সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে অভিজিৎ চৌধুরী (পর্ব – ৬৭)

না মানুষের সংসদ

হুলোকে শেয়াল আর তার দলবল খুন করেছে ।
জ্ঞানী পেঁচা বলে উঠল,
মর্মান্তিক ।
টিকটিকি উচ্চ-স্বরে রোদন করতে থাকল । সে আর হুলো দীর্ঘদিনের সুহৃদ ।
নন্দ-স্যার বললেন, এখন কাঁদার সময় নয় । আজকের রাতের মধ্যেই নির্বাচন শেষ করতে হবে ।
পেঁচা তীক্ষ্ণ আওয়াজ বের করল । ওই ডাকে প্রথম সাড়া এলো ভুতুম । ‘ভুতুম, ভুতুম’ । দেখতে দেখতে সবাই সাড়া দিল ।
নন্দ-স্যার টিকটিকির দিকে তাকিয়ে বললেন,
ভালো করে ভেবে দেখো – খুব দ্রুত নির্বাচনে যাব কিনা !
টিকটিকি বলল-
স্যার – আমার পিতামহ বলেছিলেন আমাদের বংশের বদনাম তোকেই ঘোচাতে হবে । ব্রিটিশ আমলে পুলিশের চরকে টিকটিকি বলত । এই দেশের  জল-হাওয়ায় লালিত হয়ে আমরাও তো চেয়েছিলাম স্বাধীনতা । তোর প্রপিতামহের চোখের জল কি কম পড়েছে । যখন একের পর এক বিপ্লবীরা ধরা পড়েছেন ।
নন্দ-স্যার বললেন,
গণতন্ত্র তোমার ব্যক্তিগত অভিমানের জায়গা নয় । তুমি শুরু করেছিলে – এই কৃতিত্ব পরে নাও পেতে পারো । স্বার্থ নিয়ে চললে মানুষের হিংসার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে না ।
জ্ঞানী পেঁচা গলা ফুলিয়ে সমর্থন জানাল ।
নন্দ-স্যার বললেন,
এছাড়াও অন্য সিস্টেমের কথা একদম বলা হল না ।
চশমা-পাখি বলল,
চীন দেশে সমাজতন্ত্র রয়েছে । বামপন্থীরা সেখানে শাসন করে ।
নন্দ-স্যার বললেন,
ঠিক ।
চশমা-পাখি তখন ফিক করে হেসে দিল ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।