“এই শ্রাবণে আষাঢ়ে গপ্পো” বিশেষ সংখ্যায় অর্পিতা আচার্য

মনের ভূত

Banners yellow, glorious, golden
On its roof did float and flow
(This — all this — was in the olden
Time long ago,)
And every gentle air that dallied
In that sweet day
Along the ramparts plumed and pallid
A winged odor went away
(Edgar Allen Poe,The Haunted Palace)
এক গোপন ভয় , আতঙ্ক আর বিশ্বাসে ভরপুর প্রচ্ছন্ন প্রাসাদ । কোথায় সেই প্রাসাদ? কোন অট্টালিকার ঘুপচিতে, চোরা কুঠুরিতে , গুপ্ত বাক্স তোরঙ্গে লুকিয়ে আছে ভয়ের বীজ , ভূতের রহস্য ছায়া? অবশ্যই এ আমাদেরই সুগভীর মনের অভ্যন্তরে । আমাদের শৈশব রোমন্থন আয়নায় , অমূর্ত অবচেতনে, আমাদের হাজার বছর ধরে জমানো স্মৃতি জিনে ।
ভূতের ভয় মানুষ কবের থেকে পেতে শুরু করেছে? অবশ্যই মানব সভ্যতা বিকাশের আদি সময় থেকেই । কারণ সৃষ্টির পাশপাশি চিরকালই রয়েছে বিনাশ – অর্থাত্‍ মৃত্যু । আর মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনের পথে এক চুলও মানুষ অগ্রসর হতে পারেনি । মৃত্যুর পরেও অস্তিত্ব রয়েছে এই কল্পনা একদিকে যেমন তাকে আশ্বস্ত করে , অন্যদিকে ভীতও করে তোলে । জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে যে অন্ধকার খাদ , সেই খাদের ব্যাখ্যাহীনতাই মানব মস্তিষ্ককে ভৌতিক ব্যাখ্যার দিকে ঠেলে নিয়ে যায় । ভূতের সঙ্গে আছে ভয়ের যোগ । ভয় এক আদিতম আবেগ । ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে সীমারেখা সূক্ষ্ম , যা ঘুচতে বেশি সময় লাগে না । ভূতাতঙ্ককে ইংরেজিতে বলা হয় , Phasmophobia. কখনো বা  ‘Spectrophobia. পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে ভূতের ধারণার অস্তিত্ব নেই । শুধু দেশ ও সংস্কৃতি ভেদে ভূতের রূপ বদল হয় । মামদো ভূত , শাক চুণ্ণী, পেত্নী বা মেছো ভূত, ব্রহ্মদৈত্য বা গেছো ভূত পাল্টে যায় চিনা, জাপানি, এরাবিয়ান,  সাহেব বা আদিবাসী ভূতে । ভূতের পোশাক আশাক, চেহারা চালচলনও সমাজ ও সংস্কৃতি ভেদে ভিন্ন রকম । সাধারণত নিজের পরিচিত ইমেজকে কিছুটা ডিস্টোর্টেড করেই ভূতের ইমেজ তৈরি করে মস্তিষ্ক । কত হাজার বছর পার হয়ে গেছে , বিজ্ঞানের উন্নতি মানুষকে মহাকাশের রহস্য উদঘাটনের পথে নিয়ে গেছে, কিন্তু ভূত প্রেত নিয়ে আমাদের বিশ্বাসে ঘাটতি একটুও হয়নি ।
