টিকটিকি বলল,
চুপ করে আছ যে !
শেয়াল বলল,
তুমি বিদ্যের জাহাজ জানি টিকটিকি কিন্তু আমি চালাক শেয়াল । আমার বাচন ক্ষমতা সকলকে মোহিত করতে পারে ।
টিকটিকি জানে তা শেয়াল অতি ধূর্ত ও ক্ষমতালোভী । একেবারেই সৎ নয় । এছাড়া যা বলে তার মধ্যে হিতকর বার্তা খুব কম থাকে । সময়টা চোখের সামনে দিয়ে বদলে যাচ্ছে ।
টিকিটিকি সামান্য দুঃখ পেল । এবার সে বলল, অ্যারিস্টটল সাহেব হচ্ছেন গণতন্ত্রের কথা প্রথম বলেন ।
শেয়াল হুক্কা হুয়া করে উঠল । এতে নন্দ-মাস্টারের মন সংযোগ ব্যাহত হল । তিনি রেগে গিয়ে বারান্দার বাইরে এসে দেখলেন তার বাড়ির দিকেই মুখ উঁচিয়ে একটা শেয়াল হুক্কা হুয়া ডাক ছাড়ছে ।
নন্দ মাস্টারের ভূতের ভয় নেই কিন্তু বেড়াল, পাখি, কুকুর, শেয়াল – এদের সবাইকে তিনি ভয় পান । এই কারণেই তিনি এদের ঘাটান-না । শেয়াল এটা জানে । সে সামান্য সরে গেল কিন্তু ভয় পেল না । নন্দ – মাস্টার বরং ভয় পেয়ে শোওয়ার ঘরের দিকে চলে গেলেন । নীল লাইট নিবিয়ে দিলেন । অন্ধকারে শেয়ালের চোখ দুটো আরো বেশী জ্বলজ্বল করে । ফলে টিকটিকির দেখতে অসুবিধে হলনা ।
শেয়াল এবার গলা নামিয়ে বলল –
এতো শক্ত করে বলো না তো ! আর তোমার হেঁয়ালিও সবসময় ভালো লাগে না । মানুষের গণতন্ত্র মানে ভোট । বাপ-রে – আমি একবার যা বাঁচান বেঁচেছিলাম ।
টিকটিকির এবার হাসি পেল । শেয়াল ব্যাটা তবে কোনদিন জব্দ হয়েছিল ।
বলল, কি হয়েছিল !
আরে বাপু, বক্সিপুরে গেছুলুম অনেক কষ্টে এক ভোজবাড়িতে । রাতে পথে ডাকাতের খপ্পরে পড়ব বলে ফিরলুম না । ডাকাতপোতার মাঠে একটা স্কুলে ঘুমুচ্ছি – হঠাৎ এলো ভোটকর্মীর দল । সেকি আওয়াজ তাদের, সব যেন নবাব-বাদশা । এমন রান্না হল যে জিভে জল চলে এলো ।
টিকটিকি বলল,
তোমার নোলার কারণেই তুমি বিপদে পড়ো ।