আগের পর্বগুলিতে মহানগরীর কোম্পানীর আমলে প্রতিষ্ঠিত রোমান ক্যাথলিক গীর্জাগুলির কথা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পর্তুগীজ নয় এরকম বেশ কিছু রোমান ক্যাথলিক চার্চ ও কোম্পানী শাসিত কলকাতায় নির্মিত হয়েছিল।
এই ধরণের অন্যতম চার্চটি হল মিডলটন রোডের সুবিখ্যাত লোরেটো হাউস স্কুল এবং কলেজ সংলগ্ন St. Thomas Church. ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে এই চার্চটি স্থাপিত হয়েছিল। রেভারেন্ড Carew চার্চটির শিল্যান্যাস করেন। চার্চ নির্মাণের অনুদান সংগৃহীত হয় পাবলিক ফান্ড থেকে। গীর্জার অন্যতম অর্থদাতা হিসাবে John Lackersteen – এর নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ১৮৪২ খ্রিষ্টাব্দে চার্চ নির্মাণকার্যের তত্ত্বাবধায়ক হন Charles Robert Lackersteen. এই চার্চ এবং সংলগ্ন লোরেটো কনভেন্ট এর জমি অষ্টাদশ শতকের বাংলার গভর্নর হেনরি ভ্যান্সিটার্ট এবং সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি স্যার এলিজা ইম্পের মালিকানাধীন ছিল। ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে বিশপ Hiber এই জমি নিজ বাসগৃহের জন্য অধিকার করেছিলেন যা পরে রোমান ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী দের মঠ, বিদ্যালয় ও গীর্জার জন্য গৃহীত হয়।
অন্যান্য রোমান ক্যাথলিক গীর্জার মতই এই চার্চটিও বহু রঙ্গীন ধর্মীয় শিল্পকার্যমণ্ডিত। প্রবেশপথের দুই পার্শ্বে সেন্ট পল এবং সেন্ট পিটারের বিশাল আকৃতির সুগঠিত মূর্তিদ্বয় ভ্রমণকারী দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মর্ম্মর বেদীর পশ্চাতের বাতায়নগুলি রঙ্গীন কাঁচের দ্বারা সজ্জিত। সূর্যোদয়ের সময় পূর্বদিকের জানলা পথে সূর্যরশ্মি প্রার্থনাকক্ষে ওই রঙিন কাঁচের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করলে এক অপূর্ব শিল্পসুষমার সৃষ্টি হয়। যিশুর জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় সংক্রান্ত ভাস্কর্য তিনটি স্তরে চিত্রিত হয়েছে। সর্বাপেক্ষা উপরের প্যানেল ঈশ্বর দুই পার্শ্বে দুই দেবদূত দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে যিশুখ্রিষ্ট কে নিজ পুত্র রূপে ঘোষণা করছেন। মধ্যস্তরের প্যানেলটি খ্রীষ্টের ক্রুশবিদ্ধ হবার দৃশ্যায়ন করছে। তৃতীয় প্যানেলে রয়েছে যিশুর শেষ নৈশভোজ অর্থাৎ লাস্ট সাপারের দৃশ্য। একই দিকেদুটি বৃহৎ তৈলচিত্র Issaque ও Pascal Lamb এর আত্মবলিদানের দৃশ্য অঙ্কন করেছে। যিশু এবং মেরীর দুটি মূর্তিও এর পার্শ্বে প্রার্থনাকক্ষকে আলোকিত করেছে। এ ব্যতিরেকে আরো বেশ কিছু মর্ম্মর স্মৃতিফলক প্রার্থনাককক্ষের চারিধারের দেওয়ালে সজ্জিত আছে।
৭ নম্বর মিডলটন রোডের এই রোমান ক্যাথলিক সেন্ট থমাস চার্চটি একটি ঐতিহ্যবাহী সুউচ্চ শিখর সমন্বিত যার সংলগ্ন রয়েছে টাওয়ার ক্লকটি। এই ঘড়িটি মধ্য ভাগে চারটি ক্ষুদ্র করিন্থিয়ান স্তম্ভ র সহায়তায় স্থাপিত। সব মিলিয়ে পার্ক স্ট্রীট এলাকার এই ঐতিহাসিক গীর্জা উল্লেখযোগ্য শিল্পবস্তুর সমাহারে সমৃদ্ধ।