অনুগদ্যে অমিত মুখোপাধ্যায়

চিঠি
রোদ্দুরের খামে চিঠি আসে প্রতিদিন। কোনও কোনও দিন মেঘের খামে। সারাদিন অসংখ্য বার পড়ি সেই চিঠি। তার পর অন্ধকারের কাছে গচ্ছিত রেখে ঘুমোতে যাই। পরদিন আবার নতুন চিঠি আসে। সেই চিঠি কখনও অসমের ডিমা হাসাও অরণ্যের কপিলা নদীর জলপ্রপাত থেকে, কখনও আসে দার্জিলিংয়ের ছোট্ট গ্রাম ঋষিহাট থেকে, যেখান থেকে সব চেয়ে পরিষ্কার কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখেছিলাম। চিঠি আসে বস্তারের অবুঝমাড় থেকে, তাতে লেখা থাকে রহস্যময় সেই অরণ্যের গল্পগাছা। চিঠি আসে জামতাড়ার রাধামাঠ থেকে, যেখানে মহুল বনের ধারে সাঁওতালি বিয়েতে সামিল হয়েছিলাম। চিঠি আসে রাজস্থানের থর মরুভূমি থেকে। যেখানে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় চাঁদনি রাতে মরু হরিণের সঙ্গে জ্যোৎস্নায় ভিজেছিলাম। চিঠি আসে সুন্দরবনের মৃদঙ্গভাঙা নদীর ধারে বন শ্যামনগর থেকে। সেখানে নোনা জমিতে ফসল ফলাতে দেখেছি বুকের হাপর টানা চাষিকে। কিন্তু আজও চিঠি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা গেল না। আজও অপেক্ষায় থাকি, কবে সেই ঘর ভোলানো বোষ্টুমির চিঠি আমাকে ফুঁসলে নিয়ে যাবে অন্য ভুবনে।