সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে অভিজিৎ চৌধুরী (পর্ব – ৭৪)

না মানুষের সংসদ

রবিন আর্টকে ডাকা হল পরের দিন । কালো ফুটকির এলেম আছে বেশ । এছাড়াও সে যা বলল তা শুনেই ‘হাঁ’ হয়ে গেলেন নন্দ-স্যার । না-প্রাণিদের নির্বাচন নতুন কিছু নয় । সে নাকি সিংহল, ব্রম্ভ্রদেশেও এই নির্বাচন পত্র তৈরি করতে গেছিল । বিশেষ খ্যাতিও ইতিমধ্যে অর্জন করেছে ।
ডাক পড়ল শিল্পীর । পলাশিপাড়ায় শিল্পী বলতে সোমনাথ । তবে তার আঁকার তেমন সমঝদার নেই বলে ইদানিং সে ক্যামেরা নিয়ে ফটো তুলে বেড়ায় ।
এতো এতো সবুজ বটুয়াতে তাকে দুই প্রার্থীর ছবি আঁকতে হবে ভেবে সে ঘাবড়ে গেল । এছাড়াও হাতে সময় দু-দিন ।
সে তখন বলল,
রবিন-আর্টকেও লাগবে ।
রবিন আর্ট সাইন বোর্ড লিখে বেড়ায় । তবে তাদের একটি স্থায়ী কীর্তি ‘মুক্তধারা’ মঞ্চ ।
নন্দ-স্যার পাঁচ কান করতে চাইছিলেন না কিন্তু হয়ে গেল খানিকটা ।
মনোনয়ন পর্ব শেষ হল । দ্বি-পাক্ষিক লড়াই । টিকটিকি ও মা-হাঁস ।
সবুজ বটুয়ায় আঁকা হল টিকটিকি ও মা-হাঁসের আলাদা আলাদা ছবি । মুক্তধারা মঞ্চের পেল্লাই টেবিলে রাখা হল ভোটবাক্স আর ব্যালট পেপার । দুটোই সুদৃশ্য ।
মানুষদের মধ্যে রইল নন্দ-স্যার ছাড়া ইন্দ্র, সোমনাথ, শ্রোত্রিয়, কান্তু আর পল্টন । যেহেতু বাবুই এবং কালো ফুটকি ভোটবাক্স এবং ব্যালট পেপার তৈরি করেছে তাদের ভোটদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হল । কালো ফুটকি পলাশিপাড়ার না-মানুষ নাগরিক নয়, এছাড়াও সে পেশাদার কর্মী । তেমন কিছু মনে করল না । আর বাবুই শিল্পী –  ভোট, গণতন্ত্র এসব ভালোবাসে না । ফলে নিজের শিল্পকর্মে স্বীকৃতি পেয়ে সে বেশ আহ্লাদিত রইল তার দলবলকে নিয়ে ।
দীর্ঘ লাইন পড়ল ভোটদান পর্বে । তবে ওরা মানুষের চেয়ে অনেক সুশৃঙ্খল । পুলিশ ডাকতে হলনা । মাত্র দু-ঘণ্টায় ভোটপর্ব সমাপ্ত হল ।
আধঘণ্টা বিরতির পর গণনা শুরু হল । টিকটিকি বা মা-হাঁস কারুর কোন উদ্বেগ নেই । পরস্পরের সঙ্গে গল্প করছে । শিষ্টাচার, সৌজন্যের অভাব নেই ।
বিপুল ভোটে জয়ী হল টিকটিকি । প্রধানমন্ত্রীও সে-ই নির্বাচিত হল ।
মন্ত্রীসভা গঠন খুবই জটিল প্রক্রিয়া । এছাড়াও সংবিধানের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ । তবুও নন্দ-স্যার সর্বসম্মতিক্রমে অস্থায়ী মন্ত্রীসভা টিকটিকির পরামর্শ নিয়ে গঠন করলেন ।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!