প্রবন্ধে তমোঘ্ন বন্দোপাধ্যায়

*সত্যিই কি তবে বই পড়া উঠে যাচ্ছে ?*

একজন ছাত্র যে কিনা সবে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছে মাত্র। ছাত্র হিসেবেও বেশ ভালো। পরিবার ও বন্ধু মহলে ‘মেধাবী’ হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে। কিন্তু পাঠ্য বইয়ের বাইরে এখনো পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো কোন বই পড়েননি সে। আরও বিস্ময় করার মতো বিষয় হল, পাঠ্য বইয়ের বাইরে যে পড়ার অনেক বড় একটি জগত রয়েছে- তাই জানেন না তিনি। শুধু সে নয়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা শেষ করেছেন এই রকম বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেও জানা যায় বই না পড়ার অভ্যেস সম্পর্কে। এই রকম ৮ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এদের কেউই গত ২ মাসে কোন বই পড়েননি। অবশ্য করোনার সংক্রমণের শুরুর দিকে এদের দু’একজন কয়েকটা বই পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তাহলে কি এমন আশংকা করাই যায় যে, বই পড়া উঠে যাচ্ছে। এটা নিয়ে হয়তো গবেষণা করা যেতে পারে। কিন্তু চলুন জেনে আসি বর্তমান প্রজন্মের বই পড়ার কিছু প্রবণতা সম্পর্কে।
প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় বই মেলা। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বইয়ের বিক্রিও। কিন্তু বই কেনা আর পড়ার মধ্যে দূরত্ব কেবল বাড়ছে। বেশ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, তারা প্রতি বছর বই মেলায় যান। বইও কিনেন। তবে খুব একটা পড়ে দেখা হয় না। বন্ধু বান্ধব কিংবা পরিচিতজনদের বই উপহার দিতেও মেলায় যান তারা। মেলায় যাওয়াটাকে একটা ফ্যাশন হিসেবেই উল্লেখ করছেন এদের কয়েকজন। সেইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনা করে বাড়িতে একটা বইয়ের সেলফ না থাকাকে লজ্জাজনকভাবেই দেখছেন তারা। তাই বই কিনে সেলফে সাজিয়ে রাখার কথা জানান।
বই না পড়তে পারলেও বইয়ের রিভিউ পড়েন বলে জানান বেশ কয়েকজন। রিভিউ পড়া নিয়ে একজন শিক্ষার্থী জানান, এতো বড় বড় বই পড়তে আগ্রহ পাই না। তাই মাঝে মধ্যে রিভিউ পড়ি। সেইসাথে বইয়ের কিছু উক্তিও পড়ে নেন বলে জানান একজন। এই ধরণের শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করা হয়েছিলো ই-বুক নিয়ে। অনলাইনে ই-বুক পড়েন কি না- এমন প্রশ্ন করেছিলেন এই প্রতিবেদক। উত্তরে বেশ কয়েকজন জানান, প্রথম প্রথম কিছু পড়েছি। কিন্তু এখন আর পড়া হয় না।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বই না পড়ে সিনেমা দেখার কথা বলেন। তাদের মতে, বই পড়তে অনেক সময় লাগে। এই বয়সে এতো সময় পড়াশোনা করতে বিরক্তি লাগে। তাই বই না পড়ে উপন্যাসের উপর নির্মিত সিনেমা দেখেন বলে উল্লেখ করেন তারা। এসবের বাইরেও আরেক শ্রেণির পাঠক পাওয়া গেছে। যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞানী করে তুলতে গুগলে সার্চ করে নিয়মিত বিভিন্ন লেখকদের উক্তি পড়েন।
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সভ্যতা। সেইসাথে এগিয়ে যাচ্ছে জ্ঞান বিজ্ঞান।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।