সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উপন্যাসে অভিজিৎ চৌধুরী (পর্ব – ৫০)

না মানুষের সংসদ
শ্রোত্রিয় বলল,
স্যারের ঘরে এক টিকটিকি থাকে । সেই নাকি যতো নষ্টের গোড়া । সে-ই প্রথম নন্দ-স্যারের সঙ্গে কথা শুরু করে ।
হাসল চিত্রলেখা ।
হেড স্যার এখন কি করছেন !
নন্দ-স্যার কিন্তু অংক, বিজ্ঞান কিছুই ভোলেননি । পদার্থ-বিদ্যায় তিনি তো অসাধারণ । কিন্তু মুখে কথা নেই ।
কেন ?
আমার সঙ্গে একদিন কথা বলেছেন ।
তোকে তো খুব ভালোবাসে ।
স্যারের ধারণা – অতীন্দ্রিয় জগতের সঙ্গে সংযোগ, মানুষের সঙ্গে কথা বলায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ।
চিত্রলেখা বলল,
ওর বাড়ির লোককে খবর দেওয়া হয়নি !
হয়েছে । স্যারের বউ আর ছেলে আসছে । আমাদের এখন অন্য ভয় করছে ।
কী ?
স্যার – বউ, ছেলেকে চিনতে পারবেন তো !
কেন রে !
অনেককেই তিনি এখন চিনতে পারছেন না । আমাদের পঞ্চায়েত প্রধান দেখা করতে গেছিলেন – নন্দ স্যার চিনতে পারেননি । শুধু বলছিলেন গিরগিটি ভায়া কেমন আছো ?
চিত্রলেখা হাসিতে ফেটে পড়ল । বিমানও দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে ওপরে উঠে এসে সব শুনল । বিমান শুধু বলল, মনকে এসব বলিস না । মনও তো দিন-রাত পক্ষীরাজ ঘোড়ার সঙ্গে কথা বলছে ।
শ্রোত্রিয় চলে যেতে ওরা মনের কাছে এলো । মন জানালার বাইরের আমগাছটার দিকে ইংগিত করল । ‘ও গাইছে’ ।