অথ শ্রী উপন্যাস কথায় আরণ্যক বসু (পর্ব – ২৫)

শালজঙ্গলে বারোমাস ছয়ঋতু
একটা ফোন,কথার পিঠে কথায় ,
পাগল ফাগুন যে সর্বনাশ রটায় ,
কৃষ্ণচূড়া তো কী অবাক হিংসুটে !
কাঁপা দিগন্তে পলাশ উঠছে ফুটে…
উন্মনার ফোনটা তিন তিনবার বেজে গেলো , হ্যালো বললো না। অমলেন্দুর মাঝবয়সী কপালে যেন কেউ দুশ্চিন্তার আলতো তুলি বুলিয়ে দিলো।বাইরের পৃথিবী থেকে একটা সোঁদা গন্ধ উঠে আসছে। ফাল্গুনের আকাশ থেকে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ার শব্দ। অসময়ের বৃষ্টি,তবুও যেন ঘনিয়ে ওঠা গরম কিছুটা কমিয়ে দিলো। কোন ছোটোবেলায় বাবার মুখে সে শুনেছিলো , অল্প বয়সে বিধবা হয়ে যাওয়া বাবার এক পিসিমা , অসময়ে ঝরা বৃষ্টির রাতে , তাঁর গন্ধরাজ ফুলের মতো সাদা থান আর ফুটন্ত গোলাপ কুঁড়ি হৃদয় নিয়ে অতুলপ্রসাদের গানে ডুবে যেতেন। শুধু কন্ঠ নয়,তার চোখের পাতায় লেগে থাকা বৃষ্টিবিন্দুও যেন গেয়ে উঠতো–
গগনে বাদল,নয়নে বাদল,জীবনে বাদল ছাইয়া,এসো গো আমার বাদলের বঁধু ,চাতকিনী আছে চাহিয়া…
ছোটোবেলায় বোঝেনি , বোঝা সম্ভবও ছিল না ; আজ এই মুহূর্তের ফাগুন বৃষ্টিতে হাতের মুঠোয় আঁকড়ে ধরা ফোনটার দিকে তাকিয়ে , অমলেন্দু বুঝতে পারলো — অপেক্ষা কখন প্রতীক্ষা হয়ে যায় ! মুহূর্ত কখন দীর্ঘায়িত হতে হতে , আকাশের মতো বিশাল হয়ে যায় ! অমলেন্দু চিৎকার করে বললো– ফোনটা ধরো উন্মনা। অগোছালো বাগানের শুকনো পাতার ওপর ঝরে পড়া বৃষ্টি বললো–ফোনটা ধরো । লুচির মতো দেখতে ভিজে পলাশের পাতা বললো–ফোনটা ধরো। শ্রেষ্ঠ কবিতা থেকে মুখ তুলে প্রেমেন্দ্র মিত্রের কবিতার পাতা বলে উঠলো–ফোনটা ধরো উন্মনা। ঋতুরাজ বসন্ত ফাগুনের রাজবেশ খুলে নীলনির্জনে বলে উঠলো– ফোনটা ধরছো না কেন উন্মনা ?
ঠিক সেই সময় বৃষ্টির শব্দ ও গন্ধ ছাপিয়ে, ফোনটা বেজে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে রাত এগারোটা উনচল্লিশ মিনিট সাতচল্লিশ সেকেন্ডের গোটা জঙ্গলমহলের দুনিয়া যেন চিৎকার করে বলে উঠলো–উন্মনার ফোন ,উন্মনার ফোন,উন্মনার ফোন…
কী আশ্চর্য ! যতটা আবেগ নিয়ে কথা বলবে ভেবেছিলো , ততটা পারলো না অমলেন্দু। বয়স্ক কন্ঠস্বর হঠাৎ ভিজে বারুদের স্তুপ হয়ে জিজ্ঞাসা করলো–ফোনটা কি সাইলেন্ট মোডে ছিলো ? উল্টোদিকের কন্ঠস্বরটিও কাঁপা কাঁপা– হ্যাঁ মানে , সন্ধে থেকে একটা ফোন বড্ড বিরক্ত করছিলো । তাই ফোনটাকে চুপ করিয়ে দিয়েছিলাম। স্কুলের একটা প্রশ্নপত্র তৈরি করছিলাম। সরি স্যার ,ক্ষমা করে দিন। অপ্রস্তুত অমলেন্দু নিজেকে বোঝাবার চেষ্টা করলো। অন্যপ্রান্তের মানুষটার হৃদয় যেন মনে মনে বললো — গলার স্বর যে ‘আপনি’তেই অভ্যস্ত হয়ে আছে এখনও পর্যন্ত, কী করবো ?
