প্রবাসী মেলবন্ধনে সায়েদুর রহমান ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া

অভিমান
অভিমান বুকের মধ্যিখানে জেগে রয়
অভিমান বেঁচে থাকে নিঃসঙ্গতায় আর একাকীত্বে
অভিমান ক্রমশ বাড়তে থাকে-
তুমিহীনা এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকায়।
অভিমান কোন শব্দ নয়
অভিমান মানুষের অব্যর্থ যন্ত্রনার প্রবল অনুভূতি
অভিমানের কোন রং নেই
তবু রক্তলাল বর্ণের প্রতি আছে তার প্রগাঢ় আসক্তি।
অভিমান খরস্রোতা নদীর মত
অভিমান কখনো কালবৈশাখীর ঝড়
অভিমান চিতার জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড
অভিমান হিমালয়ের গায়ে জমে থাকা কঠিন বরফখণ্ড।
অভিমান শীতের শহরে দুপুরের একমুঠো মিষ্টি রোদ
অভিমান দূর প্রবাসে বেঁচে তাকা মানুষের অনিরাময় যোগ্য রোগ
অভিমান ঘাঁসের বুকে জমে থাকা ক্ষুদ্র শিশির বিন্দু
অভিমান তোমার স্পর্শে গলে যাওয়া জমাটবদ্ধ পাথরখণ্ড।
প্রপঞ্চক
ভালোবাসা নয়
ছলনার চাষ করে কেউ
ফুল নয়
ছুরির আঘাতে ক্ষত করে কেউ এ দেহ।
কেউ দুর্দান্ত প্রতিভায় সাজায় প্রতারনার মঞ্চ
কেউ অভিনেতা হয়
আহা্ তুমি নাদান বালক
কার ইশারায়, কার বুকে ছুঁড়ি মারো
কার পাঁজরে রাখো তুমি নষ্ট পাখির পালক?
কেউ মিত্রতার কথা বলে
কেউ হতে চায় সহযোগী, সহযাত্রী
কেউ হাত বাড়ায়
কেউ আচমকা মাঝ পথে হাত ছেড়ে দেয়
কেউ করে জীবনে অযথাই ঘৃণার লেনদেন।
কেউ কেউ বৃষ্টিমূখর দিনে
পাড়ার মোড়ে ছাতা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে
কেউ এমন দিনে টেলিফোন করে-
ভুনাখিচুরী আর গরম গরম ইলিশ মাছ ভাজার কথা বলে
কারো বুকে প্রেম জেগে রয়
কারো বুকে জেগে রয় নষ্ট প্রেমের কষ্টের রেশ।
কেউ নষ্ট প্রেমিক হয়
কেউ কারো জন্য হেঁটে যায় বিপদসঙ্কুল পথ
কেউ ভালোবাসার কথা বলে
কেউ ভালোবাসার বদলে প্রতারনায় আছে বেশ।
কারো কবিতার খাতা টেবিলেই খোলা পড়ে থাকে
কেউ জলরঙে আঁকে বিধাতা তোমার কেশ
কেউ গান গায়
কেউ গান বেচে
কেউ প্রপঞ্চক হয়ে বাঁচে নিরুদ্দেশ।