Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ১৬)
বিবাহঃ নারী পুরুষের যৌনমিলনের অনুমতি? – ৬
ইউরোস্ট্যাট সমীক্ষায় (Eurostat survey) দেখা গেছে, ১৯৯০ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে, (প্রথম) বিয়ের বয়স পুরুষের জন্য সামগ্রিকভাবে ২.৩ বছর এবং মহিলাদের ২.6 বছর বেড়েছে। মহিলারা ১৯৯০ সালে ২৪.৮ বছর এবং পুরুষরা ২৭.৫ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন, তারা ২০০৩ সালে ২৭.৪ বছর এবং ২৯.৮ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন। এছাড়া ইউরোপীয়রা আজকাল কম বিয়ে করে।
লিখেছেন এলিটসা ভুচেভা By Elitsa Vucheva (Brussels, 21. Nov 2008) সূত্রঃEUobserver.com (Belgium )
আয়ারল্যান্ড, ইতালি এবং স্পেনের মতো কয়েকটি দেশে ২০০৬ সালে দেখা গেছে, মহিলাদের প্রথম বাচ্চা জন্ম দেওয়ার বয়সও ক্রমবর্ধমানভাবে বেড়েছে , সেটা ৩১ বছর। সমান্তরালভাবে,ইউরোপের মোট বিবাহের সংখ্যা ১৯৭৫থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, from 3.45 million to 2.4 million।
ইউরোস্টাটের মতে এটি বিভিন্ন কারণে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
বিশ শতকের শেষভাগে, নিজের জীবনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে দম্পতিরা বৈবাহিক অংশীদারিত্বকে সমর্থন করার জন্য যে ধরণের সমঝোতার প্রয়োজন তা গ্রহণ করতে কম আগ্রহী হয়ে পড়ছে। ঐতিহ্যবাহী বিবাহের Traditional marriage এর দিকে তারা তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছুক নন অনেকেই।
অধিকন্তু, আরও নির্ভরযোগ্য জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলি বিকাশ লাভ করেছে, এবং “মহিলা বেতনভোগী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীদের তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য বৈবাহিক সম্পর্কের উপর কম নির্ভরশীল করে তুলেছে।”মহিলারা অনেক বেশি আগের চেয়ে স্বাবলম্বী। কিন্তু অনেকেই সন্তান নিতে চাননা, নিজের জীবনকে অধিক উপভোগ করবেন বলে।
অনেকের কাছে মহিলাদের সন্তান না চাওয়া, ব্যক্তিগত ব্যপার মনে করেন।
সামাজিক ধারণা এবং আইন দুটোই সেখানে, ইউরোপে, পাল্টিয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদও সহজ হয়েছে। এবং “বিকল্প চুক্তিভিত্তিক জীবনযাত্রার ব্যবস্থা” আবির্ভূত হয়েছে (“alternative contractual living arrangements” have emerged.)।
ইউরোপের লোকেদের বয়স বাড়ছে। মানে, আগে যা অল্প বয়সে করত তা এখন বেশি বয়সে করছে। যেমন বিয়ে, কর্মসংস্থান ইত্যাদি। আশঙ্কা করা হচ্ছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে, বিয়ের অবসর না পাওয়ার জন্য, মহিলারা, নিজেদের কর্মসংস্থানের সাথে খাপ খাইয়ে, নিজেদের জীবন নিয়ে বেশি ভাবার জন্য, জনসংখ্যা কমে যাবার ও নতুন প্রজন্ম আশা করা অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।
মহিলারা অপরাধী ১০০ ভাগ হয়, বিয়ের বাইরেও মহিলারা টাকা রোজগারের জন্য শারিরীক ভাষায়, পোশাকের ভাষায়, পুরুষকে প্রলোভিত করে লুন্ঠন করে।যৌনসুখের দাম হিসেবে বহু টাকা নেয়, ব্ল্যাকমেল করে, ইত্যাদি করে, শরীর বিক্রী করে।
একটা মহিলা যদি এরকম করে, পুরুষ জেনে নেয় সব মহিলারা একই প্রকৃতির, ফলে যেই মহিলা শরীর বিক্রী করতে চায়না, সেই মহিলার কাছেও মন্দ বার্তা যায়। পুরুষ সেই মহিলাকে ধরতে গেলে ধর্ষণের দায় মাথায় নিতে হয়।তার জেল ফাঁসী হয়। সমাজের এই দ্বিমূখী নীতি, বন্ধ করার জরুরী প্রয়োজন।
বিয়ের খোল নলচে পালটে Paid Housewife, বাংলাতে “বেতনভোগী স্ত্রী” সিস্টেম শুরু হলে সারা পৃথিবীর নরনারীর যৌন সমস্যা উচ্ছেদ হয়ে যাবে। মহিলাদের সন্তান না রাখার ইচ্ছেও থাকবেনা।
