অথ শ্রী উপন্যাস কথায় আরণ্যক বসু (পর্ব – ৫২)

শালজঙ্গলে বারোমাস ছয়ঋতু

দীর্ঘ অদেখা , তুমি দূরত্বকে দীর্ঘায়িত করো
ঝলসানো বনাঞ্চলে কেঁপে ওঠে মরীচিকা ধু ধু ,
দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন তাপদগ্ধ তীব্র হাহাকারে —
ছায়া ঘনাইছে গানে , আষাঢ়ের প্রতিশ্রুতি শুধু !

উন্মনার বাড়ি থেকে ফিরে আসবার পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে । উন্মনা প্রতিদিন অমলেন্দুর শরীরের খোঁজ নিয়েছে। নিজের উদ্যোগে সামনের শনিবার সবাইকে নিয়ে একটা কনফারেন্স কলের আয়োজন করেছে রাত নটা থেকে ।‌ এখানে স্থানীয় ডাক্তার অমলেন্দুর জীবনকে দ্রুততার অবারিত প্রান্তর থেকে সীমাবদ্ধতায় বেঁধে দিয়েছেন। চাকরি জীবন থেকে স্বেচ্ছাবসরের আগে অমলেন্দু তাই এখন কিছুটা বাধ্যতামূলক ছুটিতেই কাটাচ্ছে এবং এই বাধ্যবাধকতার মধ্যে বাড়ির সীমানায় থেকে , প্রচন্ড গরমকে সহ্য করতে করতে অমলেন্দু টের পায় , তার স্বাভাবিক রিফ্লেক্স একটু কমে গেছে । বুঝতে পারে তার শারীরিক ক্লান্তি ঘিরে কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কবিতা জন্মের আলোচনা । সবাই যেন বৃষ্টির জন্য আকুল প্রতীক্ষায় রয়েছে। কালো মেঘ কখনো বিষ্ণুপুর ছাড়িয়ে জয়পুর জঙ্গলের মাথার উপরে থাকে , তারপর মরীচিকার মতো মিলিয়ে যায়। কখনও শুশুনিয়া পাহাড়ের উপর থেকে হাত নেড়ে মুকুটমণিপুরের অপার জলরাশির দিকে হারিয়ে যায়। কখনো আবার মাঠাবুরু গজাবুরু পাহাড়ের দিকে , পুরুলিয়ার দিগন্তে মিশে যায় কিন্তু বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি হয়ে ঝরে না। অমলেন্দুর ভবিষ্যৎ জীবনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলাটা খুব জরুরী হয়ে পড়েছিল। তার মানে তাকে এই জেলা থেকে মাঝে মাঝেই কলকাতার সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে হৃদয়ের অসুখ জনিত কারণে যাতায়াত করতে হবে। কলকাতায় থেকে চিকিৎসা করালে ভালো হতো , কিন্তু সেরকম সংগতি বা উপায় যেহেতু নেই , তাই এখান থেকেই যা করার করতে হবে । তার সঙ্গতির সবটুকুই একটা কবিতা জন্মকে ঘিরে। অমলেন্দু বুঝতে পারে জীবনকে দীর্ঘায়িত করার জন্য ক্রমশ অর্থবলের প্রাচুর্য খুব প্রয়োজন হয়ে পড়ছে ,যা সাধারণ মানুষের আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে। দূরবর্তী জেলাগুলোতে মানুষ স্বাভাবিকভাবে যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ সব ঠিক আছে, কিন্তু বয়স যখন আঁচড়াতে কামড়াতে থাকে , স্বাভাবিক দৌড় ,স্বাভাবিক উড়ান স্বাভাবিক প্রাণ চাঞ্চল্য এবং স্বাভাবিক দক্ষতায় থাবা মারে বয়স, সমস্ত কিছুকেই তখন নতুন ভাবে ভাবতে হয়। অন্তত ভাবতে বাধ্য হতে হয় । যেহেতু