T3 || বাণী অর্চনা || বিশেষ সংখ্যায় অলোক মুখোপাধ্যায়

বাক্স কথা

বাড়িটা এবার ভাঙা শুরু হবে গো কত্তা’মা। তোমাদের আদরের বিন্নিবুড়ি আর বাবুসোনা বাড়িটা বিক্রী করে ভাগ বুঝে নিয়েছে। পুরোনো কিছু সরঞ্জাম আর একটা ছেঁড়াফাটা বালিশের সাথে বাগানের লেবুতলায় আমার ঠাঁই হয়েছিল। উইপোকা সবেমাত্র আমায় খেতে শুরু করেছিল। এর মধ্যেই শুরু হলো টানা হ্যাঁচরা। আবর্জনার স্তুপের মধ্যে এখন আমি ট্রাকে চড়ে চলেছি। ঝুপ করে কোন ভাগাড়ে গিয়ে পড়বো জানি না!
তুমি যেদিন চলে গেলে সেদিন সন্ধ্যেতেই পালঙ্কের নীচ থেকে টেনে বের করে আমাকে খোলা হয়েছিল তালা ভেঙে। সঠিক চাবি লাগাতেই পারেনি তোমার বউমা! ঢাকনা খুলতেই একে একে বেরিয়ে এল কত্তামশায়ের জহরকোট, ধুতি-পাঞ্জাবী, ফাউন্টেন পেন, চশমার খা্প, জাপানী লাইটার। তোমার কাজললতা, টারসেলের গোছ, আধা শিশি সুগন্ধি জবাকুসুম তেল আরও কত কি!
-এটা আমি নিলাম! কেউ কিছু বলার আগেই তোমার রঙবাহারি এমব্রয়ডারি করা পসমিনা শালটা বগলদাবা করলো বউমা। বাড়ির কোথাও তোমাদের জোড়ের কোন ছবি ছিল না! কত্তামশায়ের লেখা পুরোনো বড় ডায়েরির ভেতরে ছিল তোমার আর কত্তামশায়ের সাদাকালো একটা ছবি। সেটা নিয়েছে তোমার বাবুসোনার মেয়ে মিঠি। হলুদ খোল লাল পেড়ে হাজার-বুটি জামদানী শাড়ি যেটা বাবুসোনা হবার পর কত্তামশায় তোমায় দিয়েছিল সেটা এবং বাকি জিনিসগুলো নিয়েছে বিন্নিবুড়ি। কত্তামশায়ের ডায়েরিটা পুরোনো কাগজের সাথে বাবুসোনা বেঁচে দিয়েছে! থাকার মধ্যে রয়েছে আমার দেহের গোপন খোপে তোমার আর কত্তামশায়ের সোহাগ ভরা গোছা গোছা প্রেমপত্র। কোন লেখকের হাতে পড়লে এগুলো দিয়ে দারুণ একটা গল্প কিন্তু হতে পারতো!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।