Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ১৩)

বিবাহঃ নারী পুরুষের যৌনমিলনের অনুমতি? – ৩

“বিবাহ”(marriage)  শব্দটি মধ্য ইংরেজি( Middle English) বিবাহের (marriage) থেকে উদ্ভূত, যা ১২৫০-১৩০০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। পরিবর্তে এটি প্রাচীন ফরাসি শব্দ, মেরিয়ার (marier মানে to marry), ) (বিবাহ করা) এবং শেষ পর্যন্ত লাতিন, মারিটারে (marītāre) থেকে প্রাপ্ত, যার অর্থ স্বামী বা স্ত্রী সরবরাহ করা এবং মারিটারি (marītāri) অর্থ বিবাহ করা। মারিট-উস-এ-আম( marīt-us -a, -um )বিশেষণ, ম্যাট্রিমনিয়ালবা নাপশাল (matrimonial or nuptial )অর্থ পুংলিংগে “স্বামী”  বিশেষ্য হিসাবে এবং “স্ত্রী” র জন্য স্ত্রীলিঙ্গ রূপেও ব্যবহৃত হতে পারে। সম্পর্কিত শব্দ “ম্যাট্রিমনি” প্রাচীন ফরাসি শব্দ ম্যাট্রেমোইন (matremoine) থেকে উদ্ভূত, যা প্রায় ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে আবির্ভূত হয় এবং শেষ পর্যন্ত লাতিন ম্যাট্রিমোনিয়াম থেকে উদ্ভূত, যা দুটি ধারণাকে একত্রিত করে: ম্যাটার অর্থ “মা” এবং প্রত্যয়-মোনিয়াম নির্দেশকারী “ক্রিয়া, অবস্থা বা শর্ত” (” ultimately derives from Latin mātrimōnium, which combines the two concepts: mater meaning “mother” and the suffix -monium signifying “action, state, or condition”) সূত্রঃ উইকিপিডিয়া
তবে বিয়ের প্রাচীন প্রতিষ্ঠান সম্ভবত এই তারিখটির পূর্বাভাস দেয়। বিয়ের মূল লক্ষ্য, আগে পরিবারগুলির মধ্যে একটি সম্পর্ক তৈরি করা। দুই গোষ্টির মধ্যে আত্মীয়তা আনা। রাজারা তাদের রাজত্ব বাড়ানোর কৌশল হিসাবেও   অধিক বিয়ে করতেন। ইতিহাস জুড়ে এবং আজও, পরিবার দম্পতিদের জন্য বিবাহের ব্যবস্থা করে। ফলে ব্যাক্তির চেয়ে পারিবারিক কারণ বড় ছিল। আজকাল মানুষ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করেও নিজের স্বেচ্ছাচারিতায় বিয়ে করে।  আগে অর্থনৈতিক কারণও ছিল বিয়ে র পিছনে।
আরুণি উদ্দালক এক মহর্ষি, তার জন্ম ধরা হয় খ্রীষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দী। বাংগালিরা – ভারতীয়রা  বিশ্বাস করে বিয়ে প্রচলন হয়েছে শ্বেতকেতুর দ্বারা। এটা সর্বৈব মিথ্যা। পরিস্কার বুঝতে হবে, বিয়ে না হলে শ্বেতকেতু কিভাবে জন্মাল? আর একজন মুণিপুত্র সমাজে বিপ্লব নিয়ে আসবেন, এটা অবিশ্বাস্য। নীচে মহাভারত থেকে কিছু বৃত্তান্ত তুলে দিলাম। পড়লে বোঝা যাবে।
দ্বাবিংশত্যাধিকশততম অধ্যায়
শ্বেতকেতু – সংবাদ
