গদ্য কাব্যে অমিত পান্ডে

মুক্তি

সূর্য যখন অনেক টা পশ্চিমে ঢলে পড়েছে তখন দেখলাম এক আকাশ রঙ নিয়ে তুমি দাঁড়িয়ে আছো মুক্তির ফেরিওয়ালা হয়ে।

গিয়ে বললাম মুক্তি কত করে গো? তুমি বললে অমূল্য। আমি মুক্তি বিক্রি করি না, যার দরকার তাকে দু হাত ভরে দিয়ে দিই।

আমি বললাম আমাকে দেবে?
তুমি বললে তোমার প্রয়োজন থাকলে নিয়ে নাও যতটা প্রয়োজন।

আমি দু হাত ভরে মুক্তি নিলাম তোমার থেকে।

নদীতে জল বয়ে গেছে নিজের মত করে। তোমাকে যত দেখি ততই নতুন করে উপলব্ধি করি।

তোমার প্রকাশের ভঙ্গি টা একটু অন্যরকম। খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে পারো তোমাদের যদি মুক্তি দরকার পড়ে নিয়ে যেতে পারো ।
আমি দেব বলে দাঁড়িয়ে আছি তোমাদের জন্য।

তারপর কেউ এলে প্রয়োজন মত মুক্তির রাস্তা দেখিয়ে দাও তাকে।

তুমি যখন আমার দেওয়া পাঞ্জাবি টা পরো, বুঝতে পারি তুমি তোমার ভালোবাসা প্রকাশ করতে চাইছ।

যখন মাথা উঁচু করে হাসতে হাসতে বলো আরে দূর সব ঠিক আছে তুমি কিছু ভেবো না, তখন বুঝতে পারি তুমি আমার ব্যবহারে খুব কষ্ট পেয়েছ।

আর যখন ঝগড়া করো বাচ্চা ছেলের মতো, তখন বুঝি তোমার দেখানো মুক্তির রাস্তায় আমি চলতে পারছি না বলে তোমার অভিমানের কথা।

যখন তোমার মত চঞ্চল স্বভাবের মানুষ টা কিছুটা গম্ভীর কিন্তু মুখে হাসি রেখে কাউকে বুঝতে দিচ্ছ না তোমার যন্ত্রনা, বুঝতে পারি তোমার একাকিত্ব তোমাকে গ্ৰাস করতে চাইছে চারিদিক থেকে।

যখন পাগলের মতো আমার গভীরে ডুব দিতে চাও , তখন বোঝাই যায় তুমি একটু শান্তি খুঁজে চলেছ অনবরত।

তবে কি তোমার কোথাও শান্তি নেই এই এতবড় পৃথিবীতে?

তোমার মুক্তি কার কাছে পাওয়া যায় বলো আমি গিয়ে ঠিক খুঁজে নিয়ে আসব তোমার জন্য।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।