সাংবাদিক অমলেন্দু এখন ছুটি কাটাচ্ছে , তাই কাগজের কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সিনিয়ার হিসেবে অবসর নেবার আগে দু-তিনজন জুনিয়ার সাংবাদিককে তৈরি করার গুরু দায়িত্ব নিয়েছে সে। ঘরে বসে মাঝে মাঝে সেই আলোচনা পর্যালোচনা চলছে । অরিন্দম, মৈত্রী এবং গৌতম , তিনজন নতুন যৌবন খুব উৎসাহ নিয়ে অমলেন্দু স্যারের কাছে সাংবাদিকতার ক্লাস করছে, নোট নিচ্ছে,পরবর্তি সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষায় থাকছে, নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রাখছে ; তাই অমলেন্দুও যেন নতুন করে তার প্রথম যৌবনের সাংবাদিকতার দিনগুলোকে ফিরে পেয়েছে । কলকাতা শহরের সংবাদ সংগ্রহ , আর জেলা শহরের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে যে অনেকটা তফাৎ ,সেই ব্যাপারটাকে খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে অমলেন্দু। তার কারণ, পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক জেলাগুলোতে শুধু মানুষের সমস্যা নয়, বনাঞ্চলের সমস্যাও আছে । সেখানকার মানুষজন, বনচর পশুপাখি ও প্রাকৃতিক সম্পদ, অরণ্যানীর রক্ষণাবেক্ষণ — সবকিছুতেই সাংবাদিকদের বিরাট ভূমিকা যে আছে , সেটাও বুঝিয়ে বলবার চেষ্টা করে অমলেন্দু। বিভিন্ন সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা , প্রয়োজনে যে কোন খারাপ অবস্থা এবং বিপদের জন্য প্রস্তুত থাকা — সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পাঠক্রম দিতে দিতে অমলেন্দু বুঝতে পারে , শুধু কবিতাজন্ম নয় তার একটা ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী কর্মজীবনও আছে বা ছিল। ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপ আলোচনা শেষে তারা যখন চলে যায়, তখন ভীষণ ক্লান্ত বোধ করে অমলেন্দু।ঠিক এই সময় তাকে ঘিরে বসে থাকে গানের বিন্দাস ও প্রাণের বন্ধু বিন্দাস । মাঝে মাঝে গেয়ে ওঠে নানা ধরনের গান । সেদিন শোনালো হেমাঙ্গ বিশ্বাসের একতারার সুরে বাঁধা একটি গান — দেহ তরী ছাড়িয়া দিলাম ও গুরু তোমারি নামে। আবার কখনো জল ভরা চোখে গেয়ে ওঠে চিরদিনের রামপ্রসাদী গান —
জানি জুঁই মালতি হায়, কত গন্ধ যে ছড়ায় ,
তবু ঘরের ছেলে পরের কাছে নিজেরে বিলায়।
জানি তোর মত যে নেই গো তাদের মায়ে পোয়ে আলাপন, মায়ের পায়ের জবা হয়ে ওঠনা ফুটে মন…