দুনিয়ায় ভূত দেখেছেন যতজন , তার চাইতে বহুগুণ মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিশ্বাস করে যে ভূত আছে । ‘ The believing brain ‘ নামে বইয়ের লেখক Michael Sherman বলেছেন যে মানুষের প্রবণতাই হলো বিচ্ছিন্ন ইমেজগুলির মধ্যে একটা অবয়ব খুঁজে বার করা । আসলে যতক্ষণ পর্যন্ত না কাছাকাছি পড়ে থাকা আলাদা আলাদা উদ্দীপক গুলির মধ্যে একটা যোগসূত্র তৈরি করে তাকে ‘ অর্থপূর্ণ সমগ্র ‘ হিসাবে প্রত্যক্ষ না করতে পারছে ততক্ষণ মস্তিষ্কের শান্তি নেই । এই প্রবণতাটিকে তিনি বলেছেন প্যারেডোলিয়া(Parieidolia)। পরস্পর বিচ্ছিন্ন উদ্দীপকগুলি থেকে আমরা  অর্থপূর্ণ কোনো ইঙ্গিত বের করে একটা আনন্দ অনুভব করি এবং এই আরোপিত ইমেজকে বিশ্বাস করতে শুরু করি ।এই প্রবণতাই হলো ‘প্যারেডোলিয়া’ (Pareidolia) যা দুটি গ্রীক শব্দ ‘Para’ (‘পরিবর্তিত’) এবং ‘eidolon’ (‘আকৃতি বা অবয়ব’) নিয়ে গঠিত। এছাড়াও, অমানবিক বিষয়গুলিকে মানবিক গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য প্রদান করে তাকে প্রত্যক্ষ করেও আমাদের মেন্টাল স্যাটিসফ্যাকশন হয় । ফলে উড়ন্ত কাপড়, গাছের পাতা, ছায়া, বাতাসের নড়াচড়াকে মানুষের আদল দিয়ে দিলে যে সম্পূর্ণতার অনুভূতি আসে , তা এক সুখানুভূতি দেয় ।
এই সুখানুভূতি এসেছে কোথা থেকে? শৈশব থেকেই আমরা কাহিনী , উপকথা , গল্প বা সিনেমা কার্টুনে ভূতেদের দেখা পেয়েছি । যেহেতু তাদের আমরা বাস্তবে দেখিনি , এবং যেহেতু তাদের গড়ন ভীতিপ্রদ, রহস্যময় ও অস্পষ্ট , তাই তারা আমাদের কল্পনাকে প্রশমিত করেছে , প্রসারিত করেছে । আদিমতম বিশ্বাসী মন অগোচরেই কখন এসব বিশ্বাস করে নিয়েছে । এই বিশ্বাসে কিন্তু আনন্দ ও পেয়েছি, ভয়ের আনন্দ, আবিষ্কারের আনন্দ, পূর্ণতার আনন্দ । এবার বড় হওয়ার পরে যখনই এমন অস্পষ্ট পরিস্থিতির সামনে সে এসেছে , মস্তিষ্কে জট বেঁধে থাকা পুরনো নিউরাল কানেকশনগুলি উদ্দীপিত হয়ে উঠেছে এবং শৈশবের সেই হারানো সুখকে, পরিপূর্ণতাকে খোঁজার জন্য প্রয়াস শুরু করেছে । এই কারণেই ভূতের সিনেমা দেখতে বা গল্প শুনতে ভয় সত্ত্বেও এতো আনন্দ ।
মানুষ সাধারণত কোন সময় গুলিতে ভূতের অস্তিত্ব অনুভব করে থাকে ? মনোবিদরা বলে থাকেন কোন স্ট্রেস সিচুয়েশনে, উদ্বেগ বা অনিশ্চয়তার সময়গুলিতেই এ ঘটনা বেশি ঘটে । একঘেয়ে পরিবেশ, মস্তিষ্কে অক্সিজেন কমে যাওয়া,  হরমোনাল তারতম্য, একাকীত্ব এসবও অশরীরী অনুভব করার সম্ভাবনা প্রবল করে । বহু সময়েই আমরা দেখি জীবনের কোনো বিশেষ সমস্যার সামনে পড়লে মৃত পিতামাতা বা আপনজনেরা আমাদের কাছাকাছি থাকার অনুভব দেন । এই অনুভব কে Sensed Presrnce বলে অভিহিত করেছেন মনোবিদরা । চলমান অবস্থায়, যেমন নৌকায় জাহাজে গাড়িতে বা প্লেনে, শীতের আবহাওয়ায়, এটমোস্ফিয়ারিক প্রেশারের পরিবর্তনে এই অনুভব বাড়ে ।
