সাতে পাঁচে কবিতায় অঞ্জলি দে নন্দী, মম

রস
অর্গানিক কেমিস্ট্রি লাগতো বেশ।
রসায়নের রস অশেষ।
বেঞ্জিন-ষড়ভূজ খুব মজাদার।
এলকোহল, এলডিহাইড আরও আরও
ও সবও প্রিয় ছিল।
আহা ওদের সম্পর্ক কতই না গাঢ়!
কতই সুন্দর সব সাজ-সজ্জাদার।
রসায়নের রসে ডোবা ছিল
আমার শিক্ষার্থী দিল ও।
বাস্তবের মুখামার বোবা ছিল।
গম্ভীরভাবে রসায়নের সাধনায় থাকতাম।
নিজেকে বহিঃজগৎ থেকে আলাদাই রাখতাম।
এ সব ছেড়ে সংসারে ঢুকলাম যখন
বুঝলাম বাস্তব জীবনে এ সব মূল্যহীন তখন।
নিচ যত কুটকাচালি, পারিবারিক;
ইস, কি জঘন্য! অপব্যবহারিক।
নোংরা ফাঁদে পরে কাঁদে আর সুশিক্ষা।
চাইলাম মনুষ্যত্বের ভিক্ষা।
ব্যর্থতায় ম্লান হয়েছিল তখন
আমার যৌবনে নেওয়া পরমহংস-দীক্ষা।
অনন্ত প্রয়াসে করেছিলাম শুধুই প্রতীক্ষা।
নীরবে নির্যাতন সহ্য করা ছিল যখন
আমার বাঁচার একমাত্র পথ,
আমি নিজেকে যুঝিয়ে নিয়ে টিকেছিলাম তখন।
এপথেই কেটেছিল অনেকগুলো বছর।
ডুবন্ত জাহাজের মত।
আত্ম সম্মান অন্তরে তখন
দিয়েছিল অসহনীয় মোচড়।
কোনো দিশা খুঁজে আমি পাই নি।
তবুও কিন্ত আমি নিঃশেষ হয়ে যাই নি।
আজ তাই স্ব-মহিমায় হাসে আমার আমি।
ধন্যবাদ, হে আমার অন্তর্যামী!
তুমি আমায় দিয়েছো ধৈর্য, অনন্ত।
এরই জন্য আজও আমি জীবন্ত।