T3 || স্মরণে শহীদ || বিশেষ সংখ্যায় স্মরজিৎ দত্ত

ঘুমায় রবে কি বাঙালি
আজই সেই দিন,
বরাক উপত্যকায় কেবলই,
কেবলই মাতৃভাষার স্বীকৃতির প্রতিবাদে
সেদিন করেছিল ওরা জমায়েত;
আজ সেই ১৯ই মে।
ওদের দাবি ছিল না মায়না বাড়াবার,
ওদের দাবি ছিল না চাকরির অধিকার,
কেবল ওদের দাবি ছিল
দাবি ছিল নিজের মাতৃভাষার-
মাতৃভাষার স্বীকৃতির লড়াই।
তবুও সেদিন ওরা হয়েছিল
হয়েছিল আসাম সরকারের চোখে,
হয়েছিল আন্টি সোশ্যাল।
পুলিশের সেদিন কাঁপেনি হাত
দ্বিধা হয়নি ওই দোনালা থেকে
ছুঁড়তে গরম লোহার বুলেট।
ওরা তেমন ছিল না বয়স্ক
যুবক তাও বলতে হয় দ্বিধা।
সেদিন ওদের মধ্যে ছিল যারা
তারা অনেকেই ছিল কিশোর,
ছিল কিশোর, কিশোরীরা।
নির্দ্বিধায় সেদিন অসম পুলিশ
চালিয়েছিল তাদের বুলেট খানি,
প্রতিবাদীর ঝড় তুলতে ওরা সক্ষম হয়নি।
দুঃখ, সেদিন ছিল না তথাকথিত
তথাকথিত আজকের বুদ্ধিজীবী।
ইতিহাসের বইয়ের পাতায়
বইয়ের পাতায় এদিনের ঘটনা
ওঠেনি কোনদিন।
এ বাংলা কি ওপার-বাংলা,
যারা তথাকথিত বুদ্ধিজীবী,
তাদের বুদ্ধির খাতায় কখনো
কখনো সেই খাতায় দাগ কাটেনি ।
সকলের অলক্ষে সেদিন দিয়েছিল প্রাণ
নাবালক থেকে কিশোর
কিশর থেকে যুবা;
কিংবা কিশোরী থেকে যুবতী।
ওদের স্বপ্ন ছিল হয়তোবা অনেক
রঙিন স্বপ্নের ডানা মেলে,
ভাবনাকে করতে পারিনি বিস্তৃত।
তবুও আবেগ ওদেরকে করেছিল ব্যথিত ;
তাই সেদিনের কমলা ভট্টাচার্য,
বা কানাইলাল নিয়োগী,
অথবা তরুণী চন্দ্র দেবনাথ,
কিংবা শচীন্দ্র পাল এমনই
এমনই অনেক আমাদের বঙ্গ সন্তান।
বাঙালি প্রতিবাদী,
বাঙালি ভাবুক।
বাঙালি প্রতিরোধী,
প্রার্থনা, তবু বাঙালি জাগুক।