বিয়ের সাথে সামাজিক মর্যাদা জড়িত। কি রকম?
চীন, জাপান বাদে ( সম্ভবত ইউরোপের কিছু দেশ বাদে) সারা পৃথিবী অনুন্নতশীল দেশ। ধরে নিতে হবে এশিয়া আর আফ্রিকা, যারা আমেরিকাকে নকল করে চলতে চায় এবং চলতে গিয়ে নিজের দেশের সমস্যা আরো বাড়িয়ে দেয়। কারণ আমেরিকার মত পশ্চাৎভূমি ( ব্যাক গ্রাউন্ড) এশিয়া আফ্রিকার নেই। আমেরিকার জল্বায়ুতে যা সয় তা এশিয়ার জলবায়ুতে সামাজিক পটভূমিতে, সইবেনা।
এই কারণে কোন তাত্ত্বিক বা প্রায়োগিক কাজে বা আর্থিক সুবিধা ইত্যাদি বুঝতে হলে আমরা আমেরিকার পত্র পত্রিকা পড়তে থাকি। না পড়েও উপায় নেই। বাস্তবিক, আমরা এই অনুকরণ করে নিজের দেশের ভবিষ্যত, নিজের আগামী প্রজন্মকে সুস্থ বাঁচার নিশ্বাস বায়ু দিতে পারছিনা।
আমেরিকা আগ্রাসী। পৃথিবীর সকল দেশকে সে শোষণ করে নিজের দেশকে সাজায় ও স্বচ্ছল রাখে। এসব কথার পরিষ্কার আলোচনার জায়গা এটা নয়। তবু প্রসঙ্গ টানলাম এই কারণে। আমেরিকার বৈবাহিক জীবন সে দেশের নাগরিকদের দুটি বা এর অধিক শ্রেণিতে বিভাজন করছে।
২০১৪ সালে জানুয়ারি মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটা প্রতিবেদনের শিরোনাম বানিয়েছিল। “কি করে রুটি রোজগারের সাম্যতা আনবেনঃ বিয়ে করুন”। তা হলে বিয়েটা শুধু যৌনসংগমের অনুমতির মধ্যে আটকে নেই। এ রোজগারের জন্যও বিয়ে!
বিবাহিত দম্পতি দের চালানো পরিবারগুলিতে, ২০১২ সালে দারিদ্র্যেতার মাত্রা ছিল মাত্র ৭.৫% , আর যাদের পরিবার এক মা সন্তান রয়েছে: ৩৩.৯%। একটা পরিসংখ্যন অনুযায়ী দেখা গেছে, যে পরিবারে বাবা মা থাকে সে পরিবারের বাচ্চা, ভাল উচ্চশিক্ষা পায়, সম্পদশালী হয়, ও তাদের জীবনে সার্থকতা বেশি থাকে, অন্তত যে বাচ্চারা একজন পিতা বা মাতার অধীনে বড় হয়েছে।গরীব মাতার বাচ্চারা কোনমতে হাইস্কুল অবদি পড়াশুনা করে তারপর রুটি রুজির ধান্ধা করে। এইভাবে দুটি শ্রেণী সেখানকার সমাজে তৈরি হচ্ছে বলে সরকার চিন্তিত।
আমাদের ভারতে এসব ভেবে লাভনেই। কারণ এত দৈন্যদশায় গ্রামের দিকে প্রাইমারি স্কুল বা বড়জোর সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণী অবদি পড়াশুনা করে বেকার অনাহার অর্ধাহারে জীবন কাটায়।
আমেরিকার এই কারণ দেখে এরি ফ্লেসার (Ari Fleischer, a former press secretary for President George W. Bush), বললেন, বিয়ে অনেকগুলি করুন অন্তত বাচ্চাকে শিক্ষিত করে তুলুন।
আমেরিকাতে প্রায় ৩৪ কোটি লোক, আর্থিক নিরিখে, ৩ টা শ্রেণী, ১০ কোটি ধনী, ১০ কোটি মধ্যবিত্ত, ১০ কোটি গরীব। গরীবদের মাথাপিছু বাৎসরিক আয় ১২ হাজার ডলারে এসে দাড়িয়েছে।
সাড়ে চার কোটি মহিলার প্রায় তিন কোটি বাচ্চা নিয়ে খুবই দুর্ভোগে কাটাচ্ছে। খরচ কমাতে কমাতে খারাপ অবস্থায়। তার মধ্যে যেদিন কাজে যাবেনা সেদিন মাইনে পাবেনা। আমেরিকাতে মহিলারা খুব দাপট দেখায় বাস্তবিক আর্থিক ক্ষমতাহীন দাপট।
শ্রীভার রিপোর্টে (The Shriver Report: A Woman’s Nation Pushes Back from the Brink , Maria Shriver and the Center for American Progress) বলা হয়েছে ৫০ বছর আগে মহিলারা ঘরের বৌ ছিল, স্বামীর টাকায় সুখে ছিল আজ ৫০ বছর পর, সম্পূর্ণ পালটে গেছে। এখন ঘরের মায়ের রোজগার না থাকলে সংসার চলছেনা। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একে “the defining challenge of our time.” বলে চিহ্নিত করেছেন ।
আমেরিকার বিখ্যাত ম্যাগাজিন টাইম শিরোনাম লিখেছে,” (One Husband Can’t Save a Low-Income Woman from Poverty—She’ll Need Three or Four) একজন স্বামীর উপায়ে সংসার চলছেনা মহিলাকে বিয়ে করতে হবে ৩/৪জনকে।
আমেরিকাতে বিয়ের হারও কমে যাচ্ছিল। কারণ টাকা পয়সা ও নারীবাদী বিশেষ ধ্যান ধারণা, যা অনেক মহিলা বিশ্বাস করে।
টাইম ম্যাগাজিন সেই কারণেই লিখেছে। ‘এ কারণেই আমি একটি নতুন ধারণা নিয়ে এসেছি। এটি বিবাহের হারকে বাড়িয়ে তুলবে, শিশু দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করবে এবং খুব সম্ভবত, দরিদ্রদের মধ্যে বিনা ব্যয়ে পরিবার পরিকল্পনার প্রচার করবে – যা করদাতাদের উপর কোনও নতুন বোঝা ছাড়াই। এটি বহুবিবাহ polyandry – ভাবুন, আগে হত “বোন স্ত্রী Sister Wives ” এটা এখন “ভাই স্বামী Brother Husbands ” পরিণত হয়েছে – এবং এটি বার্বারা এহরেনিক( Barbara Ehrenreich, the acerbic author) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল, তার ২০০১ সালের বই, Nickel and Dimed: On (Not) Getting in America র জন্য সর্বাধিক পরিচিত ।
অনেকেই হাসছেন, এবং নৃতত্ত্ববিদ্রা এটাকে অসম্ভব মনে করছেন। কিন্তু পৃথিবীতে ৭৫ টির উপর মহিলাদের বহুস্বামী polyandry সোসাইটি আছে।
পুরুষের বহু স্ত্রী এবং সুখী সবাই এমন নজির প্রচুর। কারণ এটা ধর্মীয় ভাবে বিদ্যমান, শুধু ইসলামে নয়। খ্রীস্টানদের একটা অংশ আমেরিকার ঊটা Utah তে বিশাল জনসংখ্যার আছে।
বহুবিবাহের ছবি উটাতে (Auralee, left, husband Drew, and sister wives Angela and April Briney as Drew and Angela enter into a plural marriage. Photo courtesy Briney family.)
Brady Williams (center) with his five wives and 24 childrenTLC