Sensed presence এর অনুভূতি সবচেয়ে বেশি শোনা যায় নিঃসঙ্গ নাবিকদের জীবনে । তাদের বেশি হ্যালুসিনেশন বা out body experience হওয়াও বিচিত্র নয় । পাহাড়ে চড়ার সময় , বা মেরু অঞ্চলে অনুসন্ধান করার সময় একই ঘটনা ঘটতে পারে । মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণ করতে গিয়ে বহু পর্বতারোহীর ভৌতিক অভিজ্ঞতা হয় । আমাদের সাধারণ জীবনেও একাকীত্ব একই অনুভব আনতে পারে । দেখা যায় জীবনসঙ্গীর মৃত্যুর পর, প্রায় অর্ধ শতাংশ মানুষ মৃত সঙ্গীর উপস্থিতি কোন না কোন সময় অনুভব করে থাকেন । ধর্মীয় প্রফেটরা , যেমন মোজেস , যীশু, মহম্মদ, বুদ্ধদেব বা ভারতীয় ঋষিরা প্রায় সকলেই অতি প্রাকৃতিক অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন , যখন তাঁরা মরুভূমি পরিভ্রমণ করছিলেন , দীর্ঘদিন অভুক্ত ছিলেন বা ধ্যানমগ্ন ছিলেন , ক্লান্তি ও ব্যাথা তাদের শরীরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো ।
যে কোন অতি প্রাকৃতিক দর্শন তিনটি কারণে ঘটে ।
(১) ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছিল যেভাবে ব্যক্তি বলেছে ঠিক সেভাবে (কিন্তু ঘটার কারণ অন্য যা ব্যক্তি জানেনা )।
(২) ব্যক্তি মন থেকে বিশ্বাস করে যে ঘটনাটি ঘটেছে কিন্তু আসলে তা ঘটেনি ।
(৩) ব্যক্তি কোনো কারণে ঘটনার মিথ্যা ব্যাখ্যা করছে ।
প্রথম কারণটির ক্ষেত্রে ইল্যুশান বা ভ্রম প্রত্যক্ষণ দায়ী । অর্থাৎ দড়ি দেখে সাপ ভাবা, কলাগাছ দেখে বউ ভাবা, বাতাসে বাঁশের ঘষাঘষির শব্দকে বাচ্চার কান্না মনে করা । দুর্বল মানসিক ও শারীরিক অবস্থায় এসব বেশি  ঘটে । কোন ওষুধপত্র, নেশাগ্রস্ততা, ট্রমা আক্রান্ত অবস্থা এসব সময় যে কোন সাধারণ বস্তুকে অন্য বস্তু বলে ভুল করার সম্ভাবনা প্রবল এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কিন্তু আসলে এটাই ঘটে ।
দ্বিতীয় কারণটিও মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে জড়িত । বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় বস্তুর উপস্থিতি ছাড়াও তার প্রত্যক্ষণ হতে পারে । বিশেষতঃ আগে যেমন বললাম, মস্তিষ্কে অক্সিজেন এর লেভেল কমে গেলে । আবার ঠিক ঘুমিয়ে পড়ার আগের
মুহূর্তে বা গভীর ঘুম থেকে জেগে ওঠার মুহূর্তে হতে পারে হিপনোগগিক বা হিপনোপম্পিক হ্যালুসিনেশন । যেখানে কোন ব্যক্তির পক্ষে কোন অলীক প্রত্যক্ষণ করা খুব একটা অস্বাভাবিক নয় ।
মানসিক রোগগুলির ক্ষেত্রে প্রবল ভাবে ভৌতিক ভর বা ভূত দর্শনের সম্ভাবনা থেকে যায় । কনভারশান ডিসঅর্ডার (আগে যাকে হিস্টিরিয়া বলা হতো ), স্কিৎজোফ্রেনিয়া ইত্যাদি রোগে ভূতের ভর, দেবতা বা ভূত প্রত্যক্ষণ একটি স্বাভাবিক ঘটনা । আমরা ভূতগ্রস্ত যে সব লোককে দেখে থাকি বেশির ভাগই আসলে এই দুটি রোগের কোন একটির শিকার । কি ধরণের ভূত দেখবে তা অবশ্যই ব্যক্তি কোন কালচারের অন্তর্গত তার ওপর নির্ভর করে।
