কবিতায় স্বর্ণযুগে অমিতাভ মিত্র (গুচ্ছ কবিতা)

সহায়িকা
সাজেশন মিলিয়ে পড়লেই পাশ পাক্কা ,
যেনতেন হতে চায় অনেকেই
বিস্তারিতভাবে জানতে চায় না বিষয়
সিলেবাস বহির্ভুত আরো অনেককিছু ।
চোখাচোখি হলেই চোখা চোখা প্রশ্ন জেরবার করে দেয় রোজ ,
টুকলি করার জন্য ক্লাসরুমের দেওয়ালে তবু তারা লিখতে চায় না উপপাদ্য
ব্যাসবাক্য সহ সমাস অথবা
বংশতালিকা সহ রাজ্যবিস্তার
সাজেশানে যে উত্তরগুলো লেখা থাকে
তা সবই গড়পড়তা ।
শুধু পাশ করার জন্য মুখস্ত করাই যায় রাতজেগে ,
নিত্যনতুন প্রশ্নে জেরবার হলেই ………
মন বোঝে কতোটা বিস্তারিত এই প্রেম
অথচ
কতো সংক্ষেপ পাঠক্রম ।
বিকল্প
বিকল্প না ভেবেই নাকি প্রেমে পড়তে হয় ,
হয়তো বিতর্কিত
বললেই হয়তো প্রতিবাদে উত্তাল হবে মঞ্চ
জোড়ায় জোড়ায় জুরিদার ফিরিস্তি দেবে প্রাণায়ামের
ঘা-কতক দিলেও দিতে পারে ,
আসলে তখনও তারা জানেনা
বিপন্ন বিকেলে সক্কলকেই বিকল্প খুঁজতে হয় ।
তর্পণে ভেসে যায় সাঁঝ
কাঁধ থেকে খসে পড়ে উত্তরীয়
উস্কোখুস্ক উসখুস ইচ্ছেরা মত্ত স্নানে উন্মত্ত হতে চায়
তখন অপ্রাপ্তি ভর্তি মহাফেজখানাও চায়
নতুন রঙে আবার রেঙে উঠুক মন্তাজ ,
সাজি ভর্তি স্বপ্ন নিয়ে কেউ সিদ্ধাই হতে চাইলেই
পুনরায় পড়তেই হয় প্রেমে ।
এমন কিছু স্বপ্ন
একান্ত একমাত্র হয়ে থাকতে ভালোবাসে বলেই
হয়তো কিছু স্বপ্নকে আলাদা রাখতেই হয় ,
নিতান্ত হিংসুটের মতো যারা উচাটনে মাখিয়ে রাখে অখন্ড নীরবতা ,
আনমনা দিনশেষে যারা আওতায় ছড়িয়ে দেয় বাউল সম্ভাবনা ,
আদরণীয় এমন কিছু স্বপ্ন থাকেই
যাকে একটিবার ছুঁতে আকাশ হতে হয় ,
নতজানু হয়ে ভিক্ষে করতে হয় ভেসে বেড়ানো ছাপোষা মেঘেদের কাছে I
তখন মনে হয় জলসেচে অভাবী ক্ষেতে একবার অন্তত হোক অঙ্কুরোদগম ,
স্থিতিজাড্যে দু-দন্ড বিশ্রাম নিক মূর্ছনায়িত লহমা ,
আত্মস্থ সোহাগে পেরিয়ে যাক লজ্জাবতী দুপুর ,
পেরিয়ে যাক আচ্ছন্ন বিকেল
স্মৃতি বয়ে জোনাকেরা অভেদ্য প্রেক্ষাপটে রেখে যাক ক্ষনপ্রভা ,
এমন কিছু স্বপ্ন থাকেই
যাকে ছুঁয়ে ফেললেই খুলে যায় কফিনের দরজা I