T3 || কবিতা দিবস || বিশেষ সংখ্যায় ডরোথী দাশ বিশ্বাস

কবিতা না হোক

বেশ বড়সড় একটা টিনের বাক্স
বলতে গেলে সে সাথে করেই এনেছিলো। জোরজবরদস্তি সময় বের করে দু’বছর চার মাস বাদে খুলতে পারলাম।

চিরুণী, ফেয়ার অ্যাণ্ড লাভলি, নোকিয়া ১২৮০ ফোনের লিটারেচার, আগাগোড়া কালির আঁচড় কাটা পিওনবুক, দুটো জং পড়া সেফটিপিন, ভাঁজ না ভাঙা শাড়ি, ব্লাউজ, নাইটি, পেটিকোট, ব্যাগ, গরম চাদর, কার্ডিগান, কম্বল, সাইডব্যাগ—
আর ছিলো স্মরণ দাশগুপ্তের প্রেসক্রিপশন— ২০১৬ থেকে ২০১৮ এর ফেব্রুয়ারি— সবুজ ব্লাউজ ও স্নিগ্ধ হলুদ লক্ষ্নৌ চিকনের শাড়ি পরা একটা পাসপোর্ট সাইজ ছবি—।

তার বড় ভাগ্নে বড় কবি। তার লেখা নির্বাচিত কবিতার বই— সেটাও বড় যত্নে রাখা। যোগীন্দ্রনাথ সরকারের কবিতার বই— আজও অক্ষত।

ছোট্ট একটা নাইলনের ব্যাগে যত্ন করে রাখা ওটা কি?

ও যে একটা কাঠের ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখা পেপারকাটিং!

শিক্ষিকাসুলভ তার ছবি—, হেডিং—“ব্যতিক্রমী বাঁচা”

বার্ধক্যের শীর্ষে পৌঁছে মানুষও চলে যায়— কবিতার মত পেলব সৌন্দর্যও ছেড়ে চলে যায় জীবন থেকে। একটা আরামকেদারা হয়ে ওঠে তার পৃথিবী।

সারাদিন আলো-আঁধারি ঝিম ঝিম, নিজের মধ্যে ডুবে থাকা,
চোখের কোণে জমাট বাঁধে অশ্রু,
প্রত্যাশিত কণ্ঠস্বরে ঘোলাটে দৃষ্টির ঘোরাফেরা,
শ্বাসের গতি বড্ড ক্ষীণ।
চুলের রঙ সাদা না কালো— এসব ভাবনা ভাবায় না আর।

পয়লা চৈত্র— সকাল থেকে ঘুঘুর ডাক, স্তব্ধ দুপুরেও একটানা ডেকে চলেছে—
আমার তো কবিতা মনে হয়।
বার্ধক্যের কোনো হেলদোল নেই। অনন্তকাল কেটে যায় কেদারায় বসে,
মনে মনে জর্দা নদীর পার ধরে শৈশব খেলা করে, রাক্ষুসে নদী, প্রতি বর্ষায় তার মানুষ চাই। এপিলেপ্সীর কবলে পড়ে পানসি নিয়ে ভেসে পড়া আর হলো না এ জনমে। জীবনভর দুঃখসাগরে সাঁতার কাটায় আফশোস নেই আর।

ময়নামাপাড়ার মাটির বাড়িটা মায়ের স্মৃতিঘেরা।
নতুনবাজার থেকে বাবা আনতো শশা লাউ চালকুমড়ো নটেশাক।

তোর মনে এখন কোন্ ছবি ভাসছে? ঐ মাটির বাড়ি ঘিরে ফলসা বনের ছবি? মেঘ ঘনালে সেখানে ময়ূর এসে নাচ দেখিয়ে যেত? ফেলে যেতো একখানা পালক? শুনেছি বজ্রপাতের শব্দে তোর ভীষণ ভয়। তাই বুঝি শিখিপাখার লেখনী কবিতা না লিখে জীবনভর গদ্যই রচনা করেছে? কবিতা না হোক, দু’হাত ভরে শূন্য পেলে মনে করো সমগ্র বিশ্ব তোমার হাতে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

1 Response

  1. Sayantan Dhar says:

    অসাধারণ লেখনী 👌🏼👌🏼👌🏼 স্যালুট কাব্যের নায়িকা ও লেখিকাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।