মাস হিস্টিরিয়ার ফলে একদল মানুষ একসঙ্গে ভূতের ভয় পেতে পারে বা ভূত দেখতে পারে । কোন এক অঞ্চলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকায় যে ভয়ের সঞ্চার হয় সেই মানসিক বৈকল্য এক প্রকার সাজেশন তৈরি করে এবং এলাকার অনেকেই একযোগে ভূত দেখতে পারে । এমাজনের কোন কোন আদিবাসী সমাজে এমন ট্র্যাডিশান আছে যে কোন একটি বিশেষ রাতে তারা প্রেতাত্মাদের স্মরণ করে একযোগে । ওইসময় অনেকেই একসঙ্গে অশরীরীদের প্রত্যক্ষ করতে পারে… করেও । কিন্তু এটা আসলে মাস হিস্টিরিয়া ছাড়া কিছু নয়। কোন এলাকায় মাস হিস্টিরিয়ার প্রভাবে যে কোন মনোরোগ একসঙ্গে বহু লোকের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে । এই জন্যই দেখা যায় কোন একটি বিশেষ সময়ে একটি বিশেষ অঞ্চলে হয়তো একসঙ্গে পরপর অনেকেই আত্মহত্যা করছে । এ আসলে গণহিস্টিরিয়ার একটি প্রলক্ষণ ।
হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে যেমন অশরীরী ভর করতে পারে সম্পূর্ণ মনোগত কারণে তেমনি ওঝার ঝাড়ফুঁক ও জলপড়া তেলপড়ায় একই রকম সেল্ফ সাজেশনের সহায়তায় ব্যক্তি ভালোও হয়ে যেতে পারে । অন্ধ বিশ্বাস , অশিক্ষা হিস্টিরিয়াকে ত্বরান্বিত করে ।
যাদের তথাকথিত প্রেতবৈঠকের মিডিয়াম হিসাবে দেখা যায়, তারা সবসময়ই প্রেততত্ত্বে চরম বিশ্বাসী ও সাজেস্টিভ পারসনালিটি । এর ফলে এদের মিডিয়াম সাজিয়ে প্রেতচর্চা সহজ হয় । এরা সহজেই অশরীরী আত্মাকে শরীরে ধারণ করেন যা আসলে তাদের মানসিক বিকলনের একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র ।
এনোমেলিক সাইকোলজি মানুষের আচরণ ও  অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত প্যারানরমাল এক্টিভিটিস গুলি নিয়ে আলোচনা করে ।১৮৮৩ সালে চিকিৎসাবিদ জন ফেরিয়ার ‘An essay towards a theory of Apparitions’ এ বলেছেন সব ভৌতিক দর্শনই অপটিক্যাল ইল্যুশান । অন্যদিকে ফরাসি চিকিৎসাবিদ Boismont বলছেন ভূতপ্রত্যক্ষণ হলো হ্যালুসিনেশন । William Benjamin Carpenter তার ‘ Mesmerism and Spiritualism’ এ বলেছেন সমস্ত আধিভৌতিক দর্শনকেই হয় ফ্রড বা ডেলিউশান অথবা হিপনোটিক সাজেশান দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
এই প্রসঙ্গে ESP বা ‘Extra Sensory Perception’ এর কথা একটু না বললেই নয় । ESP হলো আমাদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের প্রত্যক্ষণ । আর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ে যারা বিশ্বাস করেন , তারা টেলিপ্যাথি বা অলোকদর্শন ইত্যাদির অস্তিত্ব স্বীকার করে বলেন , ESP হচ্ছে একটি অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা -কিছু কিছু মানুষের মধ্যে এর