বৈশম্পায়ন কহিলেন, কুন্তী ধর্ম্মজ্ঞ পাণ্ডুকে বুষ্যিবাশ্ব-বৃতান্ত শ্রবণ করাইলে তিনি ধর্ম্মযুক্ত বাক্যে তাঁহাকে সান্তনা করিয়া কহিলেন, হে কুন্তী! তুমি যাহা কহিলে, তাহা যথার্থ বটে, রাজা বুষ্যিতাশ্ব দেবতুল্য মনুষ্য ছিলেন; তাঁহাতে সকলই সম্ভবে; তাদৃশ অসম্ভব কার্য্যমাদৃশ লোক হইতে হওয়া অতীব দুরঘট। ধর্ম্মবিৎ মহাত্মা মহর্ষিগণ যাআ প্রদর্শন করিয়া গিয়াছেন, শ্রবণ কর। হে বরাননে! হে চারুহাসিনি! পূর্ব্বকালে মহিলাগণ অনাবৃত ছিল। তাহারা ইচ্ছা মত গমন ও বিহার করিতে পারিত। তাহাদিগের কাআরও অধীনতায় কালক্ষেপ করিতে হইত না। কৌমারাবধি(কৌমারকাল হইতে) এক পুরুষ হইতে পুরুষান্তরে আসক্ত হওলেও তাহাদের শধর্ম্ম হইত না। ফলতঃ তৎকালে ঈদৃশ ব্যবহার ধর্ম্ম বলিয়া প্রচলিত ছিল। তির্য্যগযোনিগত কামদ্বেষবিবজ্জিত প্রজাগন(পশুপক্ষী প্রভৃতি) অদ্যাপি ঐ ধর্ম্মানুসারে কার্য্য করিয়া থাকে। তপঃস্বাধ্যায়সম্পন্ন মহষিগণ এই পরামানিক ধর্ম্মের প্রশংসা করিয়া থাকেন। উত্তর কুরুতে অদ্যাপি এই ধর্ম্ম প্রচলিত রহিয়াছে। হে চারিহাসিনি! এই অঙ্গনানুকূল নিত্যধর্ম্ম যে নিমিত্ত এই প্রদেশে রহিত হইয়াছ, তদ্বিষয়ে সবিশেষ বর্ণন করিতেছি, শ্রবণ কর।
পূর্ব্বকালে উদ্দালক নামে এক মহর্ষি ছিলেন। তাহার পুৎত্রের নাম শ্বেতকেতু। একদা তিনি পিতামাতার নিকট সবিয়া আছেন, এমন সময় এক ব্রাহ্মণ আসিয়া তাঁহার জননীর হস্তধারণপূর্ব্বক কহিলেন, ‘আইস, আমরা যাই।’ ঋষিপুৎত্র পিতার সমক্ষেই মাতাকে বলপূর্ব্বক লইয়া যাইতে দেখিয়া সাতিশয় ক্রুদ্ধ হইলেন। মহষি ইদ্দালক পুৎত্রকে তদবস্ত দেখিয়া কহিলেন, ‘বৎস! ক্রোধ করিও না; ইহা নিত্যধর্ম্ম। গাভীগণের ন্যায় স্ত্রীগণ সজাতীয় শত সহস্র পুরুষে আসক্ত হ্‌ইলেও উহারা অধর্ম্মলিপ্ত হয় না। ঋষিপুৎত্র পিতার বাক্য শ্রবণ করিয়াও ক্ষান্ত হইলেন না, প্রত্যুত পূর্ব্বাপেক্ষা অধিকতর ক্রুদ্ধ হইয়া  মনুষ্যমধ্যে বলপূর্ব্বক এই নিয়ম স্থাপন করিয়া দিলেন যে, ‘অদ্যাবধি যে স্ত্রী পতি ভিন্ন পুরুষান্তর-সংসর্গ করিবে এবং যে পুরুষ কৌমারব্রহ্মচারিণী বা পতিব্রতা স্ত্রীকে পরিত্যাগ করিয়া অন্য স্ত্রীতে আসক্ত হইবে, ইহাদের উভয়কেই ভ্রূণহত্যাসাদৃশ ঘোরতর পাপপঙ্কে লিপ্ত হইতে হইবে। আর স্বামী পুৎত্রোপাদনার্থ নিয়োগ করিলে যে স্ত্রী তাঁহার আজ্ঞা লঙ্ঘন করিবে, তাহারই ঐ পাপ হইবে।’

উপরের লেখা হতে অনেক কিছুই জানা যায়। মহিলারা উলংগ থাকতেন তাদের কোন সমস্যা ছিলনা। শ্বেতকেতু শুধু বিয়ে নিয়মকে তার মত করে কিছু নিয়ম বেঁধে দেন। বিয়ের প্রবর্তক তিনি নন।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।