গল্পেরা জোনাকি তে আশীষ গুহ

মহার্ঘ্য
একটা নাচের রিয়ালিটি-শো চলছিল। সাত বছরের ছোট্ট মেয়েটি অসাধারণ এক নাচ পরিবেশন করলো। নাচের শেষে মেয়েটিকে একজন বিচারক জিজ্ঞাসা করলেন, “এত অল্প বয়সে তুমি এতো সুন্দর নাচ শিখলে কি ভাবে?”
মেয়েটি বলতে লাগলো,” আমার মা লোকের বাড়িতে রান্না করে, বাবা অনেকদিন আগে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমি মায়ের সাথে সব কাজের বাড়িতে যাই, আমি ছোট কি না! তাই। এক আন্টির বাড়িতে নাচের স্কুল আছে, ওখানে আন্টি নাচ শেখায়। আমার খুব ইচ্ছে করে ওখানে নাচ শিখতে, কিন্তু আন্টি আমাকে নাচের ঘরে ঢুকতেই দেয় না। আমাদের তো অত পয়সা নেই! তবুও রোজ আমি মায়ের সাথে ওই বাড়িতে যাই। আন্টি যখন সবাইকে নাচ শেখায়, আমি চুপটি করে জানলার পাশে দাঁড়িয়ে উঁকি মেরে সব কিছু দেখি। বাড়িতে এসে ঠিক সেই ভাবে নাচ করার চেষ্টা করি। এই ভাবেই আমি নাচ শিখেছি”।
তিনজন বিচারক এবং উপস্থিত সকল দর্শকদের তখন চোখে জল। বিচারকরা ঘোষণা করলেন,” ছোট্ট মেয়ে ‘পরী’, তুমি অসাধারণ নাচ পরিবেশন করেছো। পরবর্তী পর্যায়ের জন্য তোমাকে নির্বাচন করলাম। আজথেকে তোমাকে আমরা ‘পরী’ বলেই ডাকবো। তুমি সব গরিব শিশুদের জন্য এক অনুপ্রেরণা, আরো ভালো করে চর্চা করো,এখনো অনেকটা পথ যে তোমায় চলতে হবে!”
পরী মঞ্চ থেকে নেমে এসে ছুটে প্রেক্ষাগৃহের বাইরে বেরিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলে,” ড্যাডি, তুমি যে রকম শিখিয়ে দিয়েছিলে আমি ঠিক সেভাবেই বলেছি। আমি সিলেক্ট হয়েছি”। বাবা মেয়েকে নিয়ে বাতানুকূল গাড়িতে উঠে ড্রাইভারকে বলে, ” তাজ হোটেলে চলো, আমরা ওখানেই লাঞ্চ করবো”।
গাড়ির বন্ধ জানালায় একটি বাচ্চা মেয়ে ঠকঠক করে শব্দ করে মহার্ঘ্য গাড়ির মেয়েটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটু খাবার চাইছে….
কাঁচের জানালা খোলেনা, গাড়ি চলে যায় ধুলো উড়িয়ে তার গন্তব্যের দিকে।
প্রেক্ষাগৃহে দারিদ্রতা যে বিক্রি হয়ে গেছে অনেক দামে! আসল দরিদ্র শিশুটি যে সেটা জানেই না!