অস্তিত্ব থাকে বা জীবনের কোন বিশেষ পর্যায়ে যে কোন মানুষের ESP হতে পারে । প্রচলিত টিভি শো , সিনেমা বা গল্পগাছায় আমরা এই ESP র সম্পর্কে প্রায়ই শুনি । টিভিতে মনোবিদ্যা ও ভূততত্ত্ব কে জড়িয়ে যেসব পপুলার শো হয় তাতেও ESP র কথা ফলাও করে বলা হয় । কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে ESP র অস্তিত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করেছে মনোবিদ্যা । সিউডো মনোবিদ্যার একটি শাখা অবশ্য এ বিষয়ে প্রচার অব্যাহত রেখেছে । এই শাখা টিকে বলা হয়  প্যারাসাইকোলজি। প্যারাসাইকোলজিস্টরা নিজেদের মনস্তত্ত্ববিদ বলে দাবি করে থাকলেও মূল ধারার মনস্তত্ত্বের সঙ্গে তাদের কোন সংযোগই নেই । বাজার চলতি যেসব মনস্তাত্ত্বিকরা ESP র সপক্ষে সওয়াল করেন , আসলে প্রত্যেকেই তারা প্যারাসাইকোলজিস্ট।
আধুনিক নিউরোসায়েন্স এর দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্ত ভৌতিক অভিজ্ঞতাকেই মানুষের মস্তিষ্কের মধ্যে রাসায়নিক ও তড়িৎচৌম্বকীয় ইভেন্টগুলির গতিশীল প্রবাহমুখীতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় । টেম্পোরাল লোব এপিলেপ্সি, সোমনামবিউলিজ্ম, স্কিৎজোফ্রেনিয়া ইত্যাদি থেকে উদ্ভূত প্যারানরমাল অভিজ্ঞতা আসলে নিউরোজেনিক, কখনো কখনো, জেনেটিক ।
ইয়ুঙয়িয়ান কালেক্টিভ আনকনশাসের তত্ত্ব দিয়েও এই হাজার বছর ধরে লালিত মানব সমাজের শেয়ারড এক্সপিরিয়েন্সটিকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব । একবার এক মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় দুদল ব্যক্তিকে একটি পোড়ো বাড়িতে রাত কাটাতে বলা হয়েছিল । একদলকে বলা হয়েছিল বাড়িটি হন্টেড, অন্য দলকে কিছুই বলা হয় নি । দেখা গেছে যারা জানতো যে বাড়িটি ভূতগ্রস্ত তারা প্রায় সকলেই ‘ফিলিং অফ প্রেজ়েন্স’ অনুভব করেছে অন্যদিকে আরেকটি দলের বেলা তা কিন্তু ঘটেনি । অর্থাৎ ভূতের বাসা আমাদের মনেরই আদিমতম চোরকুঠুরিতে ।
তৃতীয় কারণটি অর্থাৎ ব্যক্তি যেখানে ঘটনার মিথ্যা ব্যাখ্যা করে বা মিথ্যা বলে, সেটি নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই । তবে এই কারণটি অনেক সময় অন্যের ক্ষেত্রে মানসিক ‘সাজেশন’ তৈরি হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায় । কোন বিশেষ লাভের আশায় বা কারো ক্ষতি করার জন্য প্রচারিত গল্প মুখে মুখে ছড়িয়ে ক্রমশঃ মানুষের গোপন ভয়ের কুঠুরিতে সুড়সুড়ি দিয়ে বহুলোককে একসঙ্গে ভৌতিক অভিজ্ঞতায় পীড়িত করে তুলতে পারে ।
ভূত থাকুক কল্পনায়, গল্পে সাহিত্যে, আড্ডায়… জীবনকে ভারাক্রান্ত না করলেই হয় ।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!