গদ্যানুশীলনে দেবাশিস সরখেল

বই

প্রথমটায় লুকিয়ে চুরিয়ে ,তারপর ক্রমশ প্রকাশিত ।স্বদেশ ,অনুক্ষণ ,কলকল্লোল প্রভৃতি পত্রিকার পাতায় কবিতা কল্লোলিত ।
এই ঘোড়ারোগ স্থায়ী হয়ে গেলে যা হয় তাই ,ক্রমে টিউশনির টাকায় সে নিজের কবিতার বই প্রকাশ করে ফেলল ।
3 – ইন ওয়ান ।নিজেই কবি , প্রকাশক ও বিক্রেতা ।
অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সে পত্রিকার সম্পাদক । তার পত্রিকায় নানা সম্পাদকের কথা কবিতা থাকে ,তবে উঠতি প্রতিভাবানদের সে জায়গা দেয় ।
প্রকাশিত গ্রন্থসম্ভার নিয়ে সে বইমেলা , লিটিল ম্যাগাজিন মেলা সর্বত্রই ছুটতে থাকে । বাণিজ্য সম্ভাবনাহীন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ।
কবি প্রতীক ক্রমশ দেখে কবিরাই কবিতার লেখক ও পাঠক , অবশ্য ইদানিং সবাই লোক্গবেষক । তাদের বইপত্রের বিক্রিবাটাও ভালো ।
এ ওর বই , সে তার বই থেকে টোকে । আবার ইনফরমেশন এর জন্য কিছু সাধারণ পাঠক আছেন , তারাও ক্রয় করেন । কবিতা বা গল্পে সরাসরি টোকার সুযোগ কম ।
অবস্থা এমন দাঁড়ালো জেলা বইমেলাতেই জেলা স্টলের সংখ্যা১০ । সবাই প্রকাশক ,সবাই লোক্ গবেষক ।
প্রতীক পড়ল অস্তিত্ব সংকটে । লিটল ম্যাগাজিনের লোক হিসেবে সে প্রথম বইমেলায় বিনামূল্যে স্টল পেতো ,বিক্রি ছিল সন্তোষজনক। এবার তার সব আশা — ভরসা মাঠে মারা গেল।
বুক স্টলে যাতায়াত প্রায় নেই ,সেখানে ফুড প্লাজায় ভিড উপচে পড়ছে ।
কবি অভিজিৎ এবার বিরিয়ানির দোকান দিয়েছে ।প্রতীককে ডেকে দুদিন খাইয়েছে ।
প্রতীকের প্রশ্নের উত্তরে এসে বলেছে ,অবস্থা দেখে ব্যবস্থা ।
ক্লান্ত বিধ্বস্ত প্রতীক গ্রন্থমেলার শেষে শহরের মোড়ে বইয়ের বোঝা নিয়ে দাঁড়িয়ে।
প্রতীক হাসিমুখে চারচাকা নিয়ে দাঁড়ালো।অভিজিৎ পিছনের সিটে বসে। বলে ,এক লাখ ইনভেস্ট করে১ লাখ ২৫ লাভ ।কবিতাকে গুডবাই করে দিলাম।এবারথেকে ফি বছর বিরিয়ানির দোকান দেব ।
—–এখন আর বাস টাস অটো টোটো কিছুই পাবে না । উঠে পড়ো দাদাভাই ।
প্রতীক প্রশ্ন করে –আমার বইগুলো ?
অভিজিৎ হাসতে হাসতে বলে ,ওই সব বস্তু ভূতেও ছোঁবেনা । ঝুপড়ি-টুবরি দেখে রেখে এসো ।
না , চার চাকায় গেল না প্রতীক। ঝিরঝিরে বৃষ্টি মাথায় বই আগলে , বসে থাকলো ।কখন বাড়ি ফিরতে পারবে ,সে জানে না ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।