অনুগল্পে অঞ্জলি দে নন্দী, মম

বাপের বাড়ীর নারী

দুগী তো কবে থেকেই ট্রলি ব্যাগ গুছোচ্ছে। কিছুতেই যেন আর ঠিকঠাক হচ্ছে না। এতবার ধরে বার করছে, নাবাচ্ছে আবার গুছোচ্ছে তুলছে। সব আর হয়ে উঠছে না।

ভোলে তো হেল্প করেই চলেছে। গিন্নীর মন রাখতে চুপচাপ আছে। মুখ ফুটে বলতে পারছে না যে সব কিছু ঠিকঠাকই গোছানো হয়েছে। বার বার বার আর এতো তোলপারা করার দরকার নেই।

যাক শেষমেশ দুগী বাপের বাড়ীর দিকে রওনা দিল ছেলেমেয়েদের নিয়ে।

খানিকটা গিয়ে হঠাৎই মনে পড়লো যে মোবাইল ফোনটা ড্রেসিং টেবিলের ওপর ভুলে ফেলে রেখে বেরিয়ে চলে এসেছে। কি করে এবার? উবের ড্রাইভারকে খুব করে অনুনয় বিনয় করে গাড়ী আবার ফিরিয়ে এনে ফোনটা নিল। সবার মুখেই মাস্ক বাঁধা। মর্তলোকে না হলে নাকি নো এন্ট্রি। মা, মেনকা ও বাবা দক্ষও সেরকমই নাকি মেন্টেন করছে। মাস্ক ছাড়া তারাও নাকি একদন্ডও থাকছে না। কৈলাস অবশ্য তাদের মাস্ক বেঁধে থাকতে হয় না। মা ফোন করে কি যেন সব বলেছিল, ” দুগী! এখানে করোনা নামে একটি প্রাণ সৃষ্টি করে ফেলেছে মনুষ্য। সে এখন জগতে রাজ করছে। তার দাপটে সকল মনুষ্য জাতি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আছে। এর থেকে রক্ষা পাওয়ার একটাই উপায়, তা হল সদা সর্বদা মাস্ক মুখে বেঁধে রাখা। তোরাও আসার সময় বেঁধেই আসিস। আমি এই মোবাইলে ছবিটি পাঠালাম। এইরকম করে নিজেই বানিয়ে নিস, তোদের মুখের মাস্কগুলি। ” তাই মেয়েও মায়ের কথামত ব্যবস্থা নিয়েই বাপের বাড়ী এলো।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।