কবিতায় স্বর্ণযুগে অয়ন ঘোষ (গুচ্ছ কবিতা)

বিপরীত দৃশ্য
শোক সন্তর্পনে বেজে ওঠে বাঁশি
অ-পূর্ব!
সত্যের কথামুখ জাগে প্রার্থনার পংক্তিমালায়
চিত্রলিপির মতো আঁকা হয় সুর।
মৃত্যু আর ঘুমের মধ্যে কাঁপতে থাকা দূরত্বের মাঝে
পাথুরে চোখের দুয়ার আগলে বসে আছে বিশ্বাস।
ব্যক্তিগণ অন্ধকার প্রবল, ক্রমশঃ
ডুবে এলো স্বর, বিষাদের আরো নীচে
সার নেই, সাড়া নেই…
নকল ডাকের উত্তরে
কাকচক্ষু দর্পণে ঘুমের গোপন ইশারা
মৃত্যু, সে তো দেখার উপহাস।
সংগীত
কথামৃত সুখ। নির্জন আলো
বার্তা পাঠালো
ভেসে আসে গান, তীব্র অসুখ, অপচয়
কালোর পিছনে ভালো দাঁড়িয়ে নিশ্চয়
প্রবল প্রলয়ে মত্ত সৃষ্টি আসুরিক টান
নিজেকে ভোলালো, কান্না — অশ্রুত
ধ্বনি, বিলাপ-সকল উপগত প্রাণ
বীজের ভিতর ক্ষেত্র, রহস্য জল ও শিখার
চিন্তন আগুনে ক্ষয় তামসবিকার
শরীরে তরঙ্গ নিত্য সংসার রমন-মুখর
পথ জুড়ে পথিক দৃষ্টি রাত্রি-আকর্ষণ
দৃশ্য দৃশ্যের অতীত আহ্বান ভীষণ
এসো হে আশ্চর্য, এসো
সময় অতীত
গর্ভ জলে কাঁপে বাতাস
কালো ছিঁড়ে আসে আলোর সংগীত।
মৎস পুরান
মাছের ঘুম জলে পড়বার আগেই ভিজে এলো
পাতা। চোখ খোলা।
পাতার ওপর বসে ঘুমপাড়ানি গান, ভয় অথবা লয়।
যা ছিল আগে, এখনো আছে
মন্ত্রবৎ জাগরণ। পেরিয়ে দশদ্বার ক্রমশঃ অন্তর্মুখী
তারপর সব নিশ্চুপ, ভীষণ আলাপ
কানে কানে মনে মনে।
সেইসব দৃশ্যের পরে
আমাদের অভিনয়, সাজসজ্জা, মুখোশ নৃত্য
সবই অলীক, শৌখিন জলজ
অভ্যাসের ঘুম নেমে এলো চোখে
স্বপ্নগুলো তির্যক বঙ্কিম
চিরকালীন
ব্যাথার উপশমে ক্লান্ত অথবা মুগ্ধ। যার যেমন সয়।