T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় অমৃতাভ দে

আসিতেছেন,তিনি আসিতেছেন…
শরৎ মেঘেরা বলল আমায় ডেকে
আকাশের বুকে স্বপ্ন দিলাম এঁকে।
ভোরাইয়ের সুরে ডাকছো তোমরা যাকে
শিউলিমেয়ের সঙ্গে সঙ্গে থাকে।
আসছেন তিনি খুশির নৌকো হয়ে
শাঁখের আওয়াজ কাশফুলে দোল খায়
বাতাসের কানে চুপিচুপি বলা কথা
এমনি করেই বদলে বদলে যায়।
আসছেন তিনি সাজিয়ে তুলেছি ঘর
চেনা আলমারি না হয় বন্ধ থাক,
আসল পেতেছে তুলসী মঞ্চে কেউ
রক্তের দাগ এবার তো মুছে যাক…
তিনি আসছেন। প্রকৃতি বদলে নিচ্ছে রূপ— নাটমন্দির-বারোয়ারি সেজে উঠেছে।শিল্পী ব্যস্ত তুলির শেষ টান দিতে। ছোট্ট মেয়ে সিংহ মামাকে দেখে ভয় পাচ্ছে না আর। দশ হাতের অস্ত্রগুলোর নাম জানতে উৎসুক সে।অসুর বাবাজিকে দেখে কষ্ট হচ্ছে ওর। ময়ূর কিংবা হাঁসকে ওর খেলার সঙ্গী করতে চায়।মেয়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে-থাকা বাবা ফিরে যাচ্ছেন ছোটবেলায়।লম্ফের আলোয় ঠাকুরের চোখ আঁকতেন সাধন কাকা। এই তো সেই চেনা বন্যপাড়ার মাঠ। মেলা বসেছে। যাত্রা পালা, হরবোলা, কবিগানের লড়াই,মুখাভিনয়,লোকবাদ্যের মূর্ছনা। পুজোর দিনগুলোতে পুরো গ্রাম মেতে উঠত প্রাণের খুশিতে। আজও বারোয়ারিতলায় সন্ধ্যারতি হয়,পুজো ঘিরে উন্মাদনা একই রকম।এবার পুজোয় আবার ফিরে যাওয়া সেখানে। দশমীর দিন নৌকায় চড়ে ঠাকুর-ভাসান দেখা।নদীর ধারে অসংখ্য মানুষ। সূর্য অস্ত যাবার সঙ্গে সঙ্গে রঙমশালের রোশনায়….মায়ের বিদায় নেওয়ার পালা।
আসছেন তিনি, আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন স্মৃতির জলঙ্গির ঢেউয়ে….
নবমীর দিন বন্ধুদের সঙ্গে সীমান্তের গ্রামে ‘তাকে’ খুঁজে-বেড়ানো। কাকে বলতো? মাত্রাছাড়া সুখকে।ক্যামেরাবন্দি করা সম্প্রীতির চালচিত্রকে—- কাঁটাতারের ধার-ঘেঁষে বেঁচে-থাকা একরাশ চলমান ভালোবাসাকে।
মহাষ্টমীর সকালটা কাটবে শঙ্কর মিশনের ‘হই হই’ দলের খুদে প্রতিনিধিদের সঙ্গে। বাপ-মা হারা সেই সব ছেলেও জানে, তিনি আসিতেছেন…. ওরাও আনন্দ দিতে জানে, উপহার দেয় অনেক অনেক মজা, তিনি আসছেন বলেই আমরা পৌঁছাতে পারি ওদের আনন্দনিকেতনে।
সন্ধিপূজার মুহূর্তটা কাটবে, কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে। আজও রাজরাজেশ্বরী সেখানে তার ঐতিহ্য, ঔজ্জ্বল্য নিয়ে হাজির হন। ঝাড়বাতির আলোয় খসে-পরা পঙ্খের কাজ দেখতে দেখতে অতীতের পথে হেঁটে যাওয়া…। সন্ধিপুজোতে আর তোপধ্বনি শোনা যায় না ঠিকই কিন্তু প্রদীপের শিখায় আজও পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসার সেতু রচিত হয়….জন্ম হয় নতুন ইতিহাসের।
তিনি আসছেন। উল্টে যাচ্ছি সময়ের পাতা। গাইতে ইচ্ছে করছে, ‘আমরা সবাই রাজা…’। তিনি আসছেন, তাইতো অসহায়,অসমর্থ পরিবারটিও নতুন জামার গন্ধ পায়, পায় আদর। তিনি আসছেন, নিয়ে আসছেন সহানুভূতির স্পন্দন। সপ্তমীর দিনটা না হয় সেই কাজেই সামিল হব।
আমার পুজো পরিক্রমায় তুমি আমার সঙ্গে সঙ্গেই থাকবে…
হাত ধরাধরি করে নিশ্চয়ই পৌঁছে যেতে পারবো সকলের মনের মন্দিরে…
আসছেন তিনি উলুধ্বনিতে ঝলমল আলো হয়ে
আসছেন তিনি সবার জীবনে নতুন ছন্দ-লয়ে…