|| কালির আঁচড় পাতা ভরে কালী মেয়ে এলো ঘরে || T3 বিশেষ সংখ্যায় অলোক মুখোপাধ্যায়

অথ অভিদা কথা
আমাদের সান্ধ্য আড্ডার প্রাণপুরুষ অভিরাজ সামন্ত। জনপ্রিয়ভাবে ‘অভিদা’ নামে সমধিক প্রসিদ্ধ। কয়েক সপ্তাহ আগে রীতিমত উত্তেজিত।
জিজ্ঞাসা করলাম -কি হ’ল অভিদা, এনি প্রবলেম?
-হ্যাঁ ভায়া প্রবলেম, তবে আমার নয় সমাজের। সামাজিক মূল্যবোধের।
-কি রকম!
-কি বলবো রে ভাই! ফুটপাথ ধরে সেদিন ভিড় সামলে হাঁটছি। উল্টোদিকের রাস্তায় গণেশ চতুর্থীর পুজো প্যান্ডেলে গান বাজছিল – “ভোকাট্টা তোমার ভালবাসা ……”। আমার সামনে ছোট একটা বাচ্চা আইসক্রীম চুষতে চুষতে মাকে প্রশ্ন করে বসল “হোয়াট ইজ ভোকাট্টা মাম্মা”?
জিনস-টপ-আইলাইনার শোভিতা তিরিশের কোঠার মা জননী ঠোট কামড়ে উত্তর দিলেন “পুচু ওটা একটা থিম সঙ”।
কুইজ শো দেখতে অভ্যস্ত শিশুর পরের প্রশ্ন “থিম সঙ অফ হোয়াট ফিল্ম মাম্মা?”
“ফিল্ম নয় বেবি, ওটা বিশ্বকর্মা পুজোর থিম সঙ”।
বাজার রাউন্ডের মতন শিশুর পরের প্রশ্ন “মাম্মা, হু ইজ দিস বিশ্বকর্মা”?
মা জননী জানতেন তবে রিসক নিলেন না। স্মার্ট ফোনে গুগল সার্চ করে দেখিয়ে দিলেন হাতির ওপর বসা হাতে ঘুড়ি ধরা বাবা বিশ্বর্মার ইমেজ। মায়ের হাত থেকে ফোন প্রায় কেড়ে নেয় স্মার্ট শিশু। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিশ্বকর্মার ছবি দেখতে থাকে।
প্রায় একদমে কথা গুলো বলে অভিদা একটু যেন হালকা হলেন। মজা করেই বললাম “এটার মধ্যে সোশ্যাল ভ্যালুর প্রবলেম কি হ’ল বুঝলাম না”।
কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে অভিদা মুখ খুললেন – তোদের প্রবলেম নেই, আমার আছে। বারো মাসে তের পার্বণের পরেও যা যা কম পড়েছিল গ্রিন করিডোর ধরে সেগুলো আমরা ট্রান্সপ্লান্ট করে নিয়েছি আমাদের সংস্কৃতির অবয়বে। ধনতেরাস-ধনবর্ষা এসব আগে ছিল? আমাদের বাড়িতে ঠাকুর পুজোর আগে পুরুত মশাই “লম্বোদরং গজাননং” মন্ত্রে গণেশের আরাধনা করেন। এখন গণেশ চতুর্থীতে অলিতে গলিতে একশ বিশ ডেসিমেলের আওয়াজ তুলে লাউডস্পীকা্র বাজছে –“গণপতি বাপ্পা মোরিয়া”। কিছু দূর অন্তর চলছে জগঝম্পের কমপিটিশন।
অভিদা যখন বলেন আমরা চুপ করে থাকি। আড্ডার আসরে আমাদের কনিষ্ঠতম সদস্য মেঘরাজ টুক করে কমেন্ট করে –কোন উপায় নেই বস, পাবলিক নিচ্ছে তো। অসুবিধা কোথায়! কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে অভিদা চায়ের গ্লাস টেবিলে রেখে আসর ছেড়ে চলে গেলেন। আধঘন্টা পরে খবরের কাগজ হাতে ফিরে এলেন। গম্ভীর গলায় বললেন –এখন আমি এডিটোরিয়াল পড়ব, ডিস্টার্ব না করলেই খুশী হ’ব।