গানের পরে একসঙ্গে বসে দুপুরের বা রাতের খাবারটুকু ভাগ করে খায় ওরা। নিদারুণ গ্রীষ্মে ,‌ এই দহন বেলায় অমলেন্দু টের পায়ে যে , বিন্দাসের স্বাভাবিক রোজগারেও টান পড়েছে। প্রকৃতি কেন যে এত নির্মম হয়ে ওঠে মাঝেমধ্যে ? যেন পৃথিবীর তিন ভাগই শুষ্কতায় ভরে গেছে, জলের আশ্বাস সেখানে মরীচিকা মাত্র। এতো গরম, এদিকটায় তাই কেউ না এলেও অর্ধেন্দু নামের সেই রাগী, সেই অ্যাংরি ইয়াং কবি আধ ভাঙা একটা স্কুটি চালিয়ে, মাঝেমধ্যেই অমলেন্দু ডেরায় চলে আসে। বলে — যেখানে আমাদের কবিতার আশ্রয় , যেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন , যেখানে আমাদের ঝগড়া ও ভালোবাসার স্যার রয়েছে, তার গন্ধটা নিতে আসি । কবিতা শোনায় । অদ্ভুত পাগলামি ভরা সেসব কবিতা । তখন তার চাহনিতে স্বাভাবিক স্নিগ্ধতা। আবার প্রতি সপ্তাহান্তে, শনিবারের রাত নটার কনফারেন্স কলে সে ফাটাফাটি বক্তব্য রাখে । সেখানে সে ভয়ংকর প্রতিবাদী একটা রূপ তুলে ধরে , যেটা অমলেন্দুর মনে হয় বেশ খানিকটা বানানো। স্বাভাবিক ক্ষোভ আর বানিয়ে তোলার রাগের মধ্যে কবিতার নির্মিতিতে অনেক পার্থক্য হয়ে যায়। বানিয়ে তোলা রাগ নিয়ে কখনোই কবিতা প্রতিবাদী রূপ নেয় না‌,এ কথা নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে অর্ধেন্দু বুঝবে ।শুভই ইদানিং কিছুটা স্তিমিত তার ব্যক্তিগত সমস্যায় । সুশিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়ার সমস্যা, প্রেমিক হয়েও প্রেমহীন প্রহর কাটাবার সমস্যায় সে যেন জর্জরিত । বাদলমেঘ আর তিথি, দুই প্রাণময় সত্তার প্রতিরূপ যেন। কবিতার সাবেক রীতি নাকি পোস্টমর্ডান ? নাকি রাজনৈতিক ঘোষণার জীবন্ত স্লোগান ? নাকি,নির্বিকার বা নির্লিপ্ত কবিতাযাপন? পক্ষ? নাকি, কঠোর নিরপেক্ষ?– আগামী দিনের কবিতা কোন পথ বেছে নেবে , তাই নিয়ে তাদের অন্তহীন পর্যালোচনা । বাদল‌‌ আর তিথি যতক্ষণ কনফারেন্স কলে থাকে ততক্ষণ অমলেন্দুর মনে হয়,তার এই টুকরো আশ্রয়টুকু উপযুক্ত প্রজন্মের হাতেই সে দিয়ে যাচ্ছে । অর্ধেন্দুরা কেউই ছেড়ে চলে যাবার মানুষ নয় । অরুণিমা ম্যাডামের মিষ্টি ব্যবহার রাগী কবিতা ও প্রেমের কবিতাকে ব্যালেন্স করে। এই মানুষটিকেও তাদের কবিতা আশ্রয়ে ভীষণ দরকার। উন্মনার বাড়ির কবি সম্মেলনের দিন থেকেই অরুণিমাকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে পেরেছে অমলেন্দু। মানুষটা থেকে যেতে এসেছেন , চলে যাওয়ার জন্য নয় । সবার উপরে আশ্চর্য করে দিচ্ছে কবি প্রলয় । ইতিমধ্যে সে কবিতা জন্মের পত্রিকার প্রথম সংখ্যার একটি খসড়া তৈরি করে ফেলেছে । একজন প্রতিষ্ঠিত কবির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবে একজন তরুণ কবি । প্রতি জেলা থেকে কবি সম্মেলনের খোঁজখবর এনে দেবে দুই-একজন । সেখান থেকে তুলে আনবে প্রতিশ্রুতিবান তরুণ কবিদের , যাদের গুচ্ছ কবিতা ছাপা হবে প্রতিটি সংখ্যায়। এছাড়াও, কবিতার বিষয় নিয়ে বিতর্ক , প্রশাসনের কাছে কবিদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরা , দীর্ঘদিন ধরে লেখার পরে শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত বয়স্ক কবিদের জন্য পেনশন প্রকল্প চালু করা যায় কিনা , সেই বিষয়ে আলোচনা থাকবে প্রতিটি সংখ্যায়। প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানীয় কবিদের জন্য প্রতিটি অনুষ্ঠানে সাম্মানিকের ব্যবস্থা রাখতে হবে– এই দাবিও রাখতে হবে পত্রিকার পাতায়। কবিতা আন্দোলনকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে দিতে হবে এবং তারপরে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে, যাঁরা বাংলা কবিতা নিয়ে চর্চা করেন তাঁদের কাছে । বাংলা কবিতা অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করানোর ব্যবস্থা নিতে হবে অমলেন্দু স্যারের পরিচিতির মাধ্যমে। অন্যান্য ভাষার কৃতি কবিদের সৃষ্টিকে অনুবাদের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হবে বাংলা ভাষায় — এই রকম রাশি রাশি আইডিয়া এই মুহূর্তে কবি প্রলয়ের মাথায়। এমনকি, অদূর ভবিষ্যতে স্থানীয়, জেলা ও রাজ্যস্তরের বইমেলাগুলোতে এই কবিতাআশ্রয় ও তাদের পত্রিকার জন্য স্টল নেবার কথাও সে আলোচনার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়।অমলেন্দু যতটা পারে কম কথা বলে, কনফারেন্স কলের মধ্যে থেকে নির্যাসটুকু তার খাতার পাতায় লিখে রাখে। কনফারেন্স কল শেষ হয়ে গেলে, আলোচনার প্রতিটি মুক্তো বিন্দুকে নিয়ে তার অনুসন্ধিৎসু মনের‌ মাইক্রোস্কোপের নিচে প্রতিটি জিজ্ঞাসা , প্রতিটি সমস্যাকে নতুন করে দেখবার চেষ্টা করে । তারপর আবার ফোন করে প্রলয়কে। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে কথা বলে প্রলয়ের সঙ্গে । অমলেন্দু বুঝতে পেরেছে অর্ধেন্দুর রাগ স্তিমিত হলে , প্রতিভাবান কবি শুভকে কবিতার খাতায় ফিরিয়ে দিতে পারলে , এই কবিতা জন্মের আশ্রয় একদিন ফুলে ফুলে ভরে উঠবে । কারণ সেখানে আছে কবিতার নারী উন্মনা । কনফারেন্স কলে এত চুপচাপ থাকে কেন সে ? সে কি তার জীবনের জটিলতা নিয়ে ক্রমশ অন্তর্মুখী হয়ে পড়ছে? সবার অনুরোধে উন্মনা সেদিন তার নতুন একটি কবিতা শোনালো। গ্রীষ্ম ঋতু নিয়ে তার নিজস্ব ভাবনা–
ওগো ডানা মেলে আকাশ শুনতে পাচ্ছ ?
মানুষ কাঁদছে সব হারানোর শোকে ,
পাতারা কাঁপছে , আগুনের মতো রোদ !
কেউ কি বাঁচবে সাধের বিশ্বলোকে ?
মরুর বুকেই এঁকে দেবো শালবন,
দাও অরণ্য শত কোটি
ডালপালা ,
বরফে ঢাকুক দুমেরুর দুই প্রান্ত,
এস মুছে দিই এ গ্রহের যত জ্বালা।‌
মানুষ এখনো অনেক কিছুই পারে ,
বেঁচে ওঠবার বিশ্বাস বুকে রেখে ;
সবুজে সবুজ কিশোর বেলার বনে,
নীল জলে নামা মাছরাঙাদের দেখে ।
এসো সুবাতাস ,ধুয়ে মুছে দাও পাপ,
বনভূমি কাঁদে ,এ কোথায় নিয়ে যাচ্ছ ?
সব শিশুদের বুকের গভীরে বাঁচাই,
ধ্বংস, তুমি কি আদৌ শুনতে পাচ্ছ ?
