T3 || ঘুড়ি || সংখ্যায় অলক্তিকা চক্রবর্তী

সেইসব ডাক

কতটা রং বদল ভাবতে ভাবতেই দিনের পারাপার।

দিক সংক্রান্তির কথায় উঠে আসে আঁচ।
যে ছাঁচে বানিয়েছো জীবন, গড্ডালিকায় দোসর হাঁসফাঁস ।আয়ু আর আয়নায় বিনির্মাণ পর্ব চলতে চলতেই তো ব্যাহত সংবেদন।

সে অনুভূতিপ্রবণ মানসিকতা যেন জানতেও পারে না সুদী….র্ঘ জলচল কোথায় কীভাবে গিয়ে মেশে। কীভাবে রাত কথা লিখে রাখে মন কোষে কোষে।আঙুলের ফাঁকে গড়িয়ে যাওয়া সময়। কোথায় কোন আকাশ ভেঙে পড়লেও, কোজাগরী আজও নিয়মের বসত করে।

ছন্দে ফিরি …

এখনো সেই সব ডাক,সেই ‘অরুণ বরুণ কিরণমালার’ আখ্যানই যেন ।
কোথায় কোজাগরী ডাক দেওয়া বিভোর উদাসীনতা ও জড়াজড়ি। সাথে বকুল পারুলদের ভিড়ে রোশনাই চূড়ো হয়ে উড়তে না উঠতেই সে সৌহার্দের গোড়ায় টান। মুখেই শুধু কুলুপ নয় আকাশে বাতাসে ও। আকারে প্রকারে ভেজা মনখারাপ আজও বয়ে বেড়ায় পড়ন্ত রোদ ।

ভীষণ এক মনকেমনে তাকে অন্তরঙ্গের গান শোনাতে তো আসবে না কেউ ।আর কেউ তো কাজললতা খুলে তাকে কাজল পরাবে না ।আদর, নজর লাগা টিকার দোরগুলো তো কবেই…।

এবার তবে একটা খোলা মন খারাপের কথায় আসা যাক।
‘তেঁতুল পাতায় নজন’ যেমন , ঠিক তেমনি আলগা বসত গড়ার ঢেউ। সে ও না বুঝেই ‘ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে’ সংলাপ। কথায় কথায় কত চিল- চিৎকার,কিলচড়,উপেক্ষা করে জিতে নেওয়া জীবন যন্ত্রণা ।অতি ব্যবহৃত দীর্ণ অন্তরঙ্গ বেজে ওঠা ঘোরে সে রঙিন আলপনা ,আঙুলে ইকড়িমিকড়ি। কোজাগরী জ্যোৎস্নায় নবকলেবর।

সংক্রান্তির ধার বেড়ে যেতে না যেতেই তো টুপটাপ শিউলি আকাশ আবার .. আবার।

শরৎকাল মানেই তো ‘মা’। আর ছোট্ট ছোট্ট আঙুলে ধরতে চাওয়া সেই নরম বরাভয় কোল।আদুরে দিঠি টানে কেমন উঠে আসা ছেলেবেলা ।
বৈষ্ণবী শিরোনাম ,চন্ডীতলা,নাম সংকীর্তন আসর অষ্টপ্রহর,তিলতুলসী গঙ্গাজল। অহর্নিশ সেই হরি তলায় লুটের বাতাসারাও উড়ো খই হয়ে।না, সে কোনদিন একটাও পায়নি। সব অন্যেরা দৌড়ে দৌড়ে ,কদাচিৎ কখনো কোনো ফাঁকফোকর গলে পড়ে পাওয়াটুকু কুড়িয়ে বাড়িয়েই কেটে যাবে দিন, একথাই সে ভেবেছিল।

হঠাৎ ছন্দপতন। স্রোতের পালে বাতাস। ঢেউ হয়ে উঠে আসা পরিনাম আর শালিক নাকি অলীক জীবন?
‘হাতে হাতে মুখে মুখে’ ছেলেবেলায় দিদিমার মুখে সোনা এমন একটা কথায় সে সায় দিতে দিতেও তখন থেমে যেত। এমনটাও হয়! এমন বৈরগীবেলায় সেই নবীন শালপিয়ালের দিন!
কে… কোথায়… কোন ছেলেবেলা পেরিয়ে উঠে এলো ?

‘হ্যাদে ও নন্দরাণী,তোমার শ্যাম কে সামলাও’, সে যে অধীর, আকুল, ছটফটে।শুধু শুধুই মায়ের কোলপোঁছা। বায়বীয় ক্রিয়াকৌশল যত,ততোখানি মেনে না মেনে কেমন যেন এলোমেলো। শুধুই ‘মা’ ,’মা’ ডাক ।কাঁদলে …হাসলে …খেললে… অষ্টপ্রহর এই নামজপ।

এর নিদান কি ? সেই ‘মা’ কে?…সে নিজে…! এভাবে . ..চেতনাকে ধরে টানাটানি ! সে কি আঙ্গুল দিয়ে আসলে দেখাতে চায় তার ভেতরখানা ?

চমকে উঠি …,
ব্রহ্মাণ্ডের অজস্র ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবকূলে সে তো নেহাতই এক যৎসামান্য নাঃ কিচ্ছু না। তবে… তবে কি ? এই ‘তবে’টাই কি অনেক কিছু ?

ভরা না ভার কোন পায়ে আজ মাথা রাখবে তুমি জীবন? বলো… বলে দাও।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।