বিয়ে প্রথা, একটা পুরুষকে তার মানসিকতা ও জৈবিকতা থেকে বঞ্চিত করে। Paid Housewife সিস্টেমে , চাকরির মত প্রতি বছর, বা একটা নির্দিষ্ট সময়। কিসের জন্য বেতন দেওয়া হচ্ছে তা চুক্তি বদ্ধ থাকবে। সেখানে বিবাহ জীবনে ধর্ষণের কথা কেউ আনতে পারবেনা।
একটা পুরুষের দরকার, ১) তার যৌন সঙ্গী ২) তার ঘরে রান্না ইত্যাদি ঘরমোছা কাপর ধোওয়া ৩) তার সন্তান।তার সন্তান সম্পর্কে নিশ্চিত করতেই, বিবর্তনে (Through Evolution) সে উপার্জন করেছে একটি সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য পুরুষদের উৎসাহী এবং প্ররোচিত/তাড়িত যৌনচারণার. এটি বিবর্তনের লক্ষ লক্ষ বছরের ফসল। যেমনটি যেকোন স্তন্যপায়ী জীবের আছে। – প্রজাতি চায় তার বংশ ধারা অব্যাহত থাকুক, এবং সবচেয়ে জরুরী তার কাছে এই উদ্দেশ্যটি।
এবং বেশিরভাগ পুরুষ স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো, এই বংশধারা নিশ্চিত করতে গিয়ে,সেখানে সাফল্যতা আনার জন্য তাকে বেশ কয়েকটি উপাদান নিয়ে বিকাশ (he had to evolve)করতে হয়েছিল। প্রথমত, তার যৌনচারণায় নিবিড়ভাবে মনোনিবেশ করতে হয়েছিল এবং সহজেই যাতে মনোযোগ না ভাঙ্গে ( Firstly, his sex drive had to be intensely focused and not easily distracted.)। এই প্রক্রিয়াটি সে এমন ভাবে গড়ে ছিল যেকোন অবস্থায় যাতে সে যৌন চারণা করতে পারে। যেমন সম্ভাব্য কোন ভয়/হুমকী/ শত্রুদের উপস্থিতিতে, বা যে কোনও জায়গায় যৌনচারণার সুযোগ উপস্থাপিত হলে সে অনায়াসে করতে পারে।
শিকারি বা শত্রুদের দ্বারা যাতে ধরা পড়তে না পারার জন্য একজন পুরুষ স্বল্পতম সময়ে ও যেকোন স্থানে যত দ্রুত সম্ভব নারীর যোনিতে বীর্যপাত করা সম্ভব সে ব্যবস্থা করেছিল।। তাঁর বীজ/বীর্য যতদূর সম্ভব ও যতবার সম্ভব ছড়িয়ে দেওয়া দরকার মনে করেছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিনসে ইনস্টিটিউট, মানব লিঙ্গের গবেষণার বিশ্বজ্ঞানীরা (The Kinsey Institute in the US, world leaders in human sex research, ) জানিয়েছেন যে, সমাজের সামাজিক বিধিবিহীন,তারা বিশ্বাস করে যে সমস্ত পুরুষ সমাজের ৮০%বহুগামী। বহু মহিলারা সাথে যৌন সম্পর্ক করে।এবং এটাই সহজাত বিবর্তনের ফল। সমাজে বিয়ে একজনের মধ্যেই সীমিত রাখার ফলে,পুরুষের প্রতি সঠিক আচরণ প্রতিফলিত হলনা। যৌন অপরাধের সৃষ্টি হল।
নারীবাদী মহিলারা এই দশকে দেখা যাচ্ছে তারা নিজের জীবনকে অধিক ভোগ দিতে চায়। ফলে সন্তান প্রসব তাদের কাছে অবাঞ্ছিত। বিয়ের পরিবর্তে বেতনভোগী বৌ/ বা স্বামী আনলে অর্থনীতি আবার সাবেক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসবে। সন্তান ও ঘর গৃহস্থালীর কাজ এগুলি কাউকে বেতন দিয়ে মহিলাদের কাছে পাওয়া যায়, যেমন বহু পরিচারিকা আছে, আমাদের সমাজে এ কাজ করে।
একজন মহিলাকে এই ২০২১ সালে ভারতে যেকোন রাজ্যে ১০ হাজার টাকা মাইনে দিলে ২৪ ঘন্টা সমস্ত পরিষেবা দেয়। তাহলে একজন পুরুষ কেন বিয়ে করে, একজন মহিলারা অভিযোগ শুনবে বা তার উপার্জনের টাকার ভাগ বসাবে? ভাবুন। মহিলারা বিয়ে করে ঘরের কাজ করে, খাওয়া পরা, থাকার বিনিময়ে ও পুরুষের উপার্জনের টাকার অর্ধেক ভাগ বসিয়ে কান্না করে তাদের নাকি মূল্য দেয়না। ঘরের বৌয়ের খাওয়া পর থাকার পয়সাটা কি তার বাপের বাড়ি থেকে আসে?
অনায্য দাবি ও কথা নয়কি?
এছাড়া ৩/৪ জনের সংসারে এমন কি কাজ থাকে মহিলার হাড়ভাংগা খাটুনি হয়? ওয়াশিং মেসিন, কুকার পরিচারিকা এত সবের পরও তাদের অনেক দাবি।
পুরুষ যদি বেতনভোগী বৌ রাখে খাওয়া পরা থাকা ২৪ ঘন্টার জন্য আর কিছু মাইনে দিলেই ভারতের বহু মহিলার হিল্লে হয়ে যায়। নারীবাদীরা ভেবে দেখুন।
আমেরিকাতে ১৫% মহিলারা সন্তান হীনা পছন্দ করছেন। আর বিখ্যাত সিনেমার তারকারা এই প্রবণতাকে বাস্তব রূপ দিচ্ছেন