গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৭)

নর্মদার পথে পথে
অবশেষে মহারাজ যখন গুরুনাম স্মরণ করলেন তখন গিয়ে দেখি মূল মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। আজ নর্মদা মায়ের দর্শন হলনা ভেবেই মনটা খারাপ হয়ে গেল। সেই রাতের আধো আধো আলোআঁধারে শ্বেতশুভ্র নর্মদা মন্দিরের বাইরে থেকেই প্রণাম করলাম।
নর্মদাকুন্ড আর মূল মন্দিরের মাঝে বেশ অনেকটা জায়গা মার্বেল বসানো। পরিষ্কার ঝকঝকে পাথরের ওপর বসানো রয়েছে কালো পাথরের তৈরি দুটো হাতি। দুটোই ছোট তবে একটার থেকে আরেকটা আরো ছোট। এর উল্টো দিকেই খোলা চাতালের ওপর রয়েছে একটি বিশাল শিবলিঙ্গ। ছোটবড় অনেকগুলো ঘন্টা বাঁধা আছে এখানে।
সামনেই কুন্ডের জলের মধ্যে রয়েছে
নর্মদামায়ের কষ্টিপাথরের মূর্তি। তার সামনেই রয়েছে একটি ছোট শিবলিঙ্গ। এই শিবলিঙ্গটি থেকে অনবরত টুপটুপ করে জল পড়ছে কুন্ডে। তবে এই জল কোথা থেকে আসছে দেখা যাচ্ছেনা।
নর্মদামূর্তির লাগোয়া একটি শিবমন্দির রয়েছে। সেটা তখনও খোলা ছিল। আমরা চারজনে সেখানে গিয়ে হাজির হলাম। একটা বালতিতে জল রাখা রয়েছে আর একটা তামার ঘটিও রয়েছে দেখে আমরা একে একে ঘটিতে করে জল নিয়ে শিবের মাথায় জল ঢেলে প্রনাম করে ফিরে এলাম ধর্মশালায়। পরদিন বিকেলেই আমাদের ওঙ্কারেশ্বরের ট্রেন ধরতে হবে। তাই রাতেই আমরা ঠিক করলাম যে ভোরে রুম থেকে স্নান সেরে মন্দিরে যাব। ওখানে নর্মদাকুন্ডে ঘি’য়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাসানো হয় আর কুন্ডের পাড়ে বসে নিজের ইচ্ছামতো পূজাপাঠ করা যায়। আমরা কিছুটা সময় মন্দিরেই থাকবো।
পরদিন সকালে যথাসময়ে মন্দিরে পৌঁছে গেলাম। প্রথমেই মূল মন্দিরের দেবতা দর্শনের লাইন দিতে হল। মন্দিরের ভিতরে মুখোমুখি দুটি বিগ্রহ রয়েছে। প্রবেশ পথের ডানদিকে কালো কষ্টিপাথরের নর্মদাবিগ্রহ আর বামদিকে শিবসুন্দরের অবস্থান। মূল মন্দির পরিসরে যাতায়াতের পথ সংকীর্ণ হওয়ার ফলে দাঁড়িয়ে থেকে দর্শন করার অসুবিধা রয়েছে। ঢোকার মুখে দুইদিকে তাকিয়ে চলতে চলতেই পিতাপুত্রীর দর্শন করে পূজা দিলাম। পূজারিজী হাতেকরে প্রসাদ দিলেন। দাঁড়ানোর কোনো উপায় নেই বলে বাইরে বেরিয়ে এলাম। এবার আমরা গেলাম নর্মদাকুন্ডে। সেখানে পাতার তৈরি ছোট ছোট বাটিতে করে ঘি’য়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে দিলাম। কুন্ড প্রদক্ষিণকরে পাড়ে স্থাপিত শিবলিঙ্গে প্রাণভরে জল ঢাললাম। অনেক সাধুমহারাজ পাড়ের এই শিবলিঙ্গে জল ঢেলে নর্মদাস্তব পাঠ করছেন। এমন মন্ত্রসিদ্ধ
সকালের মনোরম পরিবেশে মনের মধ্যে কোন সুদূরের অনুভূতি জেগে উঠছে। ধূপের সুগন্ধ বয়ে আনা বাতাসে চুপচাপ বসে থাকাতেই শান্তি।
ক্রমশঃ…