সবাইকে স্তব্ধ করে দেওয়ার পক্ষে এই কবিতার উচ্চারণ ছিল যথেষ্ট । শুধু অমলেন্দু নয় , সবাই বুঝতে পারে– কবির অন্তরে যখন কোন কবি জেগে ওঠে , তখন স্তিমিত হয়ে যায় , চুপ করে যায় , চারিদিকের বাকচাতুর্য। জেগে থাকে নতুন কবিতার অক্ষরগুলো, জেগে থাকে মুখর কবির অন্তরে নীরবতার কবি।
এভাবেই রবীন্দ্রপক্ষ, নজরুলের জন্মদিন পার হয়ে, মৌসুমী মেঘের আনাগোনার দিনে ক্রমশ পাড়ি দেয় গ্রীষ্ম । তবু বৃষ্টি আসে না। বৃষ্টি যেন বহু দূরে!

সেদিন শনিবারের কনফারেন্স শেষ হবার অনেকটা পরে, অমলেন্দুর মনে হলো — রাতের আকাশ একমুঠো দীর্ঘশ্বাস ছড়িয়ে বলছে — ও কবি মন, অভিমান ভুলে একবার তাকে ফোন করবে না ? তুমি শুধু নিজের প্রতীক্ষাই জানো ? স্বার্থপরের মতো নিজের শারীরিক অসঙ্গতি নিয়ে মত্ত হয়ে আছো। তুমি ভেবেই নিয়েছো সবাই সবসময় তোমার খোঁজখবর নেবে , আর তুমি রাজাসনে বসে থাকবে ? কোন মহামানব তুমি হে ? তোমার কবিতার নারী তার দ্বিতীয় জীবন নিয়ে, নতুন সম্পর্কের প্রহর নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন তার খোঁজ তুমি রাখো? তার মা, তার আত্মজা, তার ফেলে আসা জীবনের স্বামীর ঘর – সংসার– সবকিছু নিয়ে এসে কেমন আছে, তোমাকে নিয়ে কেমন করে তার প্রহর কাটছে, খবর রাখো ? বলতে বলতেই ফোন কলে বেজে উঠল মান্না দের গান , গ্রীষ্ম-সংগীতে অবিস্মরণীয় সেই গানের কলি —
হায় রে স্রোতস্বিনী, এমন শীর্ণা তোকে দেখিনি তো আর কোনদিন !
শুষ্ক কানন তরু শাখে , বিরস কণ্ঠে পাখি ডাকে ; এক ফোঁটা পিপাসায়, অগ্নিআকাশ পানে চাহে যে সবাই , দিকে দিকে শুধু নাই নাই নাই ,
প্রখর দারুণ অতি দীর্ঘ দগ্ধ দিন…
অমলেন্দু কখন যেন ঘোরের মধ্যে হ্যালো বললো , কখন যেন তার কবিতার নারী উন্মনা সমস্ত অভিমান ঝরিয়ে দিলো প্রথম বৃষ্টির মতো, গীতবিতানের পাতার মতো , ছায়া ঘনাইছে বনে বনে–গানে গানে, নিবিড় আষাঢ়ের গানে– এসো শ্যামল সুন্দর গানে! শুধু মনে আছে, উন্মনা তার কাছে রবীন্দ্রনাথের কল্পনা কাব্যগ্রন্থের সেই চিরদিনের কবিতা শুনতে চাইলো। কবিতার নাম– বৈশাখ । উন্মনার অনুরোধে তৎসম শব্দমুখর অমর কবিতাটি উচ্চারণ করতে করতে শেষের দিকে এসো অমলেন্দুর গলা থরথর করে কাঁপছিলো–
ছাড়ো ডাক,হে রুদ্র বৈশাখ,
ভাঙিয়া মধ্যাহ্ন তন্দ্রা জাগি উঠি বাহিরিব দ্বারে,
চেয়ে রব প্রাণীশূন্য দগ্ধতৃণ দিগন্তের পারে,
নিস্তব্ধ নির্বাক।
হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ।

ক্রমশ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।