T3 || আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস || বিশেষ সংখ্যায় আবীর চক্রবর্তী

ভাষা-দ্বন্দ::মন-অলিন্দ
একটা বিজন মনঅলিন্দ হয়তো সব মনেরই থাকে
আটপৌরে বারান্দা নয়,মন-অলিন্দ ডাকি তাকে।
মনে মনে লুকিয়ে থাকে,জীবনভ’র আগলে রাখে।
সে অলিন্দে হাত বাড়িয়ে হঠাৎ যেন স্বপ্ন ছোঁওয়া
বিনিসুতোয় গাঁথা মালায়,হঠাৎ যেন উদাস হ’ওয়া
মেয়ের মত আদর নিয়ে,মায়ের মত সোহাগ দে’য়া।
সে অলিন্দে দুগ্গা-অপুর চিরকালীন হুটোপুটি
শশী-কুসুম মনন-দ্বন্দে, শরীর-মন লুটোপুটি
কখনও ছেড়ে, কখনও ধরে,অঙ্গাঙ্গী মাতামাতি।
প্রহরশেষে প্রায়ান্ধকার,যখন ভীষন ক্লান্তি নামে
চেনা-অচেনা সংঘাতেরা ঘিরে দাঁড়ায় ডাইনে-বামে
তখন সেই অলিন্দময় আখরমালা উড়তে থাকে
আশৈশবের প্রিয়সঙ্গী বর্ণমালায় জড়িয়ে রাখে,
আশ্রয় আর শুশ্রূষা-সুখ মাতৃময়ী ভাষার পাকে।
তারসঙ্গে যোগ তো নেই নিত্যকার চাওয়া-পাওয়ার
ব্যস্ত যাপন,না-আয়োজন,কুক্ষিগত জীবনজোয়ার
সে কেবল গোপন সুখে,একাএকা হারিয়ে যাওয়ার
স্তন্যপায়ী শিশুর সুখে,আপন ঘরে আপনি ফেরার।
মায়ের ভাষা, মাতৃভাষা সেই সুক্ষণে ভাঙে দুয়ার
চিরন্তনী সুধাপরশে আঁধার পারে দীপের বাহার…
তাকে তাই রক্ষা করো মায়ের মতো,মেয়ের মতো
বিনা আয়োজনের গীতে এ সুর হোক প্রতিষ্ঠিত।