আজকের লেখায় অমিতাভ ভৌমিক

কলকাতা আর স্বামিজী

১৮৯৭ খ্রীষ্টাব্দ, কলিকাতা তখনও ভারত সাম্রাজ্যের রাজধানী, পশ্চিম বিশ্ব জয় করে স্বামীজী ; কলিকাতাবাসীকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সাধ্যাতীত বলেও বলেছিলেন, এ রূপ পারিবারিক বন্ধন, এরূপ সম্পর্ক, এরূপ ভালো বাসা আমাদের মাতৃভূমির চতুঃসীমার বাইরে আর কোথাও নাই।’
সেদিনের রাজধানীর তকমা হারিয়ে, সময়ের চাকায় ঘুরে ২০২১এ কলকাতা আজ ; দিদির অনুপ্রেরণায়, যথেচ্ছ বিজ্ঞাপিত ব্র্যান্ড ‘বিশ্ববাংলা’। এই সময়ে ফিরে এলে নীল সাদা কনভয়ে তিলোত্তমা শহরের বুকে চিরে যাবার সময় বড় বড় বিলবোর্ডে তাঁর প্রেরনার উৎস দেখে প্রেস কনফারেন্সে কি বলতেন স্বামী বিবেকানন্দ তা ভাববার বিষয়।
তার ওপর প্রোটোকল ভেঙ্গে সেল্ফীর
অনুরোধ সামলানো…!
গেরুয়া ড্রেসকোড নিয়েও সমস্যা হত হয়ত। হিন্দু দেশের হিন্দু ভ্রাতা বলে সম্ভাষণে জল্পনার ঝড় উঠতো চারপাশে। খাপখোলা তলোয়ারের অসাধারণ বাগ্মিতা কত নেতা নেত্রীকে এ ফোঁড় ও ফোঁড় করে যেত কল্পনা করতে কষ্ট হয়।
অবক্ষয়ের ছাপে মলিন এই বর্তমান সমাজে তাঁর আদি অকৃত্রিম চিন্তাধারা আজো তাঁকে কালজয়ী সেলিব্রিটি স্ট্যাটাস দিতে পারেনি। জন্মদিনটা সরকারি ছুটি ঘোষণা হয়নি পর্যন্ত।
তাই দানতহবিলে রুটিন দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে মাল্যদানের পরে উৎসবে সামিল কোনো নব্য নেতার অবাক প্রশ্ন, “এই সাধুটা কে রে!?”
জবাবে পাশের মানুষ বলে , আরে ঐ যে, সেই যে, বলনা…”,
” ছাড় , পূজো সেস কাঁটা লাগা- টা চালা। “
ইন্টারনেট ডেটা এখন চারিদিকে ছয়লাপ। গুগল থেকে নেয়া, হোয়াটসঅ্যাপ এ ফরোয়ার্ডে, কারো ডিপি তে, আ্হা আহা অহো —
স্বামীজী এক দিনের জীবন পাবেন।
তবু, এই সন্নাসী রাজা আজও অনেকেরই মনে পূজিত হবেন নীরবে নিভৃতে গভীরে, কি দেশে কি বিদেশে। আন্তরিক শ্রদ্ধা সহকারে।
কিন্তু বাংলার তরুণরা কি তাতে সামিল? ভাববার বিষয়।
আফটার অল, কলকাতা তো এখন বিশ্ববঙ্গ।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।