গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৮)

নর্মদার পথে পথে
কুন্ড প্রদক্ষিণকরে পাড়ে স্থাপিত শিবলিঙ্গে প্রাণভরে জল ঢাললাম। অনেক সাধুমহারাজ পাড়ের এই শিবলিঙ্গে জল ঢেলে নর্মদাস্তব পাঠ করছেন। এমন মন্ত্রসিদ্ধ
সকালের মনোরম পরিবেশে মনের মধ্যে কোন সুদূরের অনুভূতি জেগে উঠছে। ধূপের সুগন্ধ বয়ে আনা বাতাসে চুপচাপ বসে থাকাতেই শান্তি।
আমরা যেখানটাতে এসেছি তার সামনেই পার্বতীমন্দির আর তার লাগোয়া বালাসুন্দরী মন্দির। এখানেই ঘাটের দিকে মুখ করে আমরা
সবাই মিলে বসেছি। আমি মোটা বইটা থেকে একটা পাতলা খাতায় ‘শিবসহস্রনাম’ লিখে
সঙ্গে নিয়ে এসেছি। ঘাটে বসে মন দিয়ে সেটা পাঠ করলাম । পাঠশেষে নর্মদাকুন্ডের জল
মাথায় ছিটিয়ে উঠে পড়লাম।
নভেম্বরের সকাল। ভোর বেলা বেশ ঠান্ডা ছিল। এখন বেলা প্রায় নটা বাজে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মনোরম অমরকন্টকের আবহাওয়ায় লেগেছে রোদের পরশ। আমার গায়ে শালের সালোয়ার- কামিজ বলে তাপটা বেশ গায়ে লাগছে। আমরা তখন ঘাটথেকে উঠে পড়লাম। চারজনে মিলে মূল মন্দির পরিসরের মধ্যে যতগুলো ছোট ছোট মন্দির আছে সেগুলো ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম।
আমরা যেখানে বসে আছি তার ঠিক মুখোমুখি রয়েছেন “একাদশ রুদ্র”। এই একাদশ রুদ্র হল
“অজা, একপাদ, অহির্বুধ্ন্য, ত্বষ্টা, রুদ্র, হর, শম্ভু, ত্রয়ম্বক, অপরাজিতা, ঈশান এবং ত্রিভূবন “-
শিবের এই এগারোটি রূপ। এখানে একটি বড় শিবলিঙ্গের গৌরীপট্টের উপর ছোট আকারের এগারোটি শিবলিঙ্গ রয়েছে। পাশেই রয়েছে জানকীনাথ রামচন্দ্র এবং মুরলীমনোহর শ্রীকৃষ্ণের মন্দির। ডানদিকে কুন্ডের মধ্যে স্বয়ং নর্মদা অধিষ্ঠিত রয়েছেন। সামনেই সাদা ধবধবে নর্মদা মন্দিরে ভক্ত সমাগমে সরগরম হয়ে উঠেছে।
মূল মন্দিরের বাইরে যেখানে ওই ছোট ছোট দুটো হাতির স্ট্যাচু রয়েছে সেখানে বেশ ভিড় দেখে আমরাও এগিয়ে গেলাম। অবাক হয়ে দেখলাম লোকজন ওই ছোট হাতিটার ফোকরে মাথা ঢুকিয়ে দিয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ছে আর একটু একটু করে এগিয়ে বড় হাতির পায়ের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসছে।
মার্বেলের মেঝেতে শুয়ে পড়ার এমন খেলা মন্দ নয়। আমরাও এই খেলায় অংশগ্রহণ করতে চাই।
ক্রমশ…