গাছের সঙ্গে বেঁধে আমায় প্রায় আধমরা করে তবে ছাড়ল । কোন অন্যায় ছিল না আমার । পরের দিন সকালে আমি কোনক্রমে পালিয়ে এসেছিলাম ।
টিকটিকি বলল,
তাই বলে ওদের কারণে সংসদীয় গণতন্ত্রকে অস্বীকার করা যায় না ।
শেয়াল বলল,
তুমি ভাই সুখি জীব, মানুষের আশ্রয়ে বাস করো । ওদের অনেক অভ্যেস তোমার মধ্যেও রয়েছে । কিন্তু মানুষই আমাকে ‘পণ্ডিত’ সম্মাননা দিয়েছে আর এই গণতন্ত্র আমিও খানিকটা জানি । তবে সবার আগে সংবিধান রচনা করতে হবে এবং পোকামাকড়েরাও যাতে বোঝে সেই ভাষায় ।
এই শেষটুকুর মধ্যে শেয়াল টিকটিকিকে খানিকটা খোঁচা দিল ।
টিকটিকি মাথা নেড়ে বলল,
হ্যাঁ ।
শেয়ালের কথার অন্তর্নিহিত অর্থ টিকটিকি বুঝতে পেরেও বিতন্ডার মধ্যে গেল না ।
শেয়াল বলল,
তুমি তো এখন ঘুমুতে যাবে!
দেওয়াল – ঘড়ির দিকে তাকাল টিকটিকি । রাত সাড়ে ন-টা । হাই উঠছে ওর ।
ঠিক বলেছ ভায়া, আমার ঘুম পাচ্ছে । আমি তো ভোর চারটেয় উঠি । নিশির শিশিরে চান সারি সাড়ে চারটের মধ্যে ।
শেয়াল বলল,
আমার পাকস্থলীর আকার অনেক বড় । সারা রাত জাগতে হয় । নদীর চরেও যাব । গভীর রাতে আমার খাবার সংগ্রহ করতে হয় । ভোরেও ৫টার মধ্যে উঠি । দিনের বেলায় তো আমার বেরুনোর উপায় নেই ।
টিকটিকি বলল,
এতো কম ঘুম স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর । অন্তত ৬ ঘণ্টা ঘুম দরকার ।
তুমি বরং ঘুমোও । আর সংবিধান লেখককে খুঁজে বের করো কারণ ভোরের পাখিদের মধ্যেই লেখক, কবিরা থাকে ।