তবুও অমলেন্দু প্রাণপণ চেষ্টা করে বললো –তুমি, মানে আপনি , এতদিন ফোন করেননি কেন ? প্রলয় , শুভব্রতর সঙ্গে কথা বলেছেন এর মধ্যে ? আমাদের চারজনের তো একবার বসা দরকার। আমাদের পুরো প্ল্যানটা আপনার মনে আছে তো ? মার্চের মাঝামাঝি আমরা কোথাও বসবো। আর এপ্রিলের মাঝামাঝি নতুন বাংলা বছরের শুরুতে আমার বাড়ির উঠোনেই সবাইকে ডাকবো একটা কবি সম্মেলনে। সেখানেই , নতুন প্রজন্মের কবিদের কাছে , কবিতার আশ্রয় গড়ে দেবার কথা ঘোষণা করবো । হ্যালো, হ্যালো… আপনি কী শুনতে পাচ্ছেন ? কোনো উত্তর দিচ্ছেন না তো ? এবার ও প্রান্ত থেকে চুড়িভাঙা শব্দের মতো হাসি । হ্যালো , আমি একজন খাঁটি কবিতাপাগলের জন্য আজ সন্ধ্যায় যে নারকেল নাড়ুগুলো বানিয়েছি ,তার টাটকা গন্ধটা পাঠিয়ে দিচ্ছি । সেই পাগলটাকে আমার , তুমি বলে ডাকতে খুব ইচ্ছে করছে । সেই ভীষণ গম্ভীর মানুষটাকে আমার বলতে ইচ্ছে করছে–
হ্যালো , মিস্টার তুমি ,আমার নারকেল নাড়ু খাওয়ার জন্য একদিন দেখা করা যেতে পারে ? আমার সেই মিস্টার তুমি , নিজেকে কবি বলে না ভাবলেও ,আমার হৃদয় সরোদের আলাপ হয়ে বলে — সে কবির অন্তরে কবি। আমি তাই বাকি জীবনটা তাকে কবি বলেই ডাকবো । আমি এই বাদল ঝরা রাতে শুধু তার কাছে জানতে চাই–আমার মনে গত বেশ কয়েকদিন ধরে তুমি শব্দটা যেমন পাহাড়ি ঝোরার মতো তরঙ্গ তুলেছে, তেমনি তাঁর অন্তর-ধ্বনিও কি তাই বলেছে ? হ্যালো মিস্টার তুমি ? অমলেন্দু এতক্ষণ যেন শিকড়হীন হয়ে পায়ের তলার হারানো মাটি খুঁজছিলো ; শেষ পর্যন্ত ঘোর-বেঘোর কাটিয়ে খড়কুটোর মতো তুমি শব্দটাকেই আঁকড়ে ধরলো–হ্যালো ,তুমি ম্যাডাম ,হ্যালো আমার তুমি ,এতটা আবগপ্রবণ হয়ে উঠলে আমিও ভেসে যাবো যে ! সঙ্গে সঙ্গে সপ্রতিভ উত্তর –যে নদী হয়ে ভাসায় , সেই নদীই আবার বন্দরের নোঙর হয়ে হাত বাড়িয়ে দেয় । তবুও ফাগুনের শুরু আমাদের ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’তে এনেছে , ঋতুরাজকে সেই সম্মান থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া কি ঠিক হবে ? অমলেন্দু চেষ্টা করেও স্বাভাবিক স্মার্টনেসটা কিছুতেই ফিরিয়ে আনতে পারছে না। আরোপিত গাম্ভীর্যে বলবার চেষ্টা করলো–তোমার নতুন লেখা কবিতা শোনাবে না ?
হ্যাঁ। নিশ্চয়ই শোনাবো। কিন্তু তার আগে সাংবাদিক মশাইয়ের ব্যস্ত সিডিউল থেকে একটা ফাগুন দিন যে বার করতে হবে । শুধু আমার জন্য । আমি আমার কবিজন্মকে আবার ফিরে পেয়েছি যাঁর জন্যে , আমার সেই ঋতুরাজকে কিংশুকের মালা পরাতে হবে না ? আমাদের কাছাকাছি কোনো বসন্ত- অরণ্যে বসে আমার কবিতা শোনাবো না তোমাকে ? লিখিত অক্ষর আর না লেখা কাব্যের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হতে হবে না আমাকে ? তোমাকে সামনে না পেলে রবিঠাকুরের নৈবেদ্য কাব্যগ্রন্থের একশোটা কবিতার মতো আমার সাতসকালের পাহাড়ি ঝোরা, আর শেষ বিকেলের গোধূলি নদীকে একই সঙ্গে বইয়ে দিতে পারবো কী করে ! এতদিন সাধনার পর , আমি প্রতীক্ষার শেষে তোমার মতো একটা কবিতার খাতা পেয়েছি , এখন থেকে সেখানেই সব কবিতা লিখবো।
অমলেন্দু মন্ত্রমুগ্ধের মতো বললো — কবিতা শোনাও।
উন্মনা বললো– একটা বড় কবিতা লিখছি , কিন্তু এই বৃষ্টি সন্ধ্যায় তোমাকে ভেবে যে চার লাইন লিখলাম , সেটা আগে শোনাই…
তোমার জন্যে আজ আকাশে
এমন বৃষ্টি , হিমেল ফাগুন হাওয়া,
এমন সান্ধ্য ঘনঘটা,
বাদল ভেজা বাড়ির কাছে
তোমার আরশিনগর,
শ্যামলিমার সবুজ দিয়ে ঘেরা।
কবিতা শেষ হয় ,মুগ্ধতা শেষ হয়না । অভিজ্ঞ অমলেন্দুর কাছে,নারীর প্রেম , হৃদয়ের উত্তাপ ,হাতের মুঠোয় তিতির পাখির মতো দু’মুঠো বুকের কেঁপে ওঠা ,কোনোটাই নতুন নয়। দুজোড়া ঠোঁটের আকুল সুধাপান — তাও নতুন নয়। যা নতুন , তা হলো– যে অনাবিষ্কৃত সম্পদ নারী উন্মনার গোপন অ্যালবাম থেকে তরঙ্গায়িত হচ্ছে ,তা হলো, তার নতুন কবিতা। অমলেন্দুর জীবনে কোনো নারীর থেকে এ যেন এক পরিপূর্ণ পাওয়া । একজন নারী প্রিয় পুরুষের হৃদয়ের ছোঁয়ায় ক্রমশ কবি হয়ে উঠছে , তার মনের কথাকে সে কবিতা করে তুলতে পারছে ,ফেলে আসা বিবাহিত জীবনকে সরিয়ে রেখে , না পাওয়া গুলোকে একটু একটু করে উন্মুখ কুঁড়ি করে তুলতে পারছে– এটাই তো বিস্ময়! শ্রেষ্ঠ উপহার! এই মুহূর্তে অমলেন্দু কোনো কথাই বলে উঠতে পারছে না । বলা হয়ে উঠছে না — হে নারী, কবিতার নারী , আমার বুকের এলোমেলো বাগানের জমিটুকু তোমার জন্যেই তো পড়ে ছিলো গো ! তুমি সেখানে টিউলিপ বাগান বা গোলাপ বাগিচা যদি তৈরি করতে নাও পারো, তবুও বেলি, জুঁই,দোপাটি,অযত্নে লতিয়ে ওঠা মাধবীলতা ফুটিয়ে তোলো। না , কিছুই বলতে পারলো না। কিন্তু একে একে শোনালো–প্রলয় ,শুভ, উন্মনাকে নিয়ে ,আর তরুণ প্রজন্ম বাদল মেঘ-তিথিদের নিয়ে ওর স্বপ্ন-নকশিকাঁথা বোনার কথা। মুখ ফুটে শুধু বলতে পারলো– কবে দেখা হবে উন্মনা , তোমার সঙ্গে? শুধু তোমার সঙ্গে? উন্মনা আচ্ছন্নের মতো জবাব দিলো — সেই কলেজবেলায়, বন্ধুদের সঙ্গে প্রথম চিল্কিগড় যাওয়ার পর থেকেই খুব ইচ্ছে ছিলো , ঝাড়গ্রাম শহরের কাছে চিল্কিগড় জঙ্গলের নাবাল জমিতে,ডুলুং নদীর বালিতে আর ছড়িয়ে থাকা পাথরে আমার প্রাণ পেতে , মন পেতে দিয়ে বসবো– এ জীবনে যে পুরুষকে সত্যিকারের ভালবাসবো, সেই প্রিয় মানুষটির সঙ্গে । কলেজবেলা চলে গেলো, ইউনিভার্সিটিবেলা চলে গেলো, বিবাহিতবেলার নড়বড়ে সাঁকোটাও পেরিয়ে চলে এলাম। হঠাৎ চারিদিকে আনন্দ-ধ্বনির মতো যেন একটা গান বেজে বেজে যাচ্ছে–
ইয়ে কাঁহা আ গয়ে হাম,
উঁহি সাথ সাথ চলতে…
হে কবির অন্তরে কবি,তুমি যাবে সেখানে আমার সঙ্গে ? আমার স্বপ্নের চিল্কিগড়ে , সেই ডুলুং নদীর পাড়ে ? যেখানে জলের মধ্যে রোদ্দুর ছোটো ছোটো মাছের গায়ে স্বপ্নের কবিতা আঁকে ! যাবে কবিমন ?
অমলেন্দুর নিশ্চিত-অনিশ্চিত ঠোঁট দুটো শুধু বলতে পারলো–হ্যাঁ,যাবো। আর পাগল অমলেন্দুর কবিতাজন্ম আকাশ বাতাস মুখরিত করে যেন বলে উঠলো– ফাগুন , তুমি অপেক্ষা করো । আমরা তোমাকে ছুঁতে চিল্কিগড় যাচ্ছি। পলাশ, তুমি প্রতীক্ষা করো — আমরা দুই পাগল খুব শিগগির তোমার কাছেই পৌঁছে যাচ্ছি । অরণ্যের নদী ডুলুং , তুমি ধীরে বয়ে যাও। তোমার জলে আমাদের দুজোড়া পায়ের ছাপ পড়তে চলেছে ।
ও প্রান্তের নারীকণ্ঠ উন্মুখ বলে উঠলো–
দেরি নয় ,ফাগুন থাকতে থাকতেই যাবো।
এ প্রান্তের বিস্মিত অমলেন্দু শুধু বলতে পারলো — তোমার নতুন কবিতা শোনাবে না উন্মনা ?
কবিতার নারী উন্মনা তার খাতার পাতায় যে নিভৃত শব্দগুলোকে ফুটিয়েছিলো, সেগুলোই ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করলো–
ভালোবাসা মানে সকালের ট্রেনে ওঠা
ভালোবাসা মানে জানলার ধারে সিট
ভালোবাসা মানে অপরিচিতের হাসি
ভালোবাসা মানে সম্পর্কের ভিত।
কাছে থাকবার অন্তবিহীন ছল
দূরে হারালেও ডুবুরির মতো খোঁজা
হাতের ছোঁয়ায়, বিন্দু চোখের জলে,
ভালোবাসা মানে একে অপরকে বোঝা।
কতবার হলো অকারণে ছাড়াছাড়ি
তবুও মাটিতে দুজনের ঘরদোর
তুমি কাছে নেই, কিন্তু তোমার কাছে,
ভালোবাসা কাঁদে বৃষ্টির রাতভোর।
আবার ভাসবো বসন্তে বর্ষায়
তোমার শাড়িতে লোটাবে বৃষ্টিফোঁটা,
কমলা আলোয়, খেলা ভাঙবার খেলায়,
দুজনে দেখবো আগামী সূর্য ওঠা।
কথাগুলো সব সারারাত ঘুমহীন
কথাগুলো চুপ আলো ফোটবার আগে,
আকাশের নীচে বনপলাশের মতো
ভালোবাসা একা শত শতাব্দী জাগে।
কবিতা শেষ হয়ে যাওয়ার অনেক পরেও জঙ্গলমহলের মাঝরাত শেষরাত বারবার জিজ্ঞাসা করেছিলো — তোমরা ঘুমোবে না ? আসলে ওরা জেগেছিলো স্বপ্ন ও বাস্তবের ঘরেও নহে,পারেও নহে,যে জন আছে মাঝখানে –সেই স্পর্শযোগ্য অন্তরঙ্গতার অপাপবিদ্ধ অন্ধকারে। পৃথিবীর কোথাও কোনো শব্দ নেই,শুধু দুপ্রান্তের দুটি ফিসফিস কন্ঠস্বর যেন স্তব্ধতার নিভৃত ছায়ায় স্পষ্ট ও নিশ্চিত উচ্চারণে বলছে– জয়-পরাজয়হীন এই পৃথিবীতে, ভালোবাসা শব্দটাকে আঁকড়ে ধরে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শুধু বেঁচে থাকার আনন্দেই ফুলের মতো ফুটে থাকা যায়।
তারপর, ভোরের, নাকি,উষার প্রথম পাখির ডাকা শুনে, কবিজন্ম উন্মনা ফিসফিসিয়ে বললো তার কবিমনের মানুষটিকে–তুমি আমার এই কবিতার একটা নাম দিয়ে দেবে ? প্রথম আলোকে সাক্ষী রেখে সেই আশ্চর্য পুরুষ প্রিয় কবিতার নারীকে যে উত্তর পাঠালো,তাতে ফাগুন যেন সমস্ত ঐশ্চর্য ঢেলে দিলো ! সে বললো–কবিতার নাম হোক — বনপলাশের মতো।
ঘুম নামার মুহূর্তে চরাচরের স্তব্ধতা শুনতে পেলো–ফোনের দু’প্রান্তে দুটি অস্ফুট চুম্বনের পাগল শব্দ — চোখের পাতায়, আর ঠোঁটে।
ক্রমশ…
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা,
বলাই বাহুল্য, এই উপন্যাসের চরিত্র, স্থান ও ঘটনাপ্রবাহ কাল্পনিক। বাস্তবের সঙ্গে কোনো মিল খুঁজে পেলে, সেটা আকস্মিক ধরে নিতে হবে। আমার লেখা এই কাহিনি এক কবিজন্ম ও কবিতাজন্মের নকশি কাঁথা বুনে চলেছে যেন। হয়তো অবাস্তব, তবু, উপন্যাসের মাঝামাঝি এসে এই কথাগুলো বলতে খুব ইচ্ছে করলো। ভালো লাগছে তো কবিতাজন্মের এই কাহিনি ?