ভাবলেন না বিপ্লবের কি হবে ? ভাবলেন না কলমের কালিতে ভবিষ্যতের শাসকের চোখে চোখ রেখে সাদা কাগজে বিপ্লবের আঁচড় কাটানোর সাহস পাবো কি করে ? জানতাম আপনি নিজেকে কখনো কবি নামের মোড়কে দেখতে চাননি । যারা আপনাকে কবি নামে দাগিয়েছে তাদের আপনি চুপ করিয়েছেন ,শব্দহীন ভাবে হয়ত । এবার কি হবে ?
মনে আছে সৈনিক…
মনে আছে রক্তের সত্তর দশক , রাষ্ট্রীয় একতন্ত্রের বিরুদ্ধে জেগে ওঠা নকশাল আন্দোলন , মনে আছে ইন্দিরা গান্ধীর ইমারজেন্সি কিংবা রাইটার্সের ফতোয়া ,আপনার কবিতা না ছাপার ফর্মানের উত্তর
‘ যা কিছু লিখেছি সবটাই তো আর সরকারি হুকুম মেনে চলে না ‘ বলার সৎসাহস , মনে আছে ,
রাষ্ট্রের চোখে চোখ রেখে আপোষ ছাড়াই লিখেছিলেন ‘ রাধাচূড়া ‘ কিম্বা ‘ আপাত শান্তিকল্যান ‘ , মনে আছে ?
কবিনাম বেড়েছিল হয়ত । খুশি হয়েছিলেন কি ? নাকি এবারও বিপ্লব কে কবিত্বের মোড়কে দেখে মুচকি হেসেছিলেন ?
কে জানে ?
বাদ দিন , থাক পুরোনো কথা । অনেকে ভেবেছিলেন বুড়ো হয়েছেন । রক্ত ঠান্ডা হয়েছে হয়ত । স্বধর্ম বিরোধী দাগিয়ে দিয়েছিলেন অনেকে । মনে আছে আবারও শাসকের চোখে চোখ রেখে কলমে এনেছিলেন –
‘ রাস্তা জুড়ে খড়গ হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে উন্নয়ন ‘ ।
আপনি জানতেন, বিপ্লবের শেষ হয়না কোন গান স্যালুটে , আপনি জানতেন কিভাবে ‘ তিসরা ঝাঁকি ‘ দিয়ে সমাজকে বলতে হয় কালবুরগি ,গৌরী লনকেশ আর রক্তস্রোতে ভেসে যাওয়া ভবিষ্য দেশের কথা ।
আপনি জানতেন কিভাবে জাগাতে হয় শহরের প্রান্ত প্রান্তরের ‘ ধূসর শূন্যের আজান গান ‘ , কিভাবে স্বপ্ন দেখাতে হয় যাতে ‘ আমার সন্ততি স্বপ্নে থাকে ‘ , আপনি জানতেন ‘পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে ,পৃথিবী হয়তো গেছে মরে,আমাদের কথা কে-বা জানে,আমরা ফিরেছি দোরে দোরে ,কিছুই কোথাও যদি নেই,তবু তো কজন আছি বাকি, আয় আরো হাতে হাত রেখে ,আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি ‘।
হাতে হাত রেখে কবিতা হয় না, বিপ্লব হয় , আপনি জানতেন ।
জানেন কি সৈনিক …
অনেকে নাকি বলছে আপনার নাকি জ্বর এসেছিল ।
ওরা জানে না আপনার শরীর আজীবন তপ্ত ,অন্যায় দেখলেই ।
ওরা বলছিল অণুবীক্ষণিক জীব আপনার অন্তরে ।
ওরা জানেই না বিশ্ব সৃষ্টির সব রহস্যই মনে হয় আপনার অন্তরে , আপনার কলমের আগায় হয়ত ।
ওরা বললো শরীরের ভেতরে নাকি ক্ষয় হচ্ছে ।
ওরা বোকা , জানেই না শরীরটা আপনার কত স্রোতময় , ওরা জানেই না আপনি বলেছিলেন –