সঙ্গীত কথাটি আক্ষরিক অর্থে ছোটো হলেও তার বিস্তার এবং জগত প্রকাণ্ড সমুদ্রর মতো বড়। আর সেই সঙ্গীতের একটা বড় অংশ জুড়ে স্থান পেয়েছে রবীন্দ্র সঙ্গীত অর্থাৎ সামগ্র বাঙালী এবং ভারতের গর্ব আমাদের রবি ঠাকুরের সৃষ্টি, তাঁর সাংস্কৃতিক চেতনা, তাঁর সাধনা এবং তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার দ্বারা এই সঙ্গীত জগত সমৃদ্ধ। রবি ঠাকুরের জীবনের সঙ্গীত চর্চা, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের কঠোর তালিমের প্রভাব তার গানে বারংবার স্থান পেয়েছে।
যদি রাগ রাগিনী ব্যবহার করেই গানের সুর দিয়ে থাকেন তাহলে আর পাঁচ জনের থেকে তিনি আলাদা কোথায়?
ঠিক এই জায়গাতেই তিনি রবীন্দ্রনাথ, যিনি তাঁর একটা গানে অদ্ভূত ভাবে চার থেকে পাঁচ রকম রাগের আশ্রয় তো নিয়েছেনই তার সাথে সুর নিয়ে খেলে একের পর এক বিস্ময়কর সৃষ্টি করে গ্যাছেন।
গান কি ?
গান কে না গায়!
কেউ জেনে গায়, কেউ না জেনে, কেউ সুর জেনে গায় কেউ বেসুরকে সুর বানায়৷ কিন্তু গান? সে কেমন? সে কেবলই কথা, কেবলই সুর নাকি কেবলই ছবি! কী দিয়ে আঁকি!
সুরের সাথে কথার যেখানে মিলন ঘটে যেখানে বাণী কে এগিয়ে নিয়ে যায় সুর আর সুরকে এগিয়ে নিয়ে যায় বাণী… সেখানেই সৃষ্টি হয় গান
এই কথারই প্রসঙ্গ টেনে আজকের আলোচ্য বিষয় রবি ঠাকুরের গান
যা, সুর, কথা, ভাব, গায়কীর এক অভিনব নিদর্শন।
রাগ ভৈরবীর ওপর ঠাকুরের সৃষ্ট গানের মধ্যে “দয়া দিয়ে হবে গো মোর জীবন ধুতে” গানটায় ভৈরবী রাগ কে ঠাকুর অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়ে মধ্য সপ্তকের পঞ্চম থেকে মন্দ্র সপ্তকের ধৈবতে যে ভাবে সুরকে নিয়ে এসেছেন… তা ভৈরবীর এক অসামান্য ব্যবহার এবং অন্য কোথাও এমন দেখা যায় না বললেই চলে।
আবার ঠাকুরের সৃষ্ট “তুমি তো সেই যাবেই চলে” গানে প্রথম লাইন কথার সাথে মিলিয়ে ঠাকুরের পুড়িয়া ধনশ্রী রাগের ব্যবহারে যেনো সেই কথার বেদনা তার শূন্যতা চিত্রের মতো শিল্পীর সামনে ভেসে ওঠে।
ঠাকুরের সৃষ্টি, তাঁর গান তাঁর চেতনা, তাঁর চিন্তা শুধু মাত্র কয়েকটি শব্দে ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। সেই বিস্ময় কে জানতে গেলে এই জীবনটা অনেক ছোটো মনে হয়, যেন-
তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে…