয়ে মিছিলের উল্লাস,
দেখি কারণ নিয়ে পরষ্পরের দোষারোপ।
দেখি বেকারত্ব, দেখি অন্ধকার ভবিষ্যত। আর দেখি চাঁদের নীরব সাক্ষী থাকা।
তবু ভালো কেউ তো সাক্ষী থাকে। প্রতিবাদের কালো ব্যাজের মতো অমাবস্যায় মুখ লুকোয় প্রতীক হিসেবে।
দেখতে পাই পোড়া সমাজের বিষাক্ত ধোঁয়ার কুন্ডলী কেমন করে গ্ৰাস করছে সবকিছু।
কখন যেন ঘুমিয়ে পড়ি।
পুরোনো রেডিও তে ভোরবেলা বেজে ওঠে বীরেন ভদ্রের ইয়া দেবী সর্বভূতেষু….. বোধহয় পূজো এসে গেল।
আমি জানলার দিকে তাকিয়ে দেখি চাঁদ তখনও তাকিয়ে আছে আমার দিকে। বোধহয় আমার সাক্